পবিত্র কুরআনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং বরকতময় একটি সূরা হলো সূরা ফালাক। নিয়মিত আমলের মাধ্যমে অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য সূরা ফালাক বাংলা উচ্চারণ জানা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অত্যন্ত জরুরি এবং সওয়াবের কাজ।
আপনার যদি আরবি পড়তে সমস্যা হয়, তবে বাংলা উচ্চারণের সাহায্য নেওয়া উত্তম। এই পোস্টে আমি শুদ্ধভাবে উচ্চারণের উপায় এবং এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি, যা আপনার তিলাওয়াতকে আরও নির্ভুল করতে সাহায্য করবে।
কুরআনের ছোট ছোট সূরাগুলো মুখস্থ রাখা কেবল ইবাদতের জন্য নয়, বরং শয়তানের কুমন্ত্রণা ও হিংসুকদের হাত থেকে বাঁচতেও সহায়ক। চলুন, এই সূরার প্রতিটি আয়াতের সঠিক উচ্চারণ এবং এর অন্তর্নিহিত ফজিলত সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
সূরা ফালাক বাংলা উচ্চারণ
নিয়মিত সূরা ফালাক পাঠ করলে আমরা মানসিক শান্তি লাভ করতে পারি এবং বিভিন্ন বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পেতে পারি। তাই, আমাদের সকলের উচিত নিয়মিত সূরা ফালাক পাঠ করা এবং এর শিক্ষাগুলো নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা।
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ
উচ্চারণ: ক্বুল আ‘উযু বিরব্বিল ফালাক্ব।
অর্থ: বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার।
مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ: মিন শাররি মা খালাক্ব।
অর্থ: তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে।
وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ
উচ্চারণ: ওয়া মিন শাররি গা-সিক্বিন ইযা- ওয়াক্বাব।
অর্থ: অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়।
وَمِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ
উচ্চারণ: ওয়া মিন শাররিন নাফফা-ছা-তি ফিল ‘উক্বাদ।
অর্থ: গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে।
وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
উচ্চারণ: ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা- হাসাদ।
অর্থ: এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।
শেষ কথা
সূরা ফালাক হলো মানবজীবনের জন্য এক বিশেষ উপহার। এই সূরার মাধ্যমে আমরা সকল প্রকার অনিষ্ট ও ক্ষতি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে পারি। আল্লাহর অপার দয়া লাভের জন্য প্রতিদিন সকালে ও রাতে এই সূরাটি পাঠ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা যদি এর অর্থ ও তাৎপর্য বুঝে পড়তে পারি, তবে আমাদের বিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সূরা ফালাকের শিক্ষাগুলো গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন এবং সেই মোতাবেক আমল করার তৌফিক দান করুন, আমিন। 💖
Frequently Asked Questions
হিংসুকের অনিষ্ট থেকে সূরা ফালাক কীভাবে সুরক্ষা দেয়?
এই সূরার শেষ আয়াতে বিশেষভাবে হিংসুকের হিংসা থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। হিংসা এমন একটি ব্যাধি যা মানুষের নেক আমলগুলোকে পুড়িয়ে দেয় এবং হিংসুক ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। যখন কোনো ব্যক্তি সূরা ফালাক পাঠ করে, তখন সে আল্লাহর এক বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে চলে আসে। ফলে হিংসুক ব্যক্তির কুনজর বা কোনো অশুভ পরিকল্পনা পাঠকারীর কোনো ক্ষতি করতে পারে না। এটি একটি আধ্যাত্মিক ঢাল হিসেবে কাজ করে।
জাদুটোনা থেকে বাঁচতে সূরা ফালাক পড়ার নিয়ম কী?
জাদুটোনা বা কুনজর (বুনজর) থেকে বাঁচতে প্রতিদিন সকাল এবং সন্ধ্যায় তিনবার করে সূরা ফালাক, সূরা নাস এবং সূরা ইখলাস পাঠ করা সুন্নত। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে এই সূরাগুলো পড়ে হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কার্যকরী। যদি কেউ নিয়মিত এই আমলটি করে, তবে ইনশাআল্লাহ সে যেকোনো প্রকার শয়তানি প্রভাব বা কুপ্রভাব থেকে নিরাপদ থাকবে।
সূরা ফালাক ও সূরা নাস-এর মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
যদিও এই দুটি সূরাকে ‘মুআউবিযাতাইন’ বা আশ্রয় প্রার্থনার সূরা বলা হয়, তবুও এদের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। সূরা ফালাক মূলত বাইরের অনিষ্ট যেমন— প্রাকৃতিক বিপদ, অন্ধকার, জাদু এবং অন্যের হিংসা থেকে নিরাপত্তার জন্য পাঠ করা হয়। অন্যদিকে, সূরা নাস মানুষের অন্তরের ভেতরের অনিষ্ট বা কুপ্ররোচনা (ওয়াসওয়াসা) থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার জন্য নাযিল হয়েছে। অর্থাৎ একটি বাহ্যিক নিরাপত্তার জন্য এবং অন্যটি আত্মিক বা মানসিক নিরাপত্তার জন্য।
সূরা ফালাকে কোন অনিষ্ট থেকে মুক্তি চাওয়া হয়?
সূরা ফালাকে নির্দিষ্ট চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। প্রথমত, আল্লাহর সৃষ্ট সমস্ত অনিষ্ট থেকে। দ্বিতীয়ত, অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে যখন তা গভীর হয়। তৃতীয়ত, যারা গিঁট দিয়ে ফুঁ দেয় বা কালো জাদু করে তাদের অনিষ্ট থেকে। এবং চতুর্থত, হিংসুকের হিংসা থেকে। এই সূরাটি আমাদের শেখায় যে কোনো বিপদ বা অলৌকিক শক্তির ভয়ে ভীত না হয়ে সরাসরি সৃষ্টিকর্তার কাছে নিরাপত্তা চাইতে হবে।
সূরা ফালাক নাযিলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট কী?
নির্ভরযোগ্য বর্ণনা অনুযায়ী, যখন জনৈক ইহুদি লাবীদ বিন আসাম মহানবী (সা.)-এর ওপর কালো জাদু বা সিহর করেছিল, তখন আল্লাহ তাআলা এই সূরাটি এবং সূরা নাস নাযিল করেন। এই দুটি সূরাকে একত্রে ‘মুআউবিযাতাইন’ বলা হয়। জাদুর প্রভাবে মহানবী (সা.) শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ বোধ করছিলেন, কিন্তু এই সূরাগুলো পাঠ করার পর তিনি অলৌকিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। এই প্রেক্ষাপট থেকেই বোঝা যায় যে এটি জাদুর প্রভাব কাটাতে কতটা কার্যকরী।
সূরা ফালাক পাঠ করার মূল ফজিলত কী?
সূরা ফালাক পবিত্র কুরআনের ১১৪তম সূরা এবং এটি একটি শক্তিশালী ‘শাফা’ বা নিরাময়কারী সূরা। এই সূরার মূল গুরুত্ব হলো এটি মানুষকে দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান সমস্ত অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুমানোর আগে এবং অসুস্থ অবস্থায় এই সূরাটি পাঠ করতেন। এটি পাঠ করার মাধ্যমে হিংসুক ব্যক্তির হিংসা, জাদুটোনা এবং রাতের অন্ধকারের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আত্মিক প্রশান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মুমিনের জীবনে এই সূরার গুরুত্ব অপরিসীম।
Rashid
Hi, I am Rashid. I live in Sylhet. I am a government service holder by profession. Beyond my job, I am passionate about content writing and SEO. I also manage a blog on Google Blogger.