নামাজের জন্য ১০ টি সূরা

প্রতিদিনের ইবাদত সঠিকভাবে পালনের জন্য নামাজের জন্য ১০ টি সূরা জানা থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই ছোট সূরাগুলো কেবল মুখস্থ করা সহজ নয়, বরং এগুলো নামাজের একাগ্রতা বাড়াতে এবং তিলাওয়াত শুদ্ধ করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।

পবিত্র কুরআনের এই সূরাগুলো অর্থসহ পড়লে নামাজের গুরুত্ব আপনার কাছে আরও স্পষ্টভাবে ধরা দেবে। যারা নতুন নামাজ শিখছেন বা দ্রুত মুখস্থ করতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য এই সূরাগুলো হতে পারে একটি আদর্শ ও সহজ সমাধান।

আপনার আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে এই পোস্টটি গাইড হিসেবে কাজ করবে। এখানে আমরা নামাজের প্রয়োজনীয় ও ছোট সূরাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, যা আপনার প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে আরও সহজ এবং অর্থবহ করে তুলবে।

নামাজের জন্য ১০ টি সূরা

নামাজের প্রতিটি রাকাতে সঠিক তিলাওয়াত নিশ্চিত করতে নামাজের জন্য ১০ টি সূরা শেখা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। এই সূরাগুলোর সঠিক উচ্চারণ ও তাৎপর্য জানা থাকলে ইবাদতে পূর্ণ তৃপ্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন তবে কাঙ্খিত সূরাগুলো দেখে নেওয়া যাক।

০১। সূরা ফাতিহা

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ. ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ. ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ. مَٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ. إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ. ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ. صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ. آمين
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। আর-রাহমানির রাহিম। মালিকি ইয়াওমিদ্দিন। ইয়্যাকা না'বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতা'ঈন। ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম। সিরাতাল্লাযিনা আন'আমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দোয়াল্লিন। আমিন।
অর্থ: পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। যিনি বিচারদিনের মালিক। আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি এবং শুধু তোমারই সাহায্য চাই। আমাদেরকে সরল পথ দেখাও। তাদের পথ, যাদের তুমি নিয়ামত দিয়েছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাজিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট। আমিন।

০২। সূরা ফীল

اَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِاَصْحٰبِ الْفِيْلِۙ اَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِيْ تَضْلِيْلٍۙ وَّاَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا اَبَابِيْلَۙ تَرْمِيْهِمْ بِحِجَارَةٍ مِّنْ سِجِّيْلٍۙ فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَّأْكُوْلٍ
উচ্চারণ: আলাম তারা কাইফা ফা'আলা রাব্বুকা বিআসহাবিল ফীল। আলাম ইয়াজ'আল কাইদাহুম ফী তাদলীল। ওয়া আরসালা 'আলাইহিম তাইরান আবাবীল। তারমীহিম বিহিজারাতিম মিন সিজ্জীল। ফাজা'আলাহুম কা'আসফিম মা'কূল।
অর্থ: আপনি কি দেখেননি আপনার রব হাতিওয়ালাদের সাথে কি আচরণ করেছিলেন? তিনি কি তাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেননি? এবং তিনি তাদের উপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি প্রেরণ করেছিলেন। যারা তাদের উপর কাঁকর পাথর নিক্ষেপ করছিল। অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণসদৃশ করে দিলেন।

০৩। সূরা কুরাইশ

لِاِيْلٰفِ قُرَيْشٍۙ اِيْلٰفِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَاۤءِ وَالصَّيْفِۚ فَلْيَعْبُدُوْا رَبَّ هٰذَا الْبَيْتِۙ الَّذِيْٓ اَطْعَمَهُمْ مِّنْ جُوْعٍ وَّاٰمَنَهُمْ مِّنْ خَوْفٍ
উচ্চারণ: লিঈলাফি কুরাইশ। ঈলাফিহিম রিহলাতাশ শীতায়ি ওয়াসসাইফ। ফালইয়া'বুদু রাব্বা হাযাল বাইত। আল্লাযী আত'আমাহুম মিন জু'য়িও ওয়া আমানাহুম মিন খওফ।
অর্থ: কুরাইশদের আসক্তির কারণে, তাদের শীত ও গ্রীষ্মের সফরের আসক্তির কারণে, সুতরাং তারা যেন এই ঘরের রবের ইবাদত করে, যিনি তাদেরকে ক্ষুধার সময় খাদ্য দিয়েছেন এবং ভীতি থেকে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন।

০৪। সূরা মাউন

اَرَاَيْتَ الَّذِيْ يُكَذِّبُ بِالدِّيْنِۗ فَذٰلِكَ الَّذِيْ يَدُعُّ الْيَتِيْمَۙ وَلَا يَحُضُّ عَلٰى طَعَامِ الْمِسْكِيْنِۗ فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّيْنَۙ الَّذِيْنَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُوْنَۙ الَّذِيْنَ هُمْ يُرَاۤءُوْنَۙ وَيَمْنَعُوْنَ الْمَاعُوْنَ
উচ্চারণ: আরাআইতাল্লাযী ইউকাযযিবু বিদ্দীন। ফাযালিকাল্লাযী ইয়াদু'উল ইয়াতীম। ওয়ালা ইয়াহুদ্দু 'আলা ত্বোয়া'আমিল মিসকীন। ফাওয়াইলুল্লিল মুসাল্লীন। আল্লাযীনা হুম 'আন সালাতিহিম সাহুন। আল্লাযীনা হুম ইউরাউনা। ওয়া ইয়ামনা'উনাল মাউন।
অর্থ: আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে দ্বীনকে মিথ্যা বলে? সে তো সেই ব্যক্তি, যে এতীমকে ধাক্কা দেয় এবং দরিদ্রকে খাদ্য দিতে উৎসাহ দেয় না। সুতরাং দুর্ভোগ সেসব সালাত আদায়কারীর, যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন। যারা লোক দেখানোর জন্য সালাত আদায় করে এবং নিত্য ব্যবহার্য্য জিনিসপত্র দেয়া থেকে বিরত থাকে।

০৫। সূরা কাওসার

اِنَّآ اَعْطَيْنٰكَ الْكَوْثَرَۗ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْۗ اِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْاَبْتَرُ
উচ্চারণ: ইন্না আ'ত্বাইনাকাল কাওসার। ফাসাল্লি লিরাব্বিকা ওয়ানহার। ইন্না শানিআকা হুয়াল আবতার।
অর্থ: নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। সুতরাং আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন। নিশ্চয় আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই নির্বংশ।

০৬। সূরা কাফিরুন

قُلْ يٰٓاَيُّهَا الْكٰفِرُوْنَۙ لَآ اَعْبُدُ مَا تَعْبُدُوْنَۙ وَلَآ اَنْتُمْ عٰبِدُوْنَ مَآ اَعْبُدُۚ وَلَآ اَنَا۠ عَابِدٌ مَّا عَبَدْتُّمْۙ وَلَآ اَنْتُمْ عٰبِدُوْنَ مَآ اَعْبُدُۚ لَكُمْ دِيْنُكُمْ وَلِيَ دِيْنِ
উচ্চারণ: ক্বুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরূন। লা আ'বুদু মা তা'বুদূন। ওয়ালা আনতুম 'আবিদূনা মা আ'বুদ। ওয়ালা আনা 'আবিদুম মা 'আবাত্তুম। ওয়ালা আনতুম 'আবিদূনা মা আ'বুদ। লাকুম দীনুকুম ওয়া লিয়া দীন।
অর্থ: বলুন, ‘হে কাফেরগণ! আমি তার ইবাদত করি না, তোমরা যার ইবাদত কর। এবং তোমরাও তার ইবাদতকারী নও, যার ইবাদত আমি করি। আর আমি তার ইবাদতকারী নই, যার ইবাদত তোমরা করে আসছ। এবং তোমরাও তার ইবাদতকারী নও, যার ইবাদত আমি করি। তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন এবং আমার জন্য আমার দ্বীন।

০৭। সূরা নাসর

اِذَا جَآءَ نَصْرُ اللّٰهِ وَالْفَتْحُۙ وَرَاَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُوْنَ فِيْ دِيْنِ اللّٰهِ اَفْوَاجًاۙ فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُۗ اِنَّهٗ كَانَ تَوَّابًا
উচ্চারণ: ইযা জাআ নাসরুল্লাহি ওয়াল ফাতহ। ওয়া রাইতান্নাসা ইয়াদখুলুনা ফী দীনিল্লাহি আফওয়াজা। ফাসাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা ওয়াস্তাগফিরহ। ইন্নাহু কানা তাওয়াবা।
অর্থ: যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন, তখন আপনি আপনার রবের প্রশংসাসহ তার পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি তওবা কবুলকারী।

০৮। সূরা লাহাব

تَبَّتْ يَدَآ اَبِيْ لَهَبٍ وَّتَبَّ مَآ اَغْنٰى عَنْهُ مَالُهٗ وَمَا كَسَبَ سَيَصْلٰى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ وَّامْرَاَتُهٗ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ فِيْ جِيْدِهَا حَبْلٌ مِّنْ مَّسَدٍ
উচ্চারণ: তাব্বাত ইয়াদা আবী লাহাবিও ওয়াতাব্ব। মা আগনা 'আনহু মালুহু ওয়ামা কাসাব। সাইয়াসলা নারান যাতা লাহাব। ওয়ামরাআতুহু হাম্মালাতাল হাত্বোয়াব। ফী জীদাহা হাবলুম মিম মাসাদ।
অর্থ: আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক। তার ধন-সম্পদ ও তার উপার্জন তার কোনো কাজে আসেনি। শীঘ্রই সে লেলিহান আগুনে প্রবেশ করবে। এবং তার স্ত্রীও, যে জ্বালানি বহন করে। তার গলায় খেজুর গাছের ছালের পাকানো রশি থাকবে।

০৯। সূরা ইখলাস

قُلْ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ اَللّٰهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ
উচ্চারণ: ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ। ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।
অর্থ: বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তার মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।

১০। সূরা ফালাক

قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِۙ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَۙ وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَۙ وَمِنْ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِي الْعُقَدِۙ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ
উচ্চারণ: ক্বুল আ'উযু বিরাব্বিল ফালাক। মিন শাররি মা খালাক্ব। ওয়ামিন শাররি গাসিকিন ইযা ওয়াক্বাব। ওয়ামিন শাররিন নাফফাসাতি ফিল 'উক্বদ। ওয়ামিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ।
অর্থ: বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের রবের। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, এবং রাতের অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে, যখন তা গভীর হয়। এবং গিটগুলোতে ফুঁৎকার দেয় তাদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।

১১। সূরা নাস

قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِۙ مَلِكِ النَّاسِۙ اِلٰهِ النَّاسِۙ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِۙ الَّذِيْ يُوَسْوِسُ فِيْ صُدُوْرِ النَّاسِۙ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
উচ্চারণ: ক্বুল আ'উযু বিরাব্বিন নাস। মালিকিন নাস। ইলাহিন নাস। মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাস। আল্লাযী ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন নাস। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস।
অর্থ: বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের রবের, মানুষের অধিপতির, মানুষের উপাস্যের, আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে, যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়, জিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।

শেষ কথা

দৈনন্দিন ইবাদতে নামাজের জন্য ১০ টি সূরা তিলাওয়াত করা আপনার মনে প্রশান্তি এনে দেবে। এই সূরাগুলো ছোট হলেও এর মাহাত্ম্য ও সওয়াব অপরিসীম, যা আপনার পরকালীন পাথেয় হিসেবে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।

আপনার যদি এই সূরাগুলো এবং এদের অর্থ ভালো লেগে থাকে, তবে দেরি না করে এখনই প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে এই পোস্টটি ছড়িয়ে দিয়ে অন্যদেরও সহীহভাবে নামাজ শিখতে এবং উৎসাহিত করতে সাহায্য করুন।


Frequently Asked Questions

সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরা মেলানোর নিয়ম কী?
ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতিহার পর অন্য একটি সূরা মেলানো ওয়াজিব। তবে ফরজ নামাজের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা পড়াই যথেষ্ট, সেখানে অন্য সূরা মেলাতে হয় না। অন্যদিকে সুন্নাত ও নফল নামাজের প্রতিটি রাকাতেই সূরা ফাতিহার পর অন্য একটি সূরা বা আয়াত মেলানো বাধ্যতামূলক। এই নিয়মটি নামাজের সঠিক কাঠামোর অংশ।
নামাজের সূরা কি সিরিয়াল অনুযায়ী পড়তে হয়?
নামাজের রাকাতে সূরা পড়ার ক্ষেত্রে কুরআনের তারতীব বা ক্রমধারা বজায় রাখা উত্তম। অর্থাৎ প্রথম রাকাতে যে সূরা পড়বেন, দ্বিতীয় রাকাতে তার পরবর্তী কোনো সূরা পড়া সুন্নাহসম্মত। যেমন— প্রথম রাকাতে সূরা আল-কাওসার পড়লে দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আল-ইখলাস পড়া ভালো। তবে ভুলবশত ক্রম উল্টে গেলে বা মাঝখান থেকে কোনো সূরা বাদ দিয়ে পড়লে নামাজ ভেঙে যাবে না, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে ধারাবাহিতা ভঙ্গ করা মাকরূহে তানজিহী।
ছোট সূরা দিয়ে নামাজ পড়লে কি নামাজ হবে?
হ্যাঁ, ছোট সূরা দিয়ে নামাজ পড়লে নামাজ অবশ্যই হবে। নামাজের জন্য শর্ত হলো সূরা ফাতিহার পর কুরআনের অন্তত একটি ছোট সূরা বা বড় সূরার ন্যূনতম তিন আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করা। পবিত্র কুরআনের প্রতিটি সূরাই বরকতময়। তাই অর্থ বুঝে এবং সহীহ মাখরাজ মেনে ছোট সূরা দিয়ে নামাজ পড়লে তা সম্পূর্ণ শুদ্ধ এবং কবুলযোগ্য হবে ইনশাআল্লাহ।
বড় সূরা না জানলে শুধু ছোট সূরা কি যথেষ্ট?
অবশ্যই। যদি কারো বড় সূরা মুখস্থ না থাকে, তবে তিনি ছোট সূরা দিয়েই নিয়মিত নামাজ আদায় করতে পারবেন। ইসলামের বিধান অত্যন্ত সহজ। আপনি যদি মাত্র ২-৩টি ছোট সূরাও জানেন, তবে সেগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রতি রাকাতে পড়তে পারেন। তবে একজন মুমিন হিসেবে ধীরে ধীরে আরও কিছু সূরা মুখস্থ করার চেষ্টা করা উচিত যাতে নামাজে তিলাওয়াতের বৈচিত্র্য আসে এবং মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
নামাজের সূরা কি উচ্চস্বরে পড়তে হয়?
এটি নির্ভর করে আপনি কোন নামাজ পড়ছেন তার ওপর। ফজর, মাগরিব ও এশার ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাতে ইমামের জন্য উচ্চস্বরে সূরা পড়া ওয়াজিব। একা নামাজ পড়লে আপনি চাইলে উচ্চস্বরে বা নিম্নস্বরে পড়তে পারেন। তবে জোহর ও আসর নামাজ এবং সুন্নাত ও নফল নামাজে সর্বদা নিম্নস্বরে (মনে মনে নয়, বরং ঠোঁট নেড়ে অনুচ্চ শব্দে) সূরা পড়তে হয়।
Next Post Previous Post