সূরা মূলক বাংলা উচ্চারণ

শান্তিময় জীবনের জন্য নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে সূরা মূলক বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ পাঠ করলে এর ফজিলত অনুধাবন করা সহজ হয়। পরকালের মুক্তি এবং কবরের আজাব থেকে বাঁচতে এই সূরাটি বিশেষ ভূমিকা রাখে।

শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করতে না জানলে শুধু আরবি দেখে পড়া কঠিন হতে পারে। আপনার সুবিধার্থে আমরা এখানে নির্ভুল উচ্চারণ ও অর্থ তুলে ধরেছি। এটি আপনাকে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে তিলাওয়াত করার অভ্যাস গড়তে সাহায্য করবে।

কুরআনের এই গুরুত্বপূর্ণ সূরাটি নিয়মিত পাঠ করলে ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি পায়। সহীহভাবে তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব। চলুন তবে দেরি না করে আপনার প্রতিদিনের আমলের সুবিধার্থে এই সূরার মূল আলোচনা এবং তিলাওয়াত শুরু করা যাক।

সূরা মূলক বাংলা উচ্চারণ

এই আর্টিকেলটিতে সূরা মূলক বাংলা উচ্চারণ এবং বাংলা অর্থ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো, যাতে আপনারা এই সূরার মর্মার্থ বুঝতে পারেন এবং এর ফজিলত লাভ করতে পারেন। সূরা শুরু করার পূর্বে অবশ্যই বিসমিল্লাহ পড়ে শুরু করবেন।

تَبَارَكَ ٱلَّذِى بِيَدِهِ ٱلْمُلْكُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: তাবা-রাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলকু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।
অর্থ: বরকতময় তিনি, যাঁর হাতে রাজত্ব। আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلْمَوْتَ وَٱلْحَيَوٰةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ۚ وَهُوَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْغَفُورُ
উচ্চারণ: আল্লাযী খালাকাল মাওতা ওয়াল হাইয়া-তা লিইয়াবলুওয়াকুম আইয়ুকুম আহসানু ‘আমালাওঁ; ওয়া হুয়াল ‘আযীযুল গাফূর।
অর্থ: যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন যে, তোমাদের মধ্যে কে আমলের দিক থেকে উত্তম। আর তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।
ٱلَّذِى خَلَقَ سَبْعَ سَمَٰوَٰتٍ طِبَاقًا ۖ مَّا تَرَىٰ فِى خَلْقِ ٱلرَّحْمَٰنِ مِن تَفَٰوُتٍ ۖ فَٱرْجِعِ ٱلْبَصَرَ هَلْ تَرَىٰ مِن فُطُورٍ
উচ্চারণ: আল্লাযী খালাকা সাব‘আ সামা-ওয়া-তিন তিবা-ক্বা; মা তারা- ফী খালক্বির রাহমা-নি মিন তাফা-উত; ফারজি‘ইল বাসারা হাল তারা- মিন ফুতূর।
অর্থ: যিনি স্তরে স্তরে সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন। দয়াময়ের সৃষ্টিতে তুমি কোনো খুঁত দেখতে পাবে না। তুমি আবার দৃষ্টি ফিরাও, কোনো ত্রুটি দেখতে পাও কি?
 
ثُمَّ ٱرْجِعِ ٱلْبَصَرَ كَرَّتَيْنِ يَنقَلِبْ إِلَيْكَ ٱلْبَصَرُ خَاسِئًا وَهُوَ حَسِيرٌ
উচ্চারণ: ছুম্মারজি‘ইল বাসারা কাররাতাইন ইয়ানক্বালিব ইলাইকাল বাসারু খা-সিআওঁ ওয়া হুয়া হাসীর।
অর্থ: অতঃপর তুমি আবার দৃষ্টি ফিরাও একের পর এক, তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।
وَلَقَدْ زَيَّنَّا ٱلسَّمَآءَ ٱلدُّنْيَا بِمَصَٰبِيحَ وَجَعَلْنَٰهَا رُجُومًا لِّلشَّيَٰطِينِ ۖ وَأَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابَ ٱلسَّعِيرِ
উচ্চারণ: ওয়া লাক্বাদ যাইয়্যান্নাস সামাআদ্দুনইয়া- বিমাসাবীহা ওয়া জা‘আলনা-হা রুজূমাল লিশশাইয়া-ত্বীনি ওয়া আ‘তাদনা- লাহুম ‘আযা-বাস সা‘ঈর।
অর্থ: আর অবশ্যই আমি নিকটবর্তী আসমানকে প্রদীপসমূহ দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং সেগুলোকে শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপের বস্তু বানিয়েছি। আর আমি তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি প্রস্তুত রেখেছি।
 
وَلِلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِرَبِّهِمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ ۖ وَبِئْسَ ٱلْمَصِيرُ
উচ্চারণ: ওয়ালিল্লাযীনা কাফারূ বিরব্বিহিম ‘আযা-বু জাহান্নামা ওয়া বি’সাল মাসীর।
অর্থ: আর যারা তাদের রবকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। আর কতই না নিকৃষ্ট সেই প্রত্যাবর্তনস্থল।
إِذَآ أُلْقُوا۟ فِيهَا سَمِعُوا۟ لَهَا شَهِيقًا وَهِىَ تَفُورُ
উচ্চারণ: ইযা য়্যুলকূ ফীহা- সামি‘ঊ লাহা- শাহীক্বাওঁ ওয়া হিয়া তাফূর।
অর্থ: যখন তাদেরকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা তার বিকট শব্দ শুনতে পাবে। আর তা উথাল-পাথাল করতে থাকবে।
تَكَادُ تَمَيَّزُ مِنَ ٱلْغَيْظِ ۖ كُلَّمَآ أُلْقِىَ فِيهَا فَوْجٌ سَأَلَهُمْ خَزَنَتُهَآ أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَذِيرٌ
উচ্চারণ: তাকা-দু তামাইয়্যাযু মিনাল গাইয; কুল্লামা য়্যুলকিয়া ফীহা- ফাওজুন সাআলাহুম খাযানাতুহা য়্যালাম ইয়াতিকুম নাযীর।
অর্থ: ক্রোধে তা ফেটে পড়ার উপক্রম হবে। যখনই তাতে কোনো দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার প্রহরীরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আসেনি?’
قَالُوا۟ بَلَىٰ قَدْ جَآءَنَا نَذِيرٌ فَكَذَّبْنَا وَقُلْنَا مَا نَزَّلَ ٱللَّهُ مِن شَىْءٍ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا فِى ضَلَٰلٍ كَبِيرٍ
উচ্চারণ: ক্বা-লূ বালা- ক্বাদ জাআনা- নাযীরুন ফাকাযযাবনা- ওয়া ক্বুলনা- মা- নায্যালাল্লা-হু মিন শাইয়িন ইন আনতুম ইল্লা- ফী দ্বালা-লিল কাবীর।
অর্থ: তারা বলবে, ‘অবশ্যই আমাদের কাছে সতর্ককারী এসেছিল, কিন্তু আমরা তাকে মিথ্যাবাদী বলেছি এবং বলেছি, ‘আল্লাহ কিছুই নাজিল করেননি। তোমরা তো ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছ’।
وَقَالُوا۟ لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِىٓ أَصْحَٰبِ ٱلسَّعِيرِ
উচ্চারণ: ওয়া ক্বা-লূ লাও কুন্না- নাসমা‘উ আও না‘ক্বিলু মা- কুন্না- ফী য়আসহা-বিস সা‘ঈর।
অর্থ: আর তারা বলবে, ‘যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের মধ্যে থাকতাম না’।
فَٱعْتَرَفُوا۟ بِذَنۢبِهِمْ فَسُحْقًا لِّأَصْحَٰبِ ٱلسَّعِيرِ
উচ্চারণ: ফা‘তারাফূ বিযামবিহিম ফাসুহক্বাল লিআসহা-বিস সা‘ঈর।
অর্থ: অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। অতএব, জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের জন্য ধ্বংস।
إِنَّ ٱلَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِٱلْغَيْبِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ
উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযীনা ইয়াখশাওনা রাব্বাহুম বিলগাইবি লাহুম মাগফিরাতুওঁ ওয়া আজরুন কাবীর।
অর্থ: নিশ্চয়ই যারা তাদের রবকে না দেখে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান।
وَأَسِرُّوا۟ قَوْلَكُمْ أَوِ ٱجْهَرُوا۟ بِهِۦٓ ۖ إِنَّهُۥ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ
উচ্চারণ: ওয়া আসিররূ ক্বাওলাকুম আওজহারূ বিহী য়ইন্নাহূ ‘আলীমুম বিযা-তিস সুদূর।
অর্থ: আর তোমরা তোমাদের কথা গোপন কর অথবা তা প্রকাশ্যে বল, নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের গোপন বিষয় সম্পর্কেও সম্যক অবগত।
أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ ٱللَّطِيفُ ٱلْخَبِيرُ
উচ্চারণ: আলা- ইয়া‘লামু মান খালাক্বা ওয়া হুয়াল লাত্বীফুল খাবীর।
অর্থ: যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানেন না? অথচ তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবগত।
هُوَ ٱلَّذِى جَعَلَ لَكُمُ ٱلْأَرْضَ ذَلُولًا فَٱمْشُوا۟ فِى مَنَاكِبِهَا وَكُلُوا۟ مِن رِّزْقِهِۦ ۖ وَإِلَيْهِ ٱلنُّشُورُ
উচ্চারণ: হুওয়াল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদ্বোয়া যালূলান ফামশূ ফী মানা-কিবিহা- ওয়া কুলূ মির রিযক্বিহী ওয়া ইলাইহিন নুশূর।
অর্থ: তিনিই তো তোমাদের জন্য ভূমিকে সুগম করেছেন, অতএব তোমরা এর পথে-প্রান্তরে বিচরণ কর এবং তাঁর রিজিক থেকে আহার কর। আর তাঁর কাছেই পুনরুত্থান।
أَأَمِنتُم مَّن فِى ٱلسَّمَآءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ ٱلْأَرْضَ فَإِذَا هِىَ تَمُورُ
উচ্চারণ: আআমিনতুম মান ফিস সামাআ য়আঁই ইয়াখসিফা বিকুমুল আরদ্বোয়া ফাইযা- হিয়া তামূর।
অর্থ: তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ যে, যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদেরসহ ভূমিকে ধসিয়ে দেবেন না? অতঃপর আকস্মিকভাবে তা থরথর করে কাঁপতে থাকবে।
أَمْ أَمِنتُم مَّن فِى ٱلسَّمَآءِ أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا ۖ فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرِ
উচ্চারণ: আম আমিনতুম মান ফিস সামাআ আইঁ ইউরসিলা ‘আলাইকুম হা-সিবান ফাসাতা‘লামূনা কাইফা নাযীর।
অর্থ: নাকি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ যে, যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের উপর পাথরকুচি বর্ষণকারী ঝড়ো হাওয়া পাঠাবেন না? সুতরাং তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী।
وَلَقَدْ كَذَّبَ ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ
উচ্চারণ: ওয়া লাক্বাদ কাযযাবাল্লাযীনা মিন ক্বাবলিহিম ফাকাইফা কা-না নাকীর।
অর্থ: আর নিশ্চয়ই তাদের পূর্বে যারা ছিল, তারা অস্বীকার করেছিল। সুতরাং কেমন ছিল আমার প্রত্যাখ্যান।
أَوَلَمْ يَرَوْا۟ إِلَى ٱلطَّيْرِ فَوْقَهُمْ صَٰٓفَّٰتٍ وَيَقْبِضْنَ ۚ مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا ٱلرَّحْمَٰنُ ۚ إِنَّهُۥ بِكُلِّ شَىْءٍۭ بَصِيرٌ
উচ্চারণ: আওয়ালাম ইয়ারাও ইলাত ত্বাইরি ফাওক্বাহুম স্বোয়া-ফফা-তিওঁ ওয়া ইয়াক্ববিদন; মা- ইউমসিকুহুন্না ইল্লার রাহমা-ন; ইন্নাহূ বিকুল্লি শাইয়িম বাসীর।
অর্থ: তারা কি তাদের উপর উড়ন্ত পাখিদের প্রতি লক্ষ্য করে না? যারা ডানা বিস্তার করে ও গুটিয়ে নেয়? দয়াময় ছাড়া অন্য কেউ তাদেরকে ধরে রাখে না। নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর সম্যক দ্রষ্টা।
 
أَمَّنْ هَٰذَا ٱلَّذِى هُوَ جُندٌ لَّكُمْ يَنصُرُكُم مِّن دُونِ ٱلرَّحْمَٰنِ ۚ إِنِ ٱلْكَٰفِرُونَ إِلَّا فِى غُرُورٍ
উচ্চারণ: আম্মান হা-যাল্লাযী হুয়া জুনদুন লাকুম ইয়ানসুরুকুম মিন দূনির রাহমা-ন; ইনিল কা-ফিরূনা ইল্লা- ফী গুরূর।
অর্থ: দয়াময় ছাড়া তোমাদের কি এমন কোনো সৈন্য আছে, যারা তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারে? কাফিররা তো শুধু ধোঁকার মধ্যেই নিপতিত।
أَمَّنْ هَٰذَا ٱلَّذِى يَرْزُقُكُمْ إِنْ أَمْسَكَ رِزْقَهُۥ ۚ بَل لَّجُّوا۟ فِى عُتُوٍّ وَنُفُورٍ
উচ্চারণ: আম্মান হা-যাল্লাযী ইয়ারযুক্বুকুম ইন আমসাকা রিযক্বাহূ; বাল লাজ্জূ ফী ‘উতুওঁ ওয়া নুফূর।
অর্থ: অথবা কে সে, যে তোমাদেরকে রিজিক দেবে, যদি তিনি তাঁর রিজিক বন্ধ করে দেন? বরং তারা অবাধ্যতা ও বিমুখতায় ডুবে আছে।
أَفَمَن يَمْشِى مُكِبًّا عَلَىٰ وَجْهِهِۦٓ أَهْدَىٰٓ أَمَّن يَمْشِى سَوِيًّا عَلَىٰ صِرَٰطٍ مُّسْتَقِيمٍ
উচ্চারণ: আফামাইঁ ইয়ামশী মুকিব্বান ‘আলা- ওয়াজহিহী য়আহদা য়আমমাইঁ ইয়ামশী সাওয়ীয়ান ‘আলা- সিরা-তিম মুসতাকীম।
অর্থ: যে ব্যক্তি উপুড় হয়ে মুখের উপর ভর দিয়ে চলে, সে কি সৎপথে চলে, নাকি যে ব্যক্তি সোজা হয়ে সরল পথে চলে?
قُلْ هُوَ ٱلَّذِىٓ أَنشَأَكُمْ وَجَعَلَ لَكُمُ ٱلسَّمْعَ وَٱلْأَبْصَٰرَ وَٱلْأَفْـِٔدَةَ ۖ قَلِيلًا مَّا تَشْكُرُونَ
উচ্চারণ: ক্বুল হুওয়াল্লাযী য়আনশায়াকুম ওয়া জা‘আলা লাকুমুস সাম‘আ ওয়াল আবস্বোয়া-রা ওয়াল আফয়িদাহ; ক্বালীলাম মা- তাশকুরূন।
অর্থ: বল, ‘তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ সৃষ্টি করেছেন। তোমরা খুব অল্পই শোকর কর’।
قُلْ هُوَ ٱلَّذِى ذَرَأَكُمْ فِى ٱلْأَرْضِ وَإِلَيْهِ تُحْشَرُونَ
উচ্চারণ: ক্বুল হুওয়াল্লাযী যারাআকুম ফিল আরদ্বি ওয়া ইলাইহি তুহশারূন।
অর্থ: বল, ‘তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদেরকে একত্র করা হবে’।
وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَٰذَا ٱلْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ
উচ্চারণ: ওয়া ইয়াক্বূলূনা মাতা- হা-যাল ওয়া‘দু ইন কুনতুম স্বোয়া-দিক্বীন।
অর্থ: আর তারা বলে, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে বল, এই ওয়াদা কখন বাস্তবায়িত হবে’?
قُلْ إِنَّمَا ٱلْعِلْمُ عِندَ ٱللَّهِ وَإِنَّمَآ أَنَا۠ نَذِيرٌ مُّبِينٌ
উচ্চারণ: ক্বুল ইন্নামাল ‘ইলমু ‘ইন্দাল্লা-হি ওয়া ইন্নামা য়আনা- নাযীরুম মুবীন।
অর্থ: বল, ‘এর জ্ঞান তো শুধু আল্লাহর কাছেই রয়েছে এবং আমি তো স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র’।
فَلَمَّا رَأَوْهُ زُلْفَةً سِيٓـَٔتْ وُجُوهُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ وَقِيلَ هَٰذَا ٱلَّذِى كُنتُم بِهِۦ تَدَّعُونَ
উচ্চারণ: ফালাম্মা- রাআওহু জুলফাতান সীয়াত উজূহুল্লাযীনা কাফারূ ওয়া ক্বীলা হা-যাল্লাযী কুনতুম বিহী তাদ্দা‘ঊন।
অর্থ: অতঃপর যখন তারা তা নিকটবর্তী দেখবে, তখন কাফিরদের চেহারা মলিন হয়ে যাবে এবং বলা হবে, ‘এটাই তো তোমরা চাইতে’।
قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِنْ أَهْلَكَنِىَ ٱللَّهُ وَمَن مَّعِىَ أَوْ رَحِمَنَا فَمَن يُجِيرُ ٱلْكَٰفِرِينَ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ
উচ্চারণ: ক্বুল আরাআইতুম ইন আহলাকানিয়াল্লা-হু ওয়ামাম মা‘ইয়া আও রাহিমা-না- ফামাইঁ ইউজীরুল কা-ফিরীনা মিন ‘আযা-বিন আলীম।
অর্থ: বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি আল্লাহ আমাকে ও আমার সঙ্গীদেরকে ধ্বংস করেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া করেন, তবে কাফিরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে কে রক্ষা করবে’?
قُلْ هُوَ ٱلرَّحْمَٰنُ ءَامَنَّا بِهِۦ وَعَلَيْهِ تَوَكَّلْنَا ۖ فَسَتَعْلَمُونَ مَنْ هُوَ فِى ضَلَٰلٍ مُّبِينٍ
উচ্চারণ: ক্বুল হুওয়ার রাহমা-নু আ-মান্না- বিহী ওয়া ‘আলাইহি তাওয়াক্কালনা- ফাসাতা‘লামূনা মান হুয়া ফী দ্বালা-লিম মুবীন।
অর্থ: বল, ‘তিনিই দয়াময়, আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর উপরই ভরসা করি। সুতরাং তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছে’।
قُلْ أَرَءَيْتُمْ إِنْ أَصْبَحَ مَآؤُكُمْ غَوْرًا فَمَن يَأْتِيكُم بِمَآءٍ مَّعِينٍۭ
উচ্চারণ: ক্বুল আরাআইতুম ইন আসবাহা মাউকুম গাওরান ফামাইঁ ইয়াতীকুম বিমা-য়িম মা‘ঈন।
অর্থ: বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভে ঢুকে যায়, তবে কে তোমাদের জন্য ঝরণার পানি এনে দেবে’?

শেষ কথা

কুরআনের প্রতিটি আয়াত আমাদের হৃদয়ে প্রশান্তি জোগায়। সহীহ ও শুদ্ধভাবে সূরা মূলক বাংলা উচ্চারণ শিখে নেওয়া এবং এর মর্মার্থ বোঝা প্রতিটি মুসলিমের জন্য কল্যাণকর। এটি আপনার আমলনামাকে সমৃদ্ধ করবে এবং পরকালীন যাত্রাকে সহজ করে তুলবে।

আমাদের সংগ্রহ করা এই তথ্যগুলো যদি আপনার তিলাওয়াত সহজ করে থাকে, তবে দেরি না করে এখনই প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে এই সূরাটির তিলাওয়াত ও ফজিলত ছড়িয়ে দিয়ে অন্যদেরও আল্লাহর পথে অনুপ্রাণিত করতে এবং সওয়াব অর্জনে সহায়তা করুন।


Frequently Asked Questions

রাতে ঘুমানোর আগে সূরা মূলক পড়ার গুরুত্ব কি?
ঘুমানোর আগে সূরা মূলক পাঠ করা সুন্নাহ। নবী করীম (সা.) সূরা মূলক এবং সূরা সাজদাহ পাঠ না করে ঘুমাতে যেতেন না। যেহেতু রাতের ইবাদত ও তিলাওয়াত কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং কবরের নিঃসঙ্গতায় এই সূরাই পরম বন্ধু হবে, তাই ঘুমানোর আগের এই আমলটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ।
এই সূরাটি কি কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে?
নিশ্চিতভাবেই সূরা মূলক কিয়ামতের কঠিন ময়দানে তার পাঠকারীর পক্ষে আল্লাহর দরবারে জোরালো সুপারিশ করবে। বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, এই সূরাটি আল্লাহর সাথে ঝগড়া বা তর্কে লিপ্ত হবে (এক প্রকার আলঙ্কারিক অর্থ) যতক্ষণ না তার পাঠককে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়। এটি মূলত এই সূরার বিশেষ আধ্যাত্মিক শক্তিকে নির্দেশ করে।
সূরা মূলক নিয়মিত পাঠ করার ফজিলত কী?
সূরা মূলক নিয়মিত পাঠ করার সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো এটি কবরের আজাব থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায়, এই সূরাটি তার পাঠকারীর জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। মূলত এটি পরকালের কঠিন সময়ে মুমিনের জন্য একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
সূরা মূলক পড়ার সঠিক সময় কোনটি?
সূরা মূলক দিনের যেকোনো সময় পড়া যায়, তবে এশার নামাজের পর বা রাতে ঘুমানোর আগে পাঠ করা সর্বোত্তম এবং সুন্নাহসম্মত। পড়ার সময় তাজবিদ বজায় রেখে ধীরস্থিরে তিলাওয়াত করা উচিত। যদি কেউ দেখে পড়তে না পারেন, তবে মুখস্থ তিলাওয়াত করলেও সমান সওয়াব পাওয়া যাবে। সবথেকে ভালো হয় যদি অন্তত আয়াতগুলোর সংক্ষিপ্ত অর্থ জেনে পড়া যায়।
সূরা মূলক পাঠে কি গুনাহ মাফ হয়?
হ্যাঁ, হাদিস শরীফে এসেছে যে আল-কুরআনে ৩০ আয়াত বিশিষ্ট এমন একটি সূরা আছে, যা কোনো ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়; আর সেই সূরাটি হলো সূরা মূলক। অর্থাৎ শুদ্ধ চিত্তে ও অর্থের দিকে খেয়াল রেখে এই সূরাটি নিয়মিত তিলাওয়াত করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার অতীত গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।
Next Post Previous Post