প্রতিটি মুসলিমের জন্য নামাজের শুদ্ধতা বজায় রাখতে পবিত্র কুরআনের ছোট সূরাগুলোর সঠিক পাঠ অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে সূরা নাস বাংলা উচ্চারণ জানা থাকলে অর্থ বুঝে তিলাওয়াত করা এবং মুখস্থ করা অনেক সহজ হয়ে যায়।
শয়তানের কুমন্ত্রণা এবং সব ধরণের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে এই সূরার গুরুত্ব অপরিসীম। আপনি যদি আপনার প্রাত্যহিক আমল এবং তিলাওয়াতকে আরও নিখুঁত করতে চান, তবে আজকের এই বিশেষ পোস্টটি আপনার জন্যই সাজানো হয়েছে।
সহজ ও নির্ভুল উচ্চারণের পাশাপাশি এই সূরার ফজিলত আপনার আত্মিক প্রশান্তি বৃদ্ধি করবে। আমরা এখানে প্রতিটি আয়াতের স্পষ্ট উচ্চারণ তুলে ধরেছি যেন আপনি খুব সহজেই এই পবিত্র সূরাটি আয়ত্ত করতে পারেন।
সূরা নাস বাংলা উচ্চারণ
আজকের এই ব্লগ পোস্টে আমরা সূরা নাসের বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ব্যাখ্যা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব, যা আপনাকে এর তাৎপর্য বুঝতে ও সঠিকভাবে তেলাওয়াত করতে সহায়তা করবে। সুতরাং বিসমিল্লাহ বলে সূরা পড়তে শুরু করুন।
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
উচ্চারণ: ক্বুল আ‘উযু বিরব্বিন্না-স।
অর্থ: বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের পালনকর্তার।
مَلِكِ النَّاسِ
উচ্চারণ: মালিকিন্না-স।
অর্থ: মানুষের অধিপতির।
إِلَٰهِ النَّاسِ
উচ্চারণ: ইলা-হিন্নাস।
অর্থ: মানুষের উপাস্যের।
مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ
উচ্চারণ: মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্না-স।
অর্থ: আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে।
الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ
উচ্চারণ: আল্লাযী ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন্না-স।
অর্থ: যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়।
مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
উচ্চারণ: মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-স।
অর্থ: জিনের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।
শেষ কথা
সূরা নাস হলো পবিত্র কোরআন শরীফের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ একটি সূরা। এই সূরার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নিকট শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তির জন্য সাহায্য প্রার্থনা করি। তাই আমাদের সকলের উচিত, এই সূরার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ জেনে নিয়মিত এই সূরাটি পাঠ করা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সূরা নাসের বার্তা সঠিকভাবে বুঝতে ও আমল করার তাওফিক দান করুন। আশা করি, এই ব্লগ পোস্টটি আপনাকে সূরা নাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সহায়তা করেছে। আপনি যদি এটি উপকারী মনে করেন, তাহলে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Frequently Asked Questions
সূরা নাসে 'খন্নাস' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
সূরা নাসের চতুর্থ আয়াতে 'খন্নাস' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর অর্থ হলো ‘পেছনে সরে যাওয়া বা আত্মগোপনকারী’। এখানে মূলত শয়তানকে বোঝানো হয়েছে। শয়তানের বৈশিষ্ট্য হলো, যখনই কোনো মানুষ আল্লাহকে স্মরণ করে বা জিকির করে, তখন সে ভয়ে পিছিয়ে যায় এবং আত্মগোপন করে। আবার মানুষ যখন গাফেল বা অসচেতন হয়ে যায়, তখন সে পুনরায় কুমন্ত্রণা দিতে ফিরে আসে। এই লুকোচুরির স্বভাবের কারণেই তাকে 'খন্নাস' বলা হয়।
জিন ও মানুষের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার উপায় কী?
সূরা নাসের শেষ দুই আয়াতে আল্লাহ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কুমন্ত্রণা কেবল জিন নয়, বরং মানুষের মধ্য থেকেও আসতে পারে। অনেক সময় আমাদের চারপাশের খারাপ সঙ্গীরা আমাদের মনে পাপাচারের চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়। এ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করা এবং নিয়মিত সূরা নাস পাঠ করা। এটি আমাদের মনে একটি অদৃশ্য আধ্যাত্মিক বর্ম তৈরি করে, যা বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ—উভয় প্রকার প্ররোচনা থেকে সুরক্ষা দেয়।
সূরা নাস কোন প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছিল?
সূরা নাস এবং সূরা ফালাক (যাদের একত্রে 'মুআউবিজাতাইন' বলা হয়) মূলত মদিনায় নাজিল হয়েছিল। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, ইহুদিরা যখন নবী করীম (সা.)-এর ওপর কালো জাদু বা বাণ মেরেছিল, তখন আল্লাহ তাআলা এই দুটি সূরা নাজিল করেন। এই সূরাগুলোর প্রতিটি আয়াত পাঠ করার মাধ্যমে সেই জাদুর বাঁধনগুলো খুলে যায়। মূলত জাদু-টোনা এবং শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্তির গাইডলাইন হিসেবেই এটি নাজিল হয়েছে।
প্রতিদিন কতবার সূরা নাস পাঠ করা উত্তম?
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী সূরা নাস পাঠের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারিত না থাকলেও কিছু বিশেষ সময়ে এটি পাঠ করা সুন্নাত। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর একবার, সকাল ও সন্ধ্যার জিকিরের সময় তিনবার এবং রাতে ঘুমানোর আগে তিনবার পাঠ করা অত্যন্ত সওয়াব ও নিরাপত্তার কাজ। এছাড়া যখনই মনে অস্থিরতা বা কুমন্ত্রণা জাগবে, তখনই এই সূরাটি পাঠ করলে তাৎক্ষণিক মানসিক প্রশান্তি লাভ করা যায়।
সূরা নাস পাঠ করার প্রধান ফজিলত কী?
সূরা নাস আল-কুরআনের সর্বশেষ সূরা এবং এর ফজিলত অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই সূরাটিকে অনিষ্ট থেকে বাঁচার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রধান ফজিলত হলো এটি পাঠ করলে জিন ও শয়তানের কুমন্ত্রণা, মানুষের কুদৃষ্টি এবং যাবতীয় গোপন অনিষ্ট থেকে আল্লাহর সরাসরি আশ্রয় লাভ করা যায়। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে এবং নামাজের পর এটি পাঠ করা সুন্নাত, যা মুমিন ব্যক্তিকে আধ্যাত্মিক নিরাপত্তা প্রদান করে।
Rashid
Hi, I am Rashid. I live in Sylhet. I am a government service holder by profession. Beyond my job, I am passionate about content writing and SEO. I also manage a blog on Google Blogger.