গুগল কি?
গুগল হলো বিশ্বের জনপ্রিয়তম সার্চ ইঞ্জিন, যা ইন্টারনেটের বিশাল তথ্যভাণ্ডার থেকে আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে দেয়। ১৫-২০ বছর আগে ইন্টারনেট থাকলেও তথ্য খোঁজার পদ্ধতি আজকের মতো এত সহজ ও উন্নত ছিল না।
সেই সময়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানতে হলে সরাসরি ওয়েবসাইটের নাম বা অ্যাড্রেস জানা লাগত। তখন আজকের মতো উন্নত সার্চ অ্যালগরিদম ছিল না, তাই বইয়ের পাতা উল্টে খোঁজার মতোই প্রতিটি ওয়েবসাইট ঘেঁটে তথ্য বের করতে হতো।
একবার ভাবুন, কোনো সামান্য তথ্য জানার জন্য যদি আপনাকে শত শত ওয়েবসাইটের প্রতিটি পোস্ট আলাদাভাবে যাচাই করতে হতো, তবে তা কতটা কঠিন হতো! এই পরিস্থিতিকে আক্ষরিক অর্থেই খড়ের গাদায় সুই খোঁজার সাথে তুলনা করা যায়।
গুগল আমাদের সেই কঠিন জীবনকে অবিশ্বাস্যভাবে সহজ করে দিয়েছে। এখন হাতে স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট কানেকশন থাকলেই হলো। মনে কোনো প্রশ্ন জাগামাত্রই গুগলে সার্চ করে নিমিষেই কাঙ্ক্ষিত উত্তর বা সমাধান জেনে নেওয়া সম্ভব।
গুগল সার্চ ইঞ্জিনের অন্যতম বিশেষত্ব হলো এর নির্ভুল সাজেশন্স। কোনো বিষয়ে ১০ জন মানুষের কাছে জিজ্ঞাসা করে যে তথ্য বা পরামর্শ পেতেন, গুগল তার চেয়েও অনেক বেশি সঠিক এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য মুহূর্তেই আপনার সামনে তুলে ধরে।
ব্যবসায়িক জগতেও গুগল আমূল পরিবর্তন এনেছে। বর্তমান ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবস্থা অনেকটাই গুগলকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। কারণ, কোনো পণ্য কেনার আগে ক্রেতারা এখন সবার আগে গুগলে সার্চ করে সেই পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেন।
গুগল কি?
গুগল হচ্ছে একটি আমেরিকান মাল্টিন্যাশনাল পাবলিক কোম্পানি যেটি ইন্টারনেট সার্চ, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং অনলাইন বিজ্ঞাপন সিস্টেমের ব্যবসা করে। শুরুর দিকে গুগল শুধুমাত্র সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু কালক্রমে গুগল একটি বহু জাতিক ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানি হিসেবে নিজের আত্মপ্রকাশ করে।
বর্তমান সময়ে বিশ্বের বৃহত্তম ও তুমুল জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন হচ্ছে গুগল। আপনি যদি গুগল সার্চ ইঞ্জিনে কোন কিছু লিখে সার্চ করেন তাহলে অবশ্যই সেটা পেয়ে যাবেন। আমরা সার্চ করে খুব সহজে তথ্য পেয়ে যাই কিন্তু কিভাবে এত নির্ভূল ও বেটার তথ্য গুগল আমাদের শো করে সেটা আমরা কখনো চিন্তা করে দেখি না। কিন্তু গুগল আমাদেরকে তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে অনেক ধরনের প্রোগ্রামিং টেকনোলজি ব্যবহার করে।
গুগল সার্চ ইঞ্জিন ছাড়াও গুগলে আরো অনেক ধরনের সার্ভিস রয়েছে। বিশেষকরে গুগলের অন্যান্য সার্ভিসের মধ্যে YouTube হচ্ছে অন্যতম। তাছাড়া ক্লাউড কম্পিউটিং হিসেবে Google Drive হচ্ছে গুগলের অন্যতম একটি সার্ভিস। এছাড়াও Google Play Store, Google Chrome, Android Operating System সহ আরও অনেকগুলো গুগলের নিজেস্ব সার্ভিস রয়েছে।
২০১৬ সালে গুগল মোবাইল বিজনেসে পা রাখে। যার ফলে তারা ২০১৬ সালে Google Pixel নামে একটি মোবাইল লঞ্চ করে যেটি বর্তমানে খুব জনপ্রিয় একটি মোবাইল হিসেবে গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছে। এ ধরনের অনেক ডিজিটাল প্রোডাক্ট সহ বর্তমানে প্রায় শতাধিক ইন্টারনেট ভিত্তিক সার্ভিস গুগলের রয়েছে।
আপনি যদি গুগল এর বাৎসরিক ইনকামের অঙ্ক জানেন তাহলে রিতিমত অবাক হবেন। গুগল এর সর্বশেষ হিসাব অনুসারে তারা প্রতিদিন গড়ে ১০০ মিলিয়নের বেশি ইউএসড ডলার ইনকাম করে। আপনি এই সংখ্যা বাংলা টাকায় কনভার্ট করলে দাড়াবে ৮ শত কোটি ৯২ লক্ষ টাকার বেশি। সেই হিসেবে বাৎসরিক ইনকামের ফিগারটা আপনি নিজেই হিসেবে করে বের করে দেখুন কি পরিমান বড় অংকের হবে?
গুগল এর পূর্ণরূপ কি?
গুগল (Google)-এর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পূর্ণরূপ নেই। এটি মূলত গাণিতিক শব্দ 'Googol' (১ এর পরে ১০০টি শূন্য) থেকে এসেছে। তবে, ইন্টারনেটে প্রচলিত একটি কাল্পনিক পূর্ণরূপ হলো— Global Organization of Oriented Group Language of Earth. এটি মূলত একটি সার্চ ইঞ্জিন কোম্পানি, যা ১৯৯৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়।
কিভাবে গুগল নামকরণ করা হয়?
এডওয়ার্ড ক্যাসনার এবং জেমস নিউম্যানের গণিত ও কল্পনা বইয়ের Googol শব্দ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ল্যারি পেজ এবং সের্গেই ব্রায়ান তাদের সার্চ ইঞ্জিনের নাম বেছে নিয়েছিলেন Google হিসেবে। গুগল মানে ১ এর পিছনে ১০০ টি শূণ্য। যার জন্য গুগল সার্চ ইঞ্জিনে গুগল নামের পাশে অনেকগুলো শূণ্য শো হয়।
Google কে আবিষ্কার করেন?
ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সের্গেই ব্রিন এবং ল্যারি পেজ নামক দুই জন শিক্ষার্থী মিলে ১৯৯৫ সালে সর্বপ্রথম গুগল সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করেন। সেই হিসেবে সের্গেই ব্রিন এবং ল্যারি পেজ-কে গুগল এর প্রতিষ্ঠাতা বা গুগল এর আবিষ্কার বলা হয়।
গুগল এর জনক কে?
গুগল এর জনক হলেন “ল্যারি পেজ” এবং “সার্জি ব্রিন”। সর্বপ্রথম তারা ভার্সিটিতে পড়ার সময় গুগল নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করেছিল। বর্তমানে এটি বিশ্বের বৃহত্তম একটি কোম্পানি হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত।
গুগল প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
১৯৯৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মাসে আমেরিকার ক্যালিফর্নিয়ার শহরের মেনলো পার্কে গুগল প্রতিষ্ঠিত হয়। ”গুগল প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে” লিখে গুগলে সার্চ করলে গুগল নিজেই বলে দেয় যে, গুগল ১৯৯৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। নিচের চিত্রে দেখুন—
গুগল এর সিইও কে?
গুগলের বর্তমান সিইও হলেন “সুন্দর পিচাই” যিনি একজন ভারতীয় বংশোদূত। এটা ভারত সহ পুরো এশিয়া মহাদেশের গর্ব যে, একজন ভারতীয় নাগরিক হলেন বিশ্ববিখ্যাত ইন্টারনেট সংস্থা গুগলের সিইও। আপনি জেনে কিছুটা অবাক হবেন যে গুগললের সিইও সুন্দর পিচাই প্রতি বছর ১৩ শত কোটি টাকা বেতন পান।
গুগল কোন দেশের সংস্থা?
এই প্রশ্নটি প্রায়শই মানুষের মনে আসে। গুগল ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত একটি মার্কিন সংস্থা। একই সাথে গুগলের শাখাগুলো বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে রয়েছে। বিশেষকরে আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতেও গুগলের শাখা অফিস রয়েছে। তাছাড়া গুগল সিঙ্গাপুর থেকে এশিয়া মহাদেশের সকল কাজ পরিচালনা করে। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ গুগলের অফিস হবে বলে আমরা আশা করছি।
গুগলের প্রতিষ্ঠাদের কার শেয়ার বেশি?
গুগলের প্রতিষ্ঠাদের মধ্যে অনেকের বিভিন্ন অংকের শেয়ার রয়েছে। কিন্তু সকলের শেয়ারের অংশ আমাদের পক্ষে আপনাকে জানানো সম্ভব হবে না। সেই জন্য বিশেষ তিন জন ব্যক্তির শেয়ারের তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
- Larry Page – 27.4%
- Sergey Brin – 26.9%
- Eric Schmidt – 5.5%
গুগল বাংলা কি?
গুগল বাংলা হল গুগলের একটি বাংলা সংস্করণ। শুধুমাত্র বাংলা ভাষাভাষিদেরকে বাংলা ইনফরমেশন দেওয়ার জন্য গুগল বাংলা চালু করে। বাংলায় সার্চ করার জন্য Google.com.bd নামে একটি ডোমেইন রেখেছে। সাধারণত আমরা যখন বাংলা ভাষায় কোন কিছু সার্চ করে গুগল তখন গুগল বাংলা থেকে ফলাফল দেখায়। তাছাড়া প্রায় প্রতিটি দেশের জন্য গুগলের আলাদা আলাদা সার্চ ইঞ্জিন রয়েছে।
গুগল এর ইতিহাস
আজকের দিনে গুগল একটি বিলিয়-ট্রিলিয়নার মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত। গুগল এর জনপ্রিয়তার কারণে Google শব্দটি বিশ্ববিখ্যাত Oxford Dictionary তে স্থান করে নিয়েছে। গুগল শব্দটি অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে একটি Verb হিসেবে অখ্যায়িত করা হয়েছে।
১৯৯৬ সালে সের্গেই ব্রিন এবং ল্যারি পেজ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে PHD করছিলেন তখন তারা তাদের গুগল সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে অন্যান্য ওয়েবসাইটের তুলনায় ভিন্ন কিছু করার চিন্তা ভাবনা করেন। সেই চিন্তা ভাবনা থেকে তারা র্যাংকিং বিষয়টি নিয়ে আসে। তারা মনে করে অন্য ওয়েবসাইটের ডেটা কালেকশন করে তারা যদি বিশ্বের সকল ওয়েবসাইটের কনটেন্ট অনুসারে র্যাংক করে মানুষকে তথ্য দিতে পারে তাহলে ইন্টারনেটে তথ্য খোঁজে পাওয়া সহজ হবে এবং তাদের ওয়েবসাইট অন্যান্য ওয়েবসাইটের তুলনায় জনপ্রিয় হবে।
সেই চিন্তা ভাবনা থেকে তারা বিশ্বের সকল ওয়েবসাইটের তথ্য কালেক্ট করার সফটওয়্যার আবিষ্কার করে তাদের সার্চ ইঞ্জিনের সাথে যুক্ত করে। এখানে উল্লেখ্য যে, ১৯৯৫ বা ১৯৯৬ সালে বর্তমান সময়ের মত খুব বেশি পরিমানে ব্লগ এবং ওয়েবসাইট ছিল না। যার জন্য তাদের দুজনের পক্ষে অন্যান্য ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহন করা খুব কষ্টসাধ্য ছিল না। আর বর্তামানে গুগল যে পদ্ধতিতে তথ্য কালেক্ট করে সেটা সের্গেই ব্রিন এবং ল্যারি পেজ পদ্ধতির একটি অংশ।
১৯৯৭ সালে গুগল তাদের নাম "Googol" থেকে পরিবর্তন করে "Google" নামকরণ করে। বাস্তবিক অর্থে "Google" নামে কোন শব্দ নেই এবং গুগল শব্দের নির্ধারিত বা সুনির্দিষ্ট কোন অর্থ নেই। সেই জন্য গুগল তাদের নামের অর্থ হিসেবে বলে ১ এর পিছনে ১০০ টি শূণ্য। আসলে এটাকে বিশ্লেণ করলে সুনির্দিষ্ট বা অর্থবহুল কোন কিছু পাওয়া যায় না।
১৯৯৮ সালে গুগল সর্বপ্রথম তাদের হোম পেজে Doodle যুক্ত করে। কিন্তু বর্তমানে গুগলের প্রায় ২০০০ এর বেশি Google Doodle রয়েছে। শুধুমাত্র বিভিন্ন ডিজাইনের Google Doodle তৈরি করার জন্য গুগল Doodle নামে তাদের একটি আলাদা ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। সেই ডিপার্টমেন্ট শুধুমাত্র পুরো বিশ্বের Google Doodle নিয়ে কাজ করে। যার কারনে আমরা বিভিন্ন সময় গুগলের হোমপেজে বিভিন্ন ধরনের Doodle দেখতে পাই।
২০০০ সালে গুগল AdWords চালু করে। এখন গুগল এডওয়ার্ড হচ্ছে বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় একটি বিজ্ঞাপনি সংস্থা। গুগল এডওয়ার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দাতা কোম্পানিগুলো তাদের বিজ্ঞান টাকার বিনিময়ে গুগলের কাছে জমা দেয়। গুগল সেগুলো Text, Image ও Video আকারে বিশ্বের সকল ওয়েবসাইট, ব্লগ ও ইউটিউব ভিডিওতে শো করে।
২০০৪ সালে গুগল তাদের ইমেইল সার্ভিস হিসেবে Gmail লঞ্চ করে। সেই সময় জিমেইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব অল্প পরিমানে সুবিধা দেওয়া হত। কিন্তু বর্তমানে অনলাইন প্লটফর্মে যত মেইল সার্ভিস রয়েছে তাদের মধ্যে জিমেইল সবচাইতে বেশি সুবিদা দিচ্ছে। যার জন্য এখন ইমেইল আদান প্রদানের ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ Gmail ব্যবহার করে।
২০০৫ সালে Google Map নির্মাতা কোম্পানি কিহোল এর নিকট থেকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে গুগল ম্যাপ কিনে নেয়। বর্তমানে গুগল ম্যাপ প্রচুর পরিমানে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখনকার গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে 360 ডিগ্রি এ্যাংগেলে যে কোন স্থানের চারপাশ দেখা যায়।
২০০৬ সালে বর্তমান জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট YouTube বিশাল এমাউন্টের বিনিময়ে গুগল কিনে নিয়েছিল। বর্তমানে ইউটিউব গুগল এর পর সবচাইতে বহুল ব্যবহৃত সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে স্বিকৃতি পেয়েছে। তাছাড়া ভিডিও শেয়ারিং সাইট হচ্ছে ইউটিউব হচ্ছে বিশ্বের সবচাইতে জনপ্রিয় প্লাটফর্ম। বর্তমানে প্রতি মিনিটে প্রায় ৬০ ঘন্টারও বেশি সময়ের ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে।
২০০৭ সালে মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েডকে গুগল ক্রয় করে। যেখানে মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমের প্রায় ৯০ শতাংশ মার্কেট গুগল এন্ড্রয়েড দখল করে নিয়েছে। তাছাড়া একমাত্র এন্ড্রয়েড হচ্ছে বিশ্বের সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম।
২০০৮ সালে গুগল অফিসিয়ালিভাবে তাদের নিজেস্ব ইন্টারনেট ব্রাউজার সফটওয়্যার লঞ্চ করে। Google Chrome ব্রাউজার হচ্ছে বর্তমান সময়ের সবচাইতে জনপ্রিয় ইন্টারনেট ব্রাউজার সফটওয়্যার। গুগল ক্রোম বর্তমান মার্কেটের প্রায় ৬৫% এর বেশি জায়গা একাই দখল করে নিয়েছে।
২০১১ সালে ল্যারি পেজ গুগলের নতুন সিইও হিসেবে নিযুক্ত হন। বর্তমানে তিনি গুগল Alphabet এর প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা। তাছাড়া ২০১১ সালে গুগল তাদের সোশ্যাল মিডিয়া Google+ চালু করে। কিন্তু Google+ ব্যবসা সফল হতে না পারায় ২০১৯ সালে বন্ধ করে দেয়।
২০১২ সালে গুগল এন্ড্রয়েড এর উন্নত সংস্করণ 4.1 Jelly Bean লঞ্চ করে। আপনি হয়ত জানেন যে, Jelly Bean লঞ্চ হওয়ার পর থেকে এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম সবার নজরে আসে। সেই বছর অর্থাৎ ২০১২ সালের জুলাই মাসে Google Now এবং Google Voice Search ফিচার্স চালু করে, বর্তমানে এটি Google Assistant হিসেবে সবাই জানি।
২০১৩ সালে গুগল গ্লাস ব্যবসা শুরু করে। মানুষের পরিহিত চশমার মধ্যে বিভিন্ন উন্নত মানের টেকনোলজি যুক্ত করার মাধ্যমে গুগল চশমার মধ্যে এক ধরনের আমুল পরিবর্তন আনে। গুগল চশমা লঞ্চ হওয়ার পর মানুষ এ ধরনের চশমা প্রচুর পরিমানে ব্যবহার করে।
২০১৫ সালে গুগল VR হেড সেট শুরু করেছিল। এটি এমন এক ধরনের টেকনোলজি যার মাধ্যমে মানুষ তার চোখের গ্লাসের মত ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের 3D টেকনোলজির ভিডিও দেখতে পারে। এটি মানুষের হাতের মধ্যে ভিডিও জগতের এক বিশাল উন্নতি ঘটায়।
২০১৬ সালে গুগল Loon প্রকল্প চালু করে। এ প্রকল্পের কাজ ছিল যে সমস্ত দেশ এ এলাকায় ইন্টারনেটে পৌছেনি সেই সমস্ত দেশ ও এলাকায় ইন্টারনেট সেবা পৌছানো। একই বছরে গুগল হোম ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস চালু করে। যার কাজ ছিল প্রশ্নের মাধ্যমে যে কোন কোন কিছু গুগলের মাধ্যমে জেনে নেওয়া।
২০১৭ সালে গুগল সর্বপ্রথম Artificial Intelligent (AI) টেকনোলজি চালু করে। যার মাধ্যম গুগল তাদের সার্চ ইঞ্জিন আরো অনেক উন্নত রূপ দেওয়া জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে। তাছাড়া সেই একই বছরে গুগল Lens লঞ্চ করে, যার মাধ্যমে যে কোন কিছুর ছবি তুলে সরাসরি গুগল সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করা সম্ভব হয়।
২০১৮ সালে গুগল Google Duplex প্রযুক্তি চালু করে। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মানুষের মতো স্বাভাবিক গলায় ফোনে কথা বলে রেস্টুরেন্ট বুকিং বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউল করতে পারে, যা শুনে বোঝার উপায় থাকে না যে এটি কোনো রোবট।
২০১৯ সালে গুগল কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে Quantum Supremacy অর্জন করে। তাদের Sycamore প্রসেসরটি মাত্র ২০০ সেকেন্ডে এমন একটি জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করে, যা তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের সমাধান করতে প্রায় ১০,০০০ বছর সময় লাগত।
২০২১ সালে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে MUM (Multitask Unified Model) প্রযুক্তি যুক্ত করে। এটি টেক্সট ও ছবি একইসাথে বুঝতে সক্ষম এবং ব্যবহারকারীর জটিল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য ৭৫টি ভিন্ন ভাষার তথ্য বিশ্লেষণ করে সঠিক ফলাফল প্রদান করে।
২০২৩ সালে গুগল তাদের জেনারেটিভ এআই চ্যাটবট Bard চালু করে, যা বর্তমানে Gemini নামে পরিচিত। এটি মানুষের মতো কথোপকথন, কোডিং এবং বিভিন্ন ধরণের সৃজনশীল লেখা তৈরি করতে সক্ষম, যা এআই প্রযুক্তিতে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে।
২০২৪ সালে গুগল জেমিনি (Gemini) এর সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল এবং ভিডিও জেনারেশন এআই Veo উন্মোচন করে। এটি ব্যবহারকারীর নির্দেশ বা প্রম্পট অনুযায়ী উচ্চমানের ১০৮০পি ভিডিও তৈরি করতে পারে, যা ভিডিও প্রোডাকশন জগতে একটি বৈপ্লবিক সংযোজন।
গুগলের বিভিন্ন প্রোডাক্ট ও সার্ভিস কি কি?
গুগলের অসংখ্য অসংখ্য প্রোডাক্ট ও সার্ভিস রয়েছে যেগুলো নিয়ে আলোচনা করে শেষ করা যাবে না। কাজেই এখানে আমরা গুগলের সকল ধরনের প্রোডাক্ট ও সার্ভিস নিয়ে আলোচনা করতে পারব না। তবে সবচাইতে জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত কয়েকটি গুগল প্রোডাক্ট ও সার্ভিস নিয়ে এখন আমরা আলোচনা করব।
১. Google Search
গুগলের মূল ভিত্তি এবং বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন। এটি ব্যবহার করে ইন্টারনেটের বিশাল তথ্যভান্ডার থেকে যেকোনো তথ্য নিমিষেই খুঁজে বের করা যায়। তথ্যের সঠিকতা ও দ্রুততার জন্য এটি সবার প্রথম পছন্দ।
২. Android
গুগলের তৈরি মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম যা বিশ্বের প্রায় ৯০% স্মার্টফোনে ব্যবহৃত হয়। এটি ওপেন সোর্স হওয়ায় স্যামসাং, শাওমিসহ বিভিন্ন কোম্পানি তাদের ফোনে এটি ব্যবহার করে। লক্ষ লক্ষ অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধা একে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করেছে।
৩. Google Chrome
বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত এবং দ্রুতগতির ওয়েব ব্রাউজার। কম্পিউটার এবং স্মার্টফোনে নিরাপদ ব্রাউজিংয়ের জন্য এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। এর আধুনিক ইন্টারফেস এবং এক্সটেনশন সুবিধা ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা সহজ ও নিরাপদ করে তোলে।
৪. Blogger
বিনামূল্যে ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য গুগলের একটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম। কোনো কোডিং জ্ঞান ছাডাই এখানে লেখালেখি করে নিজের মতামত প্রকাশ করা যায়। নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এটি একটি চমৎকার মাধ্যম।
৫. Gmail
গুগলের বিশ্বস্ত ও নিরাপদ ইমেইল সার্ভিস। ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক যোগাযোগের জন্য এটি বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত। এর মাধ্যমে দ্রুত বার্তা, ফাইল এবং ডকুমেন্ট আদান-প্রদান করা যায়। এটি ছাড়া অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার প্রায় অসম্ভব।
৬. YouTube
বিশ্বের বৃহত্তম ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম সার্চ ইঞ্জিন। বিনোদন, শিক্ষা বা সংবাদ—সব ধরনের ভিডিও এখানে পাওয়া যায়। কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা এখানে ভিডিও আপলোড করে মনিটাইজেশনের মাধ্যমে আয় করতে পারেন।
৭. Google Maps
অচেনা রাস্তাঘাট চেনা এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার সহজ পথ খুঁজে বের করার জন্য এটি অপরিহার্য। এতে রিয়েল-টাইম ট্রাফিক আপডেট, জিপিএস নেভিগেশন এবং ৩৬০-ডিগ্রি স্ট্রিট ভিউ দেখার সুবিধা রয়েছে।
৮. Google Drive
গুগলের ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিস। এখানে ১৫ জিবি পর্যন্ত ফাইল বিনামূল্যে সেভ করে রাখা যায়। এর মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে নিজের ডকুমেন্ট, ছবি বা ভিডিও অ্যাক্সেস এবং শেয়ার করা সম্ভব হয়।
৯. Google Docs
এটি মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের একটি অনলাইন বিকল্প। কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল করা ছাড়াই অনলাইনে ডকুমেন্ট তৈরি ও এডিট করা যায়। একাধিক ব্যক্তি একই ফাইলে রিয়েল-টাইম কাজ করতে পারেন, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ড্রাইভে সেভ হয়।
১০. Google Sheets
অনলাইনে হিসাব-নিকাশ বা ডেটা এন্ট্রির জন্য এটি এক্সেলের মতো কাজ করে। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি এবং ক্লাউড-ভিত্তিক হওয়ায় যেকোনো ডিভাইস থেকে স্প্রেডশিট অ্যাক্সেস ও এডিট করা যায়। দলের সাথে কাজের জন্য এটি সেরা।
১১. Google Photos
ছবি এবং ভিডিও ব্যাকআপ রাখার জন্য একটি চমৎকার গ্যালারি অ্যাপ। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছবিগুলো বিষয়বস্তু বা চেহারা অনুযায়ী সাজিয়ে রাখে। নির্দিষ্ট স্টোরেজ পূর্ণ হলে এটি ব্যবহারের জন্য গুগল ওয়ান সাবস্ক্রিপশন লাগে।
১২. Google Meet
ভিডিও কনফারেন্সিং বা অনলাইন মিটিং করার জন্য একটি জনপ্রিয় অ্যাপ। আগে যা Google Duo ছিল, তা এখন মিটের সাথে যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে উচ্চমানের ভিডিও কল এবং স্ক্রিন শেয়ারিং করা খুব সহজ।
১৩. Gemini
গুগলের তৈরি অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট। এটি মানুষের মতো কথোপকথন, নতুন লেখা তৈরি, কোডিং সমাধান এবং জটিল প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম। এটি গুগলের বর্তমানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তি।
১৪. Google Play Store
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপ, গেম, বই এবং মুভি ডাউনলোড করার অফিশিয়াল স্টোর। এখানে লক্ষ লক্ষ ভেরিফাইড অ্যাপ পাওয়া যায়। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্লে প্রোটেক্ট ফিচারটি এখান থেকেই কাজ করে।
১৫. Google Translate
বিশ্বের যেকোনো ভাষাকে নিজের মাতৃভাষায় অনুবাদ করার অন্যতম সেরা মাধ্যম। এটি টেক্সট, ভয়েস এবং ছবির লেখাকে তাৎক্ষণিকভাবে অনুবাদ করতে পারে। বিদেশ ভ্রমণ বা নতুন ভাষা শেখার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকরী।
১৬. Google Business Profile
ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে গুগল সার্চ এবং ম্যাপে খুঁজে পাওয়ার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা আপনার ব্যবসার ঠিকানা, খোলার সময় এবং রিভিউ দেখতে পায়। আগে এটি ‘গুগল মাই বিজনেস’ নামে পরিচিত ছিল।
১৭. Google AdSense
ব্লগার এবং ইউটিউবারদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা তাদের ভিডিও বা ব্লগে গুগলের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে এর মাধ্যমে টাকা আয় করেন। এটি অনলাইন উপার্জনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত।
১৮. Google Ads
ব্যবসায়িক প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দাতা কোম্পানিগুলো এটি ব্যবহার করে। টাকার বিনিময়ে গুগল সার্চ, ইউটিউব বা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। ডিজিটাল মার্কেটিং-এর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি টুল।
১৯. Google Analytics
ওয়েবসাইট বা অ্যাপের ভিজিটরদের আচরণ বিশ্লেষণ করার টুল। কতজন ভিজিটর আসছে, কোন দেশ থেকে আসছে এবং তারা কতক্ষণ থাকছে—এসব তথ্য জানা যায়। এটি ওয়েবসাইট ও ব্যবসার উন্নতির জন্য অপরিহার্য।
২০. Chrome OS
কম্পিউটার ও ল্যাপটপের জন্য গুগলের তৈরি হালকা ও দ্রুতগতির অপারেটিং সিস্টেম। এটি মূলত ওয়েব-ভিত্তিক কাজের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং এটি সাধারণত স্বল্পমূল্যের ল্যাপটপ বা ‘ক্রোমবুক’-এ ব্যবহৃত হয়।
২১. Google Keep
ত নোট নেওয়া, চেকলিস্ট তৈরি এবং ভয়েস মেমো সেভ করার জন্য একটি সহজ অ্যাপ। এটি আপনার সকল নোট ক্লাউডে সেভ রাখে, ফলে যেকোনো ডিভাইস থেকে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো অ্যাক্সেস করতে পারেন।
২২. Google Calendar
দৈনন্দিন কাজের রুটিন, মিটিং এবং ইভেন্ট মনে রাখার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। নির্দিষ্ট সময়ে রিমাইন্ডার সেট করা যায়, যা আপনাকে সময়মতো কাজ শেষ করতে সাহায্য করে। এটি জিমেইলের সাথে যুক্ত থাকে।
২৩. Google Pay
একটি ডিজিটাল ওয়ালেট বা পেমেন্ট সিস্টেম। এর মাধ্যমে অনলাইনে কেনাকাটা, বিল পরিশোধ এবং টাকা পাঠানো যায়। এটি আপনার কার্ডের তথ্য সুরক্ষিত রাখে। তবে বাংলাদেশে এর পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার এখনো চালু হয়নি।
২৪. Google News
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ব্রেকিং নিউজ এবং আপনার পছন্দের বিষয়ের সংবাদগুলো এক জায়গায় সাজিয়ে পরিবেশন করে। এটি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবহারকারীর আগ্রহ অনুযায়ী নিউজ ফিড তৈরি করে।
২৫. Google Earth
স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীকে থ্রি-ডি (3D) আকারে দেখার সফটওয়্যার। ঘরে বসেই বিশ্বের যেকোনো বিখ্যাত স্থান বা শহরের রাস্তাঘাট এমনভাবে দেখা যায় যেন আপনি সেখানে সত্যিই ভ্রমণ করছেন।
২৬. Google Contacts
মোবাইল নম্বরগুলো নিরাপদে ক্লাউডে ব্যাকআপ রাখার সার্ভিস। ফোন হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলেও নম্বর হারানোর ভয় থাকে না। নতুন ফোনে লগইন করলেই সব নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসে।
২৭. Google Forms
তথ্য সংগ্রহ, কুইজ তৈরি বা জরিপ (Survey) চালানোর জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। খুব সহজেই প্রশ্ন তৈরি করে লিংক শেয়ার করা যায় এবং জমাকৃত তথ্যগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুগল শিটসে জমা হয়।
২৮. Google Pixel
গুগলের নিজস্ব তৈরি স্মার্টফোন সিরিজ। এতে থাকে গুগলের বিশুদ্ধ অ্যান্ড্রয়েড অভিজ্ঞতা এবং দুর্দান্ত ক্যামেরা। সফটওয়্যার আপডেট এবং নতুন ফিচারগুলো সবার আগে পিক্সেল ফোনেই পাওয়া যায়।
২৯. Wear OS
স্মার্টওয়াচের জন্য গুগলের তৈরি অপারেটিং সিস্টেম। এটি ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্যের তথ্য, নোটিফিকেশন এবং ম্যাপ ট্র্যাকিং সুবিধা দেয়। এটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সাথে যুক্ত হয়ে হাতের ঘড়িকে আরও স্মার্ট করে তোলে।
৩০. Chromecast
সাধারণ টিভিকে স্মার্ট টিভিতে রূপান্তর করার ডিভাইস। মোবাইল বা ল্যাপটপের ভিডিও, মুভি বা গেম সরাসরি টিলইভিশনের বড় পর্দায় কাস্ট বা স্ট্রিম করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।
গুগল এর কি কি AI সার্ভিস আছে?
গুগল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI (Artificial Intelligence) প্রযুক্তিতে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। নিচে গুগলের প্রধান এআই সার্ভিস ও প্রোডাক্টগুলোর তালিকা দেওয়া হলো, যা বর্তমানে টেক দুনিয়া আমুল পরিবর্তন ঘটিয়েছে।
১. Gemini
এটি গুগলের বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী মাল্টিমোডাল এআই মডেল (যা আগে Bard নামে পরিচিত ছিল)। এটি মানুষের মতো কথোপকথন, কোডিং, ছবি বিশ্লেষণ এবং জটিল সমস্যার সমাধান দিতে সক্ষম। এটি টেক্সট, অডিও এবং ভিডিও বুঝতে পারে।
২. Google Lens
ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে যেকোনো বস্তু বা লেখা স্ক্যান করে তথ্য জানার এআই টুল। এটি রিয়েল-টাইম অনুবাদ, উদ্ভিদের নাম শনাক্তকরণ, হাতের লেখা কপি করা এবং কেনাকাটার জন্য পণ্য খুঁজে বের করতে সাহায্য করে।
৩. NotebookLM
এটি একটি ব্যক্তিগত এআই রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট। আপনি এতে বড় পিডিএফ, ডকুমেন্ট বা টেক্সট আপলোড করলে এটি সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সারাংশ তৈরি করে, পডকাস্ট বানায় এবং আপনার প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়।
৪. Imagen
গুগলের তৈরি টেক্সট-টু-ইমেজ (Text-to-Image) জেনারেটিভ এআই মডেল। আপনি টেক্সট লিখে যা বর্ণনা দেবেন, এটি ঠিক তেমনই উচ্চমানের ও বাস্তবসম্মত ছবি তৈরি করে দেবে। এটি জেমিনাই এবং অন্যান্য গুগল প্রোডাক্টের ভেতরে ইন্টিগ্রেট করা থাকে।
৫. Veo
গুগলের অত্যাধুনিক ভিডিও জেনারেশন মডেল। এটি ব্যবহারকারীর টেক্সট কমান্ড বা প্রম্পট থেকে উচ্চমানের ১০৮০পি (1080p) রেজোলিউশনের ভিডিও ক্লিপ তৈরি করতে পারে। এটি চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের কাজকে অনেক সহজ করে তুলছে।
৬. Circle to Search
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের স্ক্রিনে থাকা যেকোনো টেক্সট বা ছবির ওপর আঙুল দিয়ে গোল দাগ (Circle) দিলেই গুগল সেটি সম্পর্কে তথ্য খুঁজে বের করে। অ্যাপ পরিবর্তন না করেই দ্রুত সার্চ করার এটি একটি জাদুকরী এআই ফিচার।
৭. Magic Editor
গুগল ফটোজ-এর ভেতরে থাকা একটি শক্তিশালী জেনারেটিভ এআই টুল। এটি দিয়ে ছবির অবাঞ্ছিত বস্তু মুছে ফেলা, আকাশ পরিবর্তন করা, বা ছবির সাবজেক্টকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানো যায় খুব সহজেই।
৮. Gemini for Workspace
গুগল ডকস, জিমেইল, শিটস বা স্লাইড-এ যুক্ত থাকা এআই সহকারী (আগে Duet AI নামে পরিচিত ছিল)। এটি আপনাকে ইমেইল লিখতে, প্রেজেন্টেশন স্লাইড সাজাতে, মিটিং-এর নোট নিতে এবং ডেটা এনালাইসিস করতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাহায্য করে।
৯. MusicFX
গুগলের পরীক্ষামূলক এআই টুল যা টেক্সট থেকে মিউজিক তৈরি করে। আপনি যদি "গিটার এবং ড্রামস সহ জ্যাজ মিউজিক" লিখে দেন, তবে এটি নতুন সুর তৈরি করে দেবে। এটি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও মিউজিশিয়ানদের জন্য সহায়ক।
১০. Vertex AI
ডেভেলপার এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য গুগলের ক্লাউড এআই প্ল্যাটফর্ম। এখানে কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টম এআই মডেল তৈরি, প্রশিক্ষণ এবং ব্যবহার করতে পারে। এটি মূলত এন্টারপ্রাইজ লেভেলের কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়।
১১. Google AI Studio
ডেভেলপারদের জন্য জেমিনাই মডেল ব্যবহার করে অ্যাপ তৈরির একটি দ্রুততম ওয়েব-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এখানে সহজেই প্রম্পট টেস্ট করা যায় এবং এআই ফিচারগুলো (API-এর মাধ্যমে) নিজস্ব অ্যাপ্লিকেশনে যুক্ত করা সম্ভব হয়।
১২. AlphaFold
গুগল ডিপমাইন্ডের (Google DeepMind) তৈরি বৈজ্ঞানিক এআই। এটি প্রোটিনের গঠন বা ৩ডি স্ট্রাকচার নিখুঁতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন ওষুধ আবিষ্কার এবং জীববিজ্ঞানের গবেষণায় বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছে।
১৩. Google Assistant
ভয়েস বা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে কাজ করা গুগলের পুরোনো কিন্তু কার্যকরী এআই। এটি আপনার কথায় অ্যালার্ম সেট করা, গান বাজানো বা স্মার্ট হোম ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বর্তমানে এটি ধীরে ধীরে জেমিনাই-এর সক্ষমতা পাচ্ছে।
১৪. Project Astra
গুগলের ভবিষ্যৎ এআই প্রজেক্ট যা রিয়েল-টাইমে ভিডিও এবং অডিও বুঝতে পারে। ফোনের ক্যামেরা অন করে রুমের কিছু দেখালে এটি মানুষের মতো কথোপকথন চালিয়ে যেতে পারে এবং সেই বস্তু সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে।
১৫. AutoDraw
এটি একটি মজার ওয়েব-ভিত্তিক এআই টুল। আপনি যদি কাঁচা হাতেও কোনো কিছুর স্কেচ বা আঁকিবুঁকি করেন, তবে এই এআই সেটি চিনে নেবে এবং আপনাকে পেশাদার আইকন বা ড্রয়িং দিয়ে সেটি বদলে দেয়ার অপশন দেবে।
গুগল কিভাবে টাকা ইনকাম করে?
আপনার মনে প্রায় সময় হয়তো প্রশ্ন জাগে যে, আমরা গুগলের অধিকাংশ সার্ভিস যেমন Google Search, Gmail, YouTube, Google Drive সহ অন্যান্য সার্ভিস ব্যবহার করার ক্ষেত্রে গুগলকে টাকা দিতে হয় না। তাহলে গুগল যদি আমাদের নিকট থেকে কোন চার্জ না নেয় তবে গুগল কিভাবে এত মোটা অংকের ডলার ইনকাম করে? আপনার মনে এ রকম প্রশ্ন জাগাটা অস্বাভাবিক কিছু না।
আপনি শুনে অবাক হবেন যে, গুগল যত টাকা ইনকাম করে তার ৯৬% টাকা বিজ্ঞাপন থেকে ইনকাম করে। এ কথা আমার নয়, স্বয়ং গুগল নিজেই বলেছে তাদের আয়ের বেশি ভাগ টাকাই হচ্ছে বিজ্ঞাপন থেকে উপার্জিত।
আপনি নিশ্চয় দেখে থাকেন যে, গুগলের মাধ্যমে আপনি যে সমস্ত ব্লগ ও ওয়েবসাইট ভিজিট করেন তার অধিকাংশ ব্লগে আর্টিকেলের পাশে বিজ্ঞাপন শো হয়। এই বিজ্ঞাপন গুলো গুগল বিভিন্ন কোম্পানির নিকট থেকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে প্রচার করে থাকে।
গুগল সার্চ ইঞ্জিনে বিলিয় বিলিয়ন মানুষ সার্চ করে। সেই জন্য বড় বড় কোম্পানিগুলো গুগলের কাছে বিজ্ঞাপন দিতে চায়। কারণ বিজ্ঞাপন কোম্পানিগুলো জানে যে, তারা যদি গুগলের কাছে বিজ্ঞাপন জমা দেয় তাহলে মানুষ গুগলের অধীনে থাকা ব্লগের মাধ্যমে খুব সহজে তাদের বিজ্ঞাপন দেখতে পাবে।
আর গুগল সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আপনার আমার ছোট বড় ব্লগে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে কিছু টাকা আমাদেরকে প্রদান করে গুগল সেই সমস্ত কোম্পানির বিজ্ঞাপন ব্যবহার করা সুযোগ দিচ্ছে। যার ফলে এক দিকে যেমন গুগল বিজ্ঞাপনি সংস্থার নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা ইনকাম করছে অন্যদিকে আমাদের ব্লগে বিজ্ঞাপন ব্যবহার করার কারনে গুগল আমাদেরকে কিছু টাকা দিচ্ছে। মোট কথা এভাবে গুগল আপনার আমার কাধে চড়ে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধিকাংশ টাকা ইনকাম করছে।
কিভাবে গুগল বিজ্ঞাপন থেকে ইনকাম করে?
এতক্ষনে আপনি জানতে পেরেছেন যে, গুগল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেশির ভাগ টাকা ইনকাম করে। কিন্তু আপনার কাছে একটা খটকা থেকেই যাবে যে, তাহলে গুগল সেই বিজ্ঞাপনগুলো পায় কিভাবে? কারণ বাংলাদেশেত কোন গুগলের অফিস নেই। তাহলে বাংলাদেশের মানুষ গুগলের কাছে কিভাবে বিজ্ঞাপন দেয়। চিন্তার কোন কারণ নাই। আমি পুরো প্রসেসটি ব্যাখ্যা করছি।
Google Ads/Adwords
Google Ads হচ্ছে গুগলের একটি অনলাইন বিজ্ঞাপনি টুলস। আপনি যদি অনলাইনের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আপনার বিজ্ঞাপন দিতে চান তাহলে আপনাকে গুগল একাউন্ট ব্যবহার করে প্রথমে একটি গুগল এডওয়ার্ডস একাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে। তারপর আপনি যে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে চান সেই বিজ্ঞাপনের ব্যানার তৈরি করে গুগল এডওয়ার্ডের মাধ্যমে গুগলের কাছে জমা দিতে হবে।
সাধারণত গুগল এডওয়ার্ডস এর মাধ্যমে একটি বিজ্ঞাপন গুগলের কাছে জমা দেওয়াকে Google Ads Campaign বলা হয়। এ ধরনের একটি ক্যাম্পেইন করার জন্য গুগলকে বিভিন্ন অংকের টাকা পরিশোধ করতে হয়। সাধারণত টাকা পরিশোধের জন্য Visa Card, Master Card প্রয়োজন হয়।
Google Ads Campaign কত দিন এবং কোন কোন কীওয়ার্ডের উপর পরিচালিত হবে সেটার উপর নির্ভর করে আপনার বিজ্ঞাপন মূল্য গুগলকে পরিশোধ করতে হবে। কোন কাজের বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য গুগলকে কি পরিমানে টাকা পরিশোধ করতে হবে সেটাও গুগল এডওয়ার্ডস থেকে জেনে নেওয়া যায়।
এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, গুগলের কাছে বিজ্ঞাপন জমা দেওয়া হলো, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু গুগল আমার বিজ্ঞাপন অন্যের ওয়েবসাইট কিভাবে দেখাবে। অথবা বিশ্বের অন্যান্য ব্লগ মালিকরা কেন আমার বিজ্ঞাপন তাদের ওয়েবসাইটে দেখাবে, কারণ কি?
Google AdSense
গুগল আপনার নিকট থেকে প্রাপ্ত বিজ্ঞাপনগুলো সরাসরি অন্যের ব্লগে ব্যবহার করতে পারবে না। সে জন্য গুগল একটি নিয়ম করছে কেউ যদি আপনার নিকট থেকে প্রাপ্ত বিজ্ঞাপন তাদের ব্লগে গুগল এডসেন্সর মাধ্যমে ব্যবহার করে তাহলে গুগলে তাদেরকে আপনার দেওয়া টাকার কিছু অংশ ব্লগের মালিককে দেবে।
গুগলের সেই ভাগের টাকা পাওয়ার জন্য যাদের ব্লগ আছে তারা Google AdSense একাউন্ট তৈরি করে গুগলের বিজ্ঞাপনে ব্লগে ব্যবহার করার জন্য আবেদন করে। তখন গুগল সেই ব্লগটি যাচাই করে যোগ্য মনে করলে তখন ব্লগে বিজ্ঞাপন ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
তখন একজন ব্লগের মালিক গুগল এডসেন্স থেকে বিজ্ঞাপনের কোড নিয়ে ব্লগের বিভিন্ন জায়গাতে বসায়। গুগল তখন তাদের নিকট থাকা বিজ্ঞাপনগুলো প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন জায়গাতে শো করে। তখন যারা একটি ব্লগ ভিজিট করে সবাই আপনার বিজ্ঞাপনটি দেখতে পায়।
যার ফলে আপনার বিজ্ঞাপনটি ভোক্তা পর্যন্ত পৌছায়। অন্যদিক ব্লগের মালিক গুগলের নিকট থেকে মাসিক ভিত্তিতে বিভিন্ন অংকের টাকা ইনকাম করে। অন্যদিকে গুগল আপনার নিকট থেকে প্রাপ্ত টাকার বড় একটি অংশ রেখে দেয়। এভাবে মূলত গুগল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুরো বিশ্ব থেকে টাকা ইনকাম করছে।
গুগল কিভাবে কাজ করে?
এত কিছু জানার পর আপনার মনে আরেকটি প্রশ্ন থাকতে পারে, আসলে গুগল কিভাবে কাজ বা কিভাবে গুগল এত বিশাল পরিমানে তথ্য সংগ্রহ করে রাখে। আসলে এ প্রশ্নটি যে কোন নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকরীর মনে হতে পার। আমি যখন প্রথম ইন্টারনেট ব্যবহার করতে শিখি তখন আমার মনেও এ ধরনের প্রশ্ন উধয় হয়েছিল।
আসলে গুগলের খুব বেশি পরিমানে নিজেস্ব তথ্য নাই। গুগল আপনার আমার মত কোটি কোটি লোকের ওয়েবসাইট হতে তথ্য সংগ্রহ করে। বিভিন্ন ওয়েবসাইট হতে তথ্য সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে গুগল এক ধরনের সফওয়্যার ব্যবহার কর। যেগুলোকে গুগল ’বট’ বা ’রোবট’ বলা হয়।
এ ধরনের গুগল বটের কাজ হচ্ছে ইন্টারনেটে যত ব্লগ ও ওয়েবসাইট আছে প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটে ঘুরে বেড়ানো। এভাবে প্রত্যেকটি ওয়েবসাইট ঘুরে ঘুরে প্রাপ্ত তথ্যগুলা প্রথমে গুগল এর তথ্য ভান্ডারে জমা রাখে। তারপর সেই তথ্যের মধ্য হতে যে ব্লগের কনটেন্ট ভালো হয় সেই ব্লগের পোস্ট গুগল সার্চ ইঞ্জিনের রেজল্ট পেজে শো করে। এভাবে মূলত গুগল অন্যদের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে ব্যবসা করছে।
শেষ কথা
আসলে গুগল হচ্ছে এমন একটি বৃহত্তম মাল্টিন্যাশনাল টেকনোলজি কোম্পানি যেটি সম্পর্কে বলে শেষ করা যাবে না। তবে গুগল সম্পর্কে একজন ব্যক্তির যতটুকো জানার প্রয়োজন তার সব তথ্য আমরা এখানে শেয়ার করে দিয়েছি।
আশাকরি গুগল কি সেই বিষয়ে আপনার এর থেকে বেশি কিছু জানার প্রয়োজন হবে না। তারপরও গুগল সম্পর্কে আপনার আরো তথ্যের প্রয়োজন হলে তা আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। সেই সাথে পোস্টটি ভালো লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করে অন্যদেরকে গুগল সম্পর্কে জানাতে পারেন।
ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে আমার সাইটের পোস্ট কপি পেস্ট করে পোস্ট করে। যেমনঃ বিশ্ববিদ্যালয় সার্কুলার, এসাইনমেন্ট, রুটিন এগুলো বেশি করে। ফেসবুকে রিপোর্ট করে নামানোর কোন উপায় আছে কি?
সাধারণত একটি ব্লগ পোস্টের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ কপি করে ফেসবুকে শেয়ার করা হয়। এটা খুব সিম্পল একটা বিষয়। এগুলো নিয়ে চিন্তা করার তেমন কিছু নেই।
তবে কেউ যদি আপনার পুরো পোস্ট কপি করে ফেসবুকে ব্যবহার করে এবং ফেসবুকের সেই পোস্ট গুগলে র্যাংক করে, তাহলে গুগলের কাছে আপনার পোস্টের রেফারেন্স দিয়ে কপিরাইট ক্লেইম করতে পারেন। গুগল ফেসবুকের সেই পোস্ট ডিলিট করতে পারবে না। তবে গুগল তাদের সার্চ ইঞ্জিন থেকে রিমুভ করে দিতে পারবে।
অসাধারন উপস্থাপন। সম্পূর্ণ পড়া শেষ না করে উঠতে পারলাম না। একটি বিষয় জানার ছিলো তাহলো- আপনার ব্লগের কমেন্ট ব্যতিত আমি যদি কোন বিষয় জানার জন্য আপনার কন্ট্রাক্ট ফরম পূরন করি তাহলে রিভিউ পাওয়া যাবে কি? মূলত অনেক বিষয় থাকে যা ব্লগের কমেন্টে করা যায় না। -ধন্যবাদ
আমরা সমসময় আমাদের পাঠকদের প্রশ্ন গুরুত্ব সহকারে মূল্যায়ন করি। আপনি যেকোন ভাবে আমাদের প্রশ্ন করতে পারেন।
ধন্যবাদ।
ভাইয়া ফন্ট সাইজের সাথে ওয়েবসাইট এর স্পিডের কোন রিলেশন আছে?
সাইটের ফন্ট কেমন রাখা উচিত এই রিলেটেড কোন পোস্ট আছে আপনার সাইটে?
ফন্ট সাইজ কোনো মেটার করে না। ফন্ট সাইজ যত রাখলে আপনার ব্লগে লেখা পরিষ্কারভাবে দেখা যায় ও পড়া যায়, আপনি সেই সাইজ ব্যবহার করবেন। এগুলো খুব ছোট বিষয়, পোস্ট করার মত কিছু নাই।
ধন্যবাদ...
ভাই আপনি কোন ফ্রন্টের মাধ্যমে ব্লগে লেখেন
SolaimanLipi ফন্ট। ওয়েব ফন্ট নিয়ে আমার ব্লগে একটি বিস্তারিত পোস্ট আছে। দেখতে পারেন, আশাকরি কাজে লাগবে।