নামাজে বিতর পড়ার সময় দোয়া কুনুত বাংলা উচ্চারণ জানা আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত জরুরি। শুদ্ধভাবে দোয়াটি পাঠ না করলে নামাজের পূর্ণতা আসে না, তাই সঠিক উচ্চারণ এবং এর অর্থ বুঝে পড়া প্রয়োজন।
অনেকেই আরবি সরাসরি পড়তে না পারায় বাংলায় উচ্চারণ খুঁজে থাকেন। আপনাদের সুবিধার্থে আমরা এখানে অত্যন্ত সহজ ও নির্ভুলভাবে দোয়াটি তুলে ধরেছি, যা আপনার প্রতিদিনের ইবাদতকে আরও সহজ এবং অর্থবহ করে তুলবে।
এই পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনি শুধু দোয়ার উচ্চারণই নয়, বরং এর ফজিলত সম্পর্কেও জানতে পারবেন। শুদ্ধভাবে দোয়া কুনুত শেখার মাধ্যমে নিজের নামাজকে ত্রুটিমুক্ত করার এখনই সঠিক সময়, তাই মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
দোয়া কুনুত কি?
দোয়া কুনুত হলো এমন একটি বিশেষ দোয়া, যা বিতর নামাজের শেষ রাকাতে রুকুর পর কিয়াম অবস্থায় পড়া হয়। এই দোয়াতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত, পথনির্দেশনা এবং নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করা হয়। নবীজি (সা.) আমাদের এই দোয়াটি শিখিয়েছেন এবং সাহাবিরাও এটি নিয়মিত পাঠ করতেন।
অর্থ: হে আল্লাহ আমরা তোমারই সাহায্য চাই, তোমারই নিকট ক্ষমা চাই, তোমারই প্রতি ঈমান রাখি, তোমারই ওপর ভরসা করি এবং সকল, মঙ্গল তোমারই দিকে ন্যস্ত করি। আমরা তোমার কৃতজ্ঞ হয়ে চলি অকৃতজ্ঞ হই না, এবং যারা তোমার অবাধ্য হয় তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদেরকে পরিত্যাগ করি। হে আল্লাহ আমরা তোমারই দাসত্ব করি তোমারই জন্য নামায পড়ি এবং তোমাকেই সিজদাহ করি, আমরা তোমারই দিকে দৌড়াই ও এগিয়ে চলি। আমরা তোমারই রহমত, আশা করি এবং তোমার আযাবকে ভয় করি আর তোমার আযাবতো কাফেরদের জন্যই র্নিধারিত।
দোয়া কুনুত কখন পড়তে হয়?
দোয়া কুনুত বিতরের নামাজে পড়া হয়। বিতরের নামাজ সাধারণত এশার নামাজের পর পড়া হয়ে থাকে। বিতরের নামাজ ৩ রাকাত বিশিষ্ট। বিতরের নামাজের তৃতীয় রাকাতে রুকুতে যাওয়ার আগে দোয়া কুনুত পড়তে হয়। বিতরের নামাজ এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত পড়া যায়।
বিতরের শেষ রাকাতে সূরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য একটি সূরা মেলানোর পর তাকবিরে তাহরিমার মতো করে হাত উঠিয়ে তাকবির দিতে হয়। এরপর দোয়া কুনুত পড়তে হয়। দোয়া কুনুত মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া। এটি বিতরের নামাজে পড়া হয় এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য ও ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়।
দোয়া কুনুত পড়ার ফজিলত
দোয়া কুনুত শুধুমাত্র নামাজের অংশই নয়, বরং আল্লাহর রহমত, সাহায্য ও গুনাহ থেকে মুক্তির জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী একটি দোয়া। আসুন জেনে নিই, দোয়া কুনুত পড়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত—
আল্লাহর নৈকট্য লাভ: এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া হয় এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এর ফলে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয় এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়।
ক্ষমা প্রার্থনা: দোয়া কুনুতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়। এর ফলে বান্দার গুনাহ মাফ হয় এবং সে আল্লাহর রহমত লাভ করে।
বিপদ থেকে মুক্তি: দোয়া কুনুতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বিপদ থেকে মুক্তির জন্য সাহায্য চাওয়া হয়। এর ফলে আল্লাহ বান্দাকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন।
শান্তি ও সমৃদ্ধি: নিয়মিত দোয়া কুনুত পাঠের মাধ্যমে বান্দার জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। মানব জীবনের অশান্তি দূর হয়।
গুনাহ মাফ: দোয়া কুনুতে আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই এই দোয়া পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ্ বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন।
আল্লাহ্র রহমত লাভ: এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ্র কাছে রহমত চাওয়া হয়। তাই, এই দোয়া পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ্ বান্দার প্রতি রহমত দান করেন।
আত্মিক প্রশান্তি: দোয়া কুনুত পাঠের মাধ্যমে বান্দার মনে প্রশান্তি আসে এবং মানসিক চাপ কমে যায়।
শেষ কথা
নামাজের প্রতিটি অংশ মনোযোগ দিয়ে আদায় করা আমাদের ইমানি দায়িত্ব। আশা করছি, এই পোস্টের মাধ্যমে আপনি দোয়া কুনুত বাংলা উচ্চারণ খুব সহজেই আয়ত্ত করতে পেরেছেন এবং আপনার মনে থাকা সংশয়গুলো দূর হয়েছে।
যদি আপনার এই পোস্টটি উপকারে আসে, তবে দেরি না করে এখনই বন্ধু ও স্বজনদের সাথে শেয়ার করুন। ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে এই নিয়মগুলো ছড়িয়ে দিয়ে অন্যদেরও শুদ্ধভাবে নামাজ পড়তে এবং সওয়াব অর্জনে সহায়তা করুন।
Frequently Asked Questions
ভুলবশত দোয়া কুনুত না পড়লে তখন কী হয়?
যদি কেউ বিতর নামাজে ভুলে দোয়া কুনুত না পড়ে সরাসরি রুকুতে চলে যান, তবে তার ওপর 'সাহু সিজদা' (ভুলের জন্য অতিরিক্ত দুটি সিজদা) ওয়াজিব হয়। নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ে এক দিকে সালাম ফিরিয়ে দুটি সিজদা দিয়ে পুনরায় তাশাহহুদ, দুরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ে নামাজ শেষ করলে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে দোয়া কুনুত ছেড়ে দিলে নামাজ অপূর্ণ থেকে যায়।
দোয়া কুনুত মুখস্থ না থাকলে কী করব?
যদি কারো দোয়া কুনুত মুখস্থ না থাকে, তবে তিনি সাময়িকভাবে এর পরিবর্তে অন্য কোনো দোয়া পড়তে পারেন। যেমন: "রাব্বানা আতিনা ফিদ দুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আজাবান নার" পাঠ করা যেতে পারে। অথবা তিনবার "আল্লাহুম্মাগফিরলী" বা "আল্লাহুম্মা আহদিনি" বলা যায়। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়; দোয়া কুনুত অনেক ফজিলতপূর্ণ একটি দোয়া, তাই দ্রুত এটি শুদ্ধভাবে মুখস্থ করে নেওয়া প্রতিটি মুসলিমের জন্য বাঞ্ছনীয়।
দোয়া কুনুত কোন নামাজে পড়া হয়?
দোয়া কুনুত মূলত এশার নামাজের পর তিন রাকাত বিতর নামাজের শেষ রাকাতে পাঠ করতে হয়। বিতর নামাজ ওয়াজিব এবং এতে দোয়া কুনুত পাঠ করাও একটি জরুরি আমল। এছাড়া বিশেষ কোনো বড় বিপদ বা দুর্যোগের সময় ফজরসহ অন্যান্য ফরয নামাজের শেষ রাকাতেও দোয়া কুনুত পাঠ করার বিধান রয়েছে, যাকে 'কুনুতে নাজেলা' বলা হয়। তবে সাধারণ অবস্থায় আমরা প্রতিদিন বিতর নামাজেই এটি পাঠ করি।
দোয়া কুনুত পড়ার ফজিলত কী?
দোয়া কুনুত অত্যন্ত অর্থবহ একটি মুনাজাত। এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে হেদায়েত, নিরাপত্তা এবং জীবনের সকল বরকতের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করে। এটি পাঠ করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকার করা হয় এবং শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার আশ্রয় চাওয়া হয়। বিপদের সময় এই দোয়া পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার ওপর রহমত নাযিল করেন এবং দুশ্চিন্তা ও মুসিবত দূর করে দেন।
দোয়া কুনুত পড়ার নিয়ম কী?
বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য কোনো সূরা মেলানোর পর 'আল্লাহু আকবার' বলে পুনরায় তাকবীর দিতে হয়। এই তাকবীরের সময় কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে আবার নাভির নিচে বাঁধতে হয়। এরপর দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে দোয়া কুনুত পাঠ করতে হয়। দোয়া পাঠ শেষ হলে রুকুতে যেতে হয়। হানাফী মাযহাব অনুযায়ী এটিই দোয়া কুনুত পড়ার প্রচলিত ও সঠিক নিয়ম।
Rashid
Hi, I am Rashid. I live in Sylhet. I am a government service holder by profession. Beyond my job, I am passionate about content writing and SEO. I also manage a blog on Google Blogger.