শান্তিময় জীবনের জন্য নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে সূরা মূলক বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ পাঠ করলে এর ফজিলত অনুধাবন করা সহজ হয়। পরকালের মুক্তি এবং কবরের আজাব থেকে বাঁচতে এই সূরাটি বিশেষ ভূমিকা রাখে।
শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করতে না জানলে শুধু আরবি দেখে পড়া কঠিন হতে পারে। আপনার সুবিধার্থে আমরা এখানে নির্ভুল উচ্চারণ ও অর্থ তুলে ধরেছি। এটি আপনাকে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে তিলাওয়াত করার অভ্যাস গড়তে সাহায্য করবে।
কুরআনের এই গুরুত্বপূর্ণ সূরাটি নিয়মিত পাঠ করলে ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি পায়। সহীহভাবে তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব। চলুন তবে দেরি না করে আপনার প্রতিদিনের আমলের সুবিধার্থে এই সূরার মূল আলোচনা এবং তিলাওয়াত শুরু করা যাক।
সূরা মূলক বাংলা উচ্চারণ
এই আর্টিকেলটিতে সূরা মূলক বাংলা উচ্চারণ এবং বাংলা অর্থ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো, যাতে আপনারা এই সূরার মর্মার্থ বুঝতে পারেন এবং এর ফজিলত লাভ করতে পারেন। সূরা শুরু করার পূর্বে অবশ্যই বিসমিল্লাহ পড়ে শুরু করবেন।
অর্থ: আর অবশ্যই আমি নিকটবর্তী আসমানকে প্রদীপসমূহ দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং সেগুলোকে শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপের বস্তু বানিয়েছি। আর আমি তাদের জন্য জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি প্রস্তুত রেখেছি।
অর্থ: ক্রোধে তা ফেটে পড়ার উপক্রম হবে। যখনই তাতে কোনো দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার প্রহরীরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আসেনি?’
অর্থ: তারা বলবে, ‘অবশ্যই আমাদের কাছে সতর্ককারী এসেছিল, কিন্তু আমরা তাকে মিথ্যাবাদী বলেছি এবং বলেছি, ‘আল্লাহ কিছুই নাজিল করেননি। তোমরা তো ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছ’।
অর্থ: নাকি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ যে, যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের উপর পাথরকুচি বর্ষণকারী ঝড়ো হাওয়া পাঠাবেন না? সুতরাং তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী।
অর্থ: তারা কি তাদের উপর উড়ন্ত পাখিদের প্রতি লক্ষ্য করে না? যারা ডানা বিস্তার করে ও গুটিয়ে নেয়? দয়াময় ছাড়া অন্য কেউ তাদেরকে ধরে রাখে না। নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর সম্যক দ্রষ্টা।
অর্থ: বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি আল্লাহ আমাকে ও আমার সঙ্গীদেরকে ধ্বংস করেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া করেন, তবে কাফিরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে কে রক্ষা করবে’?
অর্থ: বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভে ঢুকে যায়, তবে কে তোমাদের জন্য ঝরণার পানি এনে দেবে’?
শেষ কথা
কুরআনের প্রতিটি আয়াত আমাদের হৃদয়ে প্রশান্তি জোগায়। সহীহ ও শুদ্ধভাবে সূরা মূলক বাংলা উচ্চারণ শিখে নেওয়া এবং এর মর্মার্থ বোঝা প্রতিটি মুসলিমের জন্য কল্যাণকর। এটি আপনার আমলনামাকে সমৃদ্ধ করবে এবং পরকালীন যাত্রাকে সহজ করে তুলবে।
আমাদের সংগ্রহ করা এই তথ্যগুলো যদি আপনার তিলাওয়াত সহজ করে থাকে, তবে দেরি না করে এখনই প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে এই সূরাটির তিলাওয়াত ও ফজিলত ছড়িয়ে দিয়ে অন্যদেরও আল্লাহর পথে অনুপ্রাণিত করতে এবং সওয়াব অর্জনে সহায়তা করুন।
Frequently Asked Questions
রাতে ঘুমানোর আগে সূরা মূলক পড়ার গুরুত্ব কি?
ঘুমানোর আগে সূরা মূলক পাঠ করা সুন্নাহ। নবী করীম (সা.) সূরা মূলক এবং সূরা সাজদাহ পাঠ না করে ঘুমাতে যেতেন না। যেহেতু রাতের ইবাদত ও তিলাওয়াত কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং কবরের নিঃসঙ্গতায় এই সূরাই পরম বন্ধু হবে, তাই ঘুমানোর আগের এই আমলটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ।
এই সূরাটি কি কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে?
নিশ্চিতভাবেই সূরা মূলক কিয়ামতের কঠিন ময়দানে তার পাঠকারীর পক্ষে আল্লাহর দরবারে জোরালো সুপারিশ করবে। বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, এই সূরাটি আল্লাহর সাথে ঝগড়া বা তর্কে লিপ্ত হবে (এক প্রকার আলঙ্কারিক অর্থ) যতক্ষণ না তার পাঠককে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়। এটি মূলত এই সূরার বিশেষ আধ্যাত্মিক শক্তিকে নির্দেশ করে।
সূরা মূলক নিয়মিত পাঠ করার ফজিলত কী?
সূরা মূলক নিয়মিত পাঠ করার সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো এটি কবরের আজাব থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায়, এই সূরাটি তার পাঠকারীর জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। মূলত এটি পরকালের কঠিন সময়ে মুমিনের জন্য একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
সূরা মূলক পড়ার সঠিক সময় কোনটি?
সূরা মূলক দিনের যেকোনো সময় পড়া যায়, তবে এশার নামাজের পর বা রাতে ঘুমানোর আগে পাঠ করা সর্বোত্তম এবং সুন্নাহসম্মত। পড়ার সময় তাজবিদ বজায় রেখে ধীরস্থিরে তিলাওয়াত করা উচিত। যদি কেউ দেখে পড়তে না পারেন, তবে মুখস্থ তিলাওয়াত করলেও সমান সওয়াব পাওয়া যাবে। সবথেকে ভালো হয় যদি অন্তত আয়াতগুলোর সংক্ষিপ্ত অর্থ জেনে পড়া যায়।
সূরা মূলক পাঠে কি গুনাহ মাফ হয়?
হ্যাঁ, হাদিস শরীফে এসেছে যে আল-কুরআনে ৩০ আয়াত বিশিষ্ট এমন একটি সূরা আছে, যা কোনো ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়; আর সেই সূরাটি হলো সূরা মূলক। অর্থাৎ শুদ্ধ চিত্তে ও অর্থের দিকে খেয়াল রেখে এই সূরাটি নিয়মিত তিলাওয়াত করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার অতীত গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।
Rashid
Hi, I am Rashid. I live in Sylhet. I am a government service holder by profession. Beyond my job, I am passionate about content writing and SEO. I also manage a blog on Google Blogger.