তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত ও নিয়ম

আপনার আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত ও নিয়ম সঠিকভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি। শেষ রাতের এই ইবাদত আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। গভীর মনোযোগ দিয়ে এই নামাজ পড়লে মনের প্রশান্তি এবং অশেষ সওয়াব পাওয়া যায়।

আল্লাহর সাথে গোপন কথোপকথনের এই বিশেষ সময়টি আপনার জীবন বদলে দিতে পারে। অনেক সময় সঠিক নিয়ম না জানায় আমরা এই মহান ইবাদত থেকে বঞ্চিত হই। তাই আজকের এই আলোচনা আপনার সকল সংশয় দূর করতে সাহায্য করবে।

প্রতিটি মুসলিমের উচিত এই নামাজের গুরুত্ব অনুধাবন করে তা নিয়মিত আদায় করার চেষ্টা করা। চলুন, অত্যন্ত সহজভাবে এই নামাজের ধাপগুলো এবং রাসুল (সা.) এর দেখানো পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই এবং আমল করার প্রস্তুতি গ্রহণ করি।

তাহাজ্জুদ নামাজ কী?

তাহাজ্জুদ নামাজ হলো এক বিশেষ নফল ইবাদত, যা রাতের শেষ অংশে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে আদায় করা হয়। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত, যা তিনি নিয়মিত পড়তেন এবং উম্মতকে আদায় করতে উৎসাহিত করেছেন।

তাহাজ্জুদ নামাজের সময় এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত। তবে শেষ রাত, বিশেষ করে রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ সময় সবচেয়ে উত্তম সময় বলে গণ্য হয়।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত

نَوَايْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلَّّهِ تَعَالَى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ التَّهَجُّدِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللَّهِ تَعَالَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللَّهُ اَكْبَرُ
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসালি্লয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকা’আতাই সালাতিল তাহাজ্জুদী সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলাজিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।
বাংলা: আমি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে দুই রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করছি, আল্লাহু আকবার।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোন সুরা নেই। যে কোন সুরা দিয়েই এই নামাজ আদায় করা যাবে। তবে যদি বড় সুরা বা আয়াত মুখস্ত থাকে, তবে সেগুলো দিয়ে পড়াই উত্তম। কারন রাসুল (সাঃ) সব সময় বড় বড় সুরা দিয়ে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন। তাই আমাদেরও বড় সুরা মুখুস্ত করে, তা দিয়ে তাহাজ্জুত নামাদ আদায় করা উচিৎ।

যাইহোক, বড় সুরা মুখুস্ত না থাকলে যে কোন সুরা দিয়েই নামাজ আদায় করা যাবে। নিয়ম হল ২রাকাত করে করে, এই নামাজ আদায় করা। প্রত্যেক রাকাতে সুরা ফাতিহা পড়ার পর, অন্য যে কোন সুরা মিলানো। এভাবেই নামাজ আদায় করতে হবে।

তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকআত?

সর্ব নিম্ন দু রাকআত। আর সর্বোচ্চ ৮ রাকআত পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদের ৮ রাকাত নামাজ আদায় করার পরে, বিতর ৩ রাকাত নামাজ পড়া। রাসুল (সাঃ) তাহাজ্জুদের নামাজ বেশিরভাগ সময় ৮ রাকাত পরতেন এবং এর পর বিতরের নামাজ পরে মোট ১১ রাকাত পূর্ণ করতেন।

তাহাজ্জুদ নামাজ বিতরসহ ১৩, ১১, ৯ কিংবা ৭ রাকাত পড়া যায় (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত ১০৬ পৃঃ)। প্রথমে দু’রাকাত ছোট ছোট সুরা মিলিয়ে হালকাভাবে পড়ে আরম্ভ করবে (মুসলিম, মেশকাত ১০৬ পৃঃ)। অতঃপর দু’রাকাত করে, তাহাজ্জুদের নামাজ সাত রাকাত পড়তে চাইলে দু’সালামে চার রাকাত পড়ে তিন রাকাত বিতর পড়বে । (বুখারী, মেশকাত ১০৬ পৃঃ)

বিঃদ্রঃ যদি এশার নামাজ পরে ভিতরের নামাজ পড়ে থাকেন, তবে তাহাজ্জুত নামাজ পড়ার পড়ে বিতর নামাজ পড়ার দরকার নেই। তখন ২ রাকাত থেকে শুরু করে ৮রাকাত তাহাজ্জুত নামাজ পরলেই হবে।

তাহাজ্জুদ নামাযের আগে করণীয়

হুযাইফা (রাযিঃ) বলেন, রাসুল (সাঃ) যখন তাহাজ্জুদ পড়তে উঠতেন তখন মিসওয়াক করতেন এবং আমাদেরকেও মিসওয়াক করার হুকুম দেয়া হত, আমরা যখন তাহাজ্জুদ পড়তে উঠতাম, অতঃপর নবী (সাঃ) অযু করতেন (মুসলিম) । তারপর নীচের দু’আ ও তাসবীহগুলি দশবার করে পড়তেন । তারপর নামাজ শুরু করতেন (আবু দাউদ, মেশকাত ১০৮ পৃঃ)

  • দশবার “আল্লাহু আকবার।
  • দশবার আলহামদুলিল্লাহ।
  • দশবার সুব্হানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী।
  • দশবার সুব্হানাল মালিকিল কদ্দুস।
  • দশবার আসতাগফিরুলাহ।
  • দশবার লা ইলাহ ইল্লাল্লাহু।
  • দশবার আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন দীক্বিদ্দুনিয়া ওয়া দীক্বি ইয়াওমিল ক্বিয়ামাহ।

কখন তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে হয়?

তাহাজ্জুদের অর্থ হল ঘুম থেকে উঠা। কুরআনে রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদের যে তাকীদ করা হয়েছে তার মর্ম এই যে, রাতের কিছু অংশ ঘুমিয়ে থাকার পর উঠে নামাজ পড়া। তাহাজ্জুদের মসনূন সময় এই যে, এশার নামাযের পর লোকেরা ঘুমাবে। তারপর অর্ধেক রাতের পর উঠে নামাজ পড়বে।

নবী (সাঃ) কখনো মধ্য রাতে, কখনো তার কিছু আগে অথবা পরে ঘুম থেকে উঠতেন এবং আসমানের দিকে তাকিয়ে সূরা আলে-ইমরানের শেষ রুকুর কয়েক আয়াত পড়তেন। তারপর মেসওয়াক ও অযু করে নামাজ পড়তেন।

অর্ধ রাতের পরে। রাতের শেষ তৃতীয়াংশে পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদের মুল সময় মুলত রাত ৩ টা থেকে শুরু হয়ে ফজরের আযানের আগ পর্যন্ত থাকে। তবে ঘুম থেকে না জাগার সম্ভাবনা থাকলে ইশা সালাতের পর দু রাকআত সুন্নত ও বিতরের আগে তা পড়ে নেয়া জায়েয আছে। তবে পরিপূর্ণ তাহাজ্জুতের মর্যাদা পেতে হলে, এশার নামাযের পর ঘুমিয়ে রাত ২টা বা ৩টার দিকে উঠে নামাজ আদায় করতে হবে।

তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত না নফল?

এটি একটি নফল ইবাদত তবে তাহাজ্জুদের নফল নামাজকে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শ্রেষ্ঠ নফল ইবাদত হিসাবে অ্যাখ্যায়িত করেছেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর তাহাজ্জুদ নামাজ বাধ্যতামূলক ছিল। তাই তিনি জীবনে কখনো তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া থেকে বিরত হননি এবং সাহাবীদের এটা পালনে উৎসাহিত করতেন।

তাহাজ্জুদ নামাজের দোয়া

রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ রাত্রে জাগ্রত হয় ও নিম্নের দোআ পাঠ করে এবং আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে, তা কবুল করা হয়। আর যদি সে ওযূ করে এবং ছালাত আদায় করে, সেই ছালাত কবুল করা হয়’।

দোয়ার উচ্চারণ: লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু; লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। সুবহা-নাল্লা-হি ওয়াল হামদু লিল্লা-হি ওয়ালা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার; ওয়ালা হাওলা ওয়ালা ক্বুউওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ। অতঃপর বলবে, ‘রবিবগফির্লী’ (প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা কর)। অথবা অন্য প্রার্থনার করবে।

অনুবাদ: আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁর জন্যই সকল রাজত্ব ও তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা এবং তিনিই সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাশালী। মহা পবিত্র আল্লাহ। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আল্লাহ সবার চেয়ে বড়। নেই কোন ক্ষমতা নেই কোন শক্তি আল্লাহ ব্যতীত’।

বুখারী, মিশকাত হা/১২১৩ ‘রাত্রিতে উঠে তাহাজ্জুদে কি বলবে,অনুচ্ছেদ-৩২। এছাড়া অন্যান্য দো‘আও পড়তেন। মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১১৯৫; আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১২০০, ‘রাত্রির ছালাত’ অনুচ্ছেদ-৩১

স্ত্রী মায়মূনা (রাঃ)-এর ঘরে তাহাজ্জুদের ছালাতে উঠে আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি সূরা আলে ইমরানের ১৯০ আয়াত থেকে সূরার শেষ অর্থাৎ ২০০ আয়াত পর্যন্ত পাঠ করেন’ (বু: মু:)। একবার সফরে রাতে ঘুম থেকে উঠে আকাশের দিকে তাকিয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সূরা আলে ইমরান ১৯১-৯৪ আয়াত পাঠ করেছেন (নাসাঈ)।

একবার তিনি (গুরুত্ব বিবেচনা করে) সূরা মায়েদাহ ১১৮ আয়াতটি দিয়ে পুরা তাহাজ্জুদের ছালাত শেষ করেন’ (নাসাঈ)। মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১১৯৫; নাসাঈ, মিশকাত হা/১২০৯; নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১২০৫, ‘রাত্রির ছালাত’ অনুচ্ছেদ-৩১; আহমাদ হা/২১৩৬৬; মির‘আত ৪/১৯১

নামাজ শেষে হাত তুলে দোয়া

তাহাজ্জুদসহ যেকোন নফল সালাতে সেজদায় যেয়ে কিংবা সাধারন ভাবে হাত তুলে দোয়া করার সময়ও মহান আল্লাহর গুনারলীর সাথে মিল রেখে দোয়া করতে হবে। ফরজ,সুন্নত, ওয়াজিব কিংবা বিতির নামাজে সেজদায় যেয়ে কিছু বলা, সঠিক নয়।

তাহাজ্জুদ নামাযের ফজিলত

‘তাহজ্জুদ’ মূলত একটি আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ রাত জাগরণ বা নিদ্রা ত্যাগ করে রাতে নামাজ পড়া। শরিয়তের পরিভাষায় রাত দ্বিপ্রহরের পর ঘুম থেকে জেগে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে নামাজ আদায় করা হয় তা-ই ‘সালাতুত তাহাজ্জুদ’ বা তাহাজ্জুদ নামাজ। তাহাজ্জুদ নামাজের ব্যাপারে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। তাহাজ্জুদ নামাজ যেকোনো সময়ই অত্যধিক ফজিলতের কারণ।

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত সব নফল ইবাদত অপেক্ষা অধিক এবং এটি আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। যারা তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন এবং অপরকে এ ব্যাপারে উৎসাহিত করেন, তারা আল্লাহর অপার রহমতের মধ্যে বিচরণ করেন।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ ওই ব্যক্তির ওপর রহমত নাজিল করেন, যিনি রাতে নিদ্রা থেকে জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন এবং তার স্ত্রীকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দেন। অতঃপর তিনি (তার স্ত্রী) তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন। এমনকি যদি তিনি (স্ত্রী) ঘুম থেকে জাগ্রত হতে না চান, তাহলে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেন।’ -আবু দাউদ ও নাসাঈ

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর তাহাজ্জুদ নামাজ বাধ্যতামূলক ছিল। তাই তিনি জীবনে কখনো তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া থেকে বিরত হননি। তবে উম্মতে মুহাম্মদির জন্য এটা সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা অর্থাৎ এ নামাজ আদায় করলে অশেষ পুণ্য লাভ করা যায়, কিন্তু আদায় করতে না পারলে কোনো গুনাহ হবে না।

তাহাজ্জুদ নামাজ রাত দ্বিপ্রহরের পরে পড়তে হয়। মধ্যরাতে যখন লোকেরা গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন। সুবহে সাদিক হয়ে গেলে এ নামাজ আর পড়া যায় না। যদি রাত দ্বিপ্রহরের পর নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে এশার নামাজের পর এবং বিতরের আগে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া অবকাশ রয়েছে। অবশ্য তাহাজ্জুদ নামাজ রাত দ্বিপ্রহরের আগে পড়লে সওয়াব কম পাওয়া যায়। রাতের শেষাংশে পড়লে সওয়াব বেশি পাওয়া যায়।

তাহাজ্জুদ নামাজ চার রাকাত পর্যন্ত পড়া যায়। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তাহাজ্জুদ নামাজ কখনো ৪ রাকাত, কখনো ৮ রাকাত এবং কখনো ১২ রাকাত পড়েছিলেন। তবে দুই রাকাত-দুই রাকাত করে তাহাজ্জুদ নামাজ কমপক্ষে ৪ রাকাত আদায় করা উচিত।

কিন্তু যদি কেউ এ নামাজ ২ রাকাত আদায় করেন, তাহলেও তার তাহাজ্জুদ আদায় হবে। এটাকে অবশ্য অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ নিরুৎসাহিত করেছেন। আলেমরা তাহাজ্জুদের নামাজের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষার কথাও বলেছেন। অর্থাৎ একদিন অনেক রাকাত, আরেক কম কিংবা আরেকদিন পড়াই হলো না- এমনটি নয়। যাই পড়া হোক সেটা যেনো নিয়মিত হয়।ৱ

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এশার পর দুই বা ততোধিক রাকাত নামাজ পড়ে নেয়, সে হবে তাহাজ্জুদের ফজিলতের অধিকারী।’

তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কালে কেরাতের সময় কোরআনে কারিমের আয়াত যথাসম্ভব বেশি পরিমাণে তেলাওয়াত করা উত্তম। যদি বড় সূরা মুখস্থ থাকে, তাহলে তাহাজ্জুদ নামাজে বড় সূরা তেলাওয়াত করা।

বড় সূরা মুখস্থ না থাকলে যে কোনো সূরা দিয়েই নামাজ আদায় করা যাবে। তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম নেই। দুই রাকাত করে এই নামাজ আদায় করতে হয়। প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়ার পর, অন্য যে কোনো সূরা মিলানো। এই নিয়মই উত্তম।

হাদিসে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি অধিক সম্মানের অধিকারী বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলমানদের মধ্যে আল কোরআনে অভিজ্ঞ ও তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি সম্মানের অধিকারী হবেন।’ –বায়হাকি

শেষ কথা

পবিত্র এই ইবাদতটি আপনার দৈনন্দিন রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করলে আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে পাবেন। তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত ও নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করে মহান রবের দরবারে হাজিরা দিন। আপনার প্রতিটি সিজদাহ হোক আল্লাহর প্রেমের এক অনন্য নিদর্শন।

যদি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো আপনার উপকারে আসে, তবে দেরি না করে এখনই বন্ধু ও প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়মগুলো ছড়িয়ে দিয়ে অন্যদেরও সঠিক পদ্ধতিতে নামাজ পড়তে এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভে উৎসাহিত করুন।


Frequently Asked Questions

তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য কি ঘুম থেকে ওঠা জরুরি?
'তাহাজ্জুদ' শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ঘুম থেকে জাগা। শরীয়তের পরিভাষায়, রাতের ঘুম থেকে উঠে যে নফল নামাজ আদায় করা হয়, তাকেই তাহাজ্জুদ বলা হয়। অধিকাংশ আলেমদের মতে, তাহাজ্জুদের পূর্ণ সওয়াব ও এর প্রকৃত স্বাদ পেতে হলে এশার পর কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে তারপর ওঠা সুন্নাত। তবে কেউ যদি রাতে না ঘুমিয়েও শেষ রাতে নফল নামাজ আদায় করেন, তবে তা নফল নামাজ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর মাধ্যমেও সওয়াব পাওয়া যাবে।
বিতর নামাজ কি তাহাজ্জুদের পর পড়তে হয়?
যারা নিয়মিত শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, তাদের জন্য উত্তম হলো এশার নামাজের পর বিতর না পড়ে তা তাহাজ্জুদের পর আদায় করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতের শেষ নামাজ হিসেবে বিতর আদায় করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে কেউ যদি এশার পর বিতর পড়ে ফেলেন, তাহলেও তিনি শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়তে পারবেন। সেক্ষেত্রে নতুন করে আর বিতর পড়ার প্রয়োজন নেই, শুধু জোড়ায় জোড়ায় তাহাজ্জুদ আদায় করলেই চলবে।
তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার শ্রেষ্ঠ সময় কোনটি?
তাহাজ্জুদ নামাজের সময় মূলত এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিক বা ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত থাকে। তবে এই নামাজের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ সময় হলো রাতের শেষ তৃতীয়াংশ। অর্থাৎ, রাতকে তিন ভাগ করলে তার শেষ ভাগে ইবাদত করা সবচেয়ে উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত রাতের শেষ ভাগে তাহাজ্জুদ আদায় করতেন, কারণ এই সময়ে আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বান্দার দোয়া কবুল করেন।
তাহাজ্জুদ নামাজের সঠিক নিয়ত কী হবে?
যে কোনো ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো নিয়ত বা মনের সংকল্প। তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য মুখে কোনো নির্দিষ্ট বুলি বা আরবি বাক্য বলা জরুরি নয়। আপনি মনে মনে এই সংকল্প করলেই হবে যে— "আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাহাজ্জুদের দুই রাকাত (বা তার বেশি) নফল নামাজ আদায় করছি।" যদি কেউ আরবিতে নিয়ত করতে চান, তবে বলতে পারেন— "নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকআতাই সালাতিল তাহাজ্জুদি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।" তবে মনের নিয়তই যথেষ্ট।
তাহাজ্জুদে কোন কোন সুরা পড়া উত্তম?
তাহাজ্জুদ নামাজে সুরা পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম বা বাধ্যবাধকতা নেই। আপনার কোরআনের যে অংশটুকু মুখস্থ আছে, তা দিয়েই নামাজ পড়তে পারেন। তবে দীর্ঘ কিরাত বা বড় সুরা দিয়ে তাহাজ্জুদ পড়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। যদি বড় সুরা মুখস্থ না থাকে, তবে সুরা ফাতিহার পর ছোট ছোট সুরাগুলো (যেমন- সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক বা সুরা নাস) দিয়েই নামাজ আদায় করা যাবে। মনে রাখবেন, এখানে নামাজের দীর্ঘতা ও একাগ্রতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাত?
তাহাজ্জুদ নামাজের নির্দিষ্ট কোনো রাকাত সংখ্যা নির্ধারিত নেই। তবে এটি কমপক্ষে দুই রাকাত পড়তে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়তেন এবং এরপর ৩ রাকাত বিতর নামাজ আদায় করতেন। আপনি আপনার শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী ২, ৪, ৬, ৮ বা ১২ রাকাত পর্যন্ত (জোড়ায় জোড়ায়) এই নামাজ আদায় করতে পারেন। পড়ার নিয়ম সাধারণ নফল নামাজের মতোই, প্রতি দুই রাকাত পর পর সালাম ফিরাতে হয়।
Next Post Previous Post