ইফতারের দোয়া

রমজান মাসে ইফতার হলো এক বিশেষ মুহূর্ত, যখন সারাদিন রোজা রাখার পর আমরা আল্লাহর রহমতের আশায় ইফতার করি। এই সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ Sunnah হলো ইফতারের দোয়া পাঠ করা, যা নবীজী (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন।

ইফতারের দোয়া শুধুমাত্র একটি দোয়াই নয়, এটি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি মাধ্যম। এই ব্লগ পোস্টে আমরা ইফতারের দোয়ার গুরুত্ব, আরবি ও বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং ইফতারের সময় দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

ইফতার শুধু একটি খাবারের মুহূর্ত নয়, বরং এটি আল্লাহর রহমত ও দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। নবীজী (সা.) আমাদের জন্য যে ইফতারের দোয়া শিখিয়েছেন, তা পড়লে রোজা পূর্ণতা লাভ করে এবং আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ অর্জিত হয়। তাই ইফতারের সময় আমাদের উচিত মনোযোগ সহকারে দোয়া করা।

ইফতারের দোয়া

ইফতার একটি আরবি শব্দ যার আক্ষরিক অর্থ 'ভাঙ্গা'। সূর্যাস্তের সময় (মাগরিব) যখন আমরা সেই দিনের রোজা ভঙ্গ/বিরতি করি সেটি হচ্ছে ইফতার। এটি এমন একটি সময় যখন আমরা রোজা ভঙ্গ করে আবার খাদ্য গ্রহণ করি।

তবে ইফতারের সময়টা শুধুমাত্র আমাদের বস্তুগত চাহিদা মেটানোর সময় নয় বরং আমরা কেন জীবনের অপরিহার্য জিনিসগুলোকে উৎসর্গ করেছি সে বিষয়ে আধ্যাত্মিক সচেতনতা ও স্বীকৃতির সময়।

ইফতারের দোয়া বাংলা উচ্চারণ

اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিজের মাধ্যমে ইফতার করেছি।

ইফতারের সময় করণীয়

এই পবিত্র সময়টিকে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাতে মুসলমানদের কিছু জিনিস করা উচিত। প্রথমত, হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এঁর রীতি অনুসরণ করে খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার করা অপরিহার্য। তারপর ইফতার শেষ হওয়ার সাথে সাথে মাগরিবের নামায পড়ে নিতে হবে। তাছাড়া ইফতারের পূর্বে সূরা কেরাত তেলায়াত করতে পারেন।

তদুপরি পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং অভাবীদের সাথে ইফতার ভাগ করে নেওয়ার জন্য বলা হয়। সামগ্রিকভাবে, ইফতার মুসলমানদের জন্য তাদের বিশ্বাসের সাথে পুনরায় সংযোগ স্থাপন, তাদের আশীর্বাদের প্রতিফলন এবং অন্যদের প্রতি সহানুভূতি অনুশীলন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

ইফতারের ফজিলত

পবিত্র রমজান মাসে মুসলিম সম্প্রদায় ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোজা পালন করে। দিন শেষ হওয়ার পরে, সন্ধ্যায় তারা পরিবার বা বন্ধুদের সাথে ইফতার হিসাবে পরিচিত খাবার খেয়ে রোজা ভাঙেন। এটা বিশ্বাস করা হয় যে, সারা দিন খাবার এবং জল থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে, একজন ব্যক্তি অন্য লোকেদের বেদনা এবং কষ্ট বুঝতে পারে এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে।

যদিও আজকাল কেউ কেউ ইফতারে বিভিন্ন ধরণের সমৃদ্ধ খাবার এবং খাবারের সাথে অতিরিক্ত লিপ্ত হওয়ার প্রবণতা দেখায়। কিন্তু সুন্নত হল খেজুর এবং জল দিয়ে রোজা শেষ করা। আনাস বিন মালিক (রাঃ) বলেন, “আমাদের বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মদ (সাৰ) সালাত আদায়ের পূর্বে তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাজা খেজুর না পেলে শুকনো খেজুর খেতেন। সেটাও না পেলে তিনি কয়েক চুমুক পানি পান করতেন” (হাদীস আহমাদ)।

ইফতারকে অপরিসীম বরকত অর্জনের সুযোগ হিসেবে গণ্য করা উচিত। এই কারণেই কিছু লোক একটি মসজিদে সম্মিলিত ইফতারে অংশ নেয় যেখানে তারা সহ মুসল্লিদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য খাবার নিয়ে আসে। এটি এমন উদারতার কাজ যে, বলা হয় যারা অন্যদের রোজা ভঙ্গ করতে সাহায্য করে তাদের জন্য আল্লাহ ক্ষমার দরজা খুলে দেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে ইফতার করায়, সে তার সমান সওয়াব পাবে, রোজাদারের সওয়াব থেকে কোনো কিছু কমানো হবে না" (হাদিস তিরমিযী)। কথিত আছে, যে ব্যক্তি রোজা পালনকারীকে পানি পান করাবে তাকে আল্লাহর ঝর্ণা থেকে পানি পান করানো হবে এবং সে আর কখনো পিপাসা অনুভব করবে না।

শেষ কথা

সারা দিন উপবাস থাকার পর ইফতারের দোয়া পাঠের মাধ্যমে রোজা শেষ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ কাজ। এটি আমাদের ক্লান্ত শরীরকে প্রশান্তি দেয় এবং মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম সেরা মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে।

যদি এই নিবন্ধে দেওয়া ইফতারের দোয়া এবং তথ্যগুলো আপনার উপকারে আসে, তবে এখনই এটি প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে এই জরুরি দোয়াটি ছড়িয়ে দিয়ে অন্যদেরও আমল করার সুযোগ করে দিন।


Frequently Asked Questions

অন্যদের সাথে নিয়ে ইফতার করার সওয়াব কেমন?
ইসলামে নিজে ইফতার করার পাশাপাশি অন্যদের ইফতার করানোর ব্যাপক সওয়াব ও উপকারিতা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে ওই রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে, তবে রোজাদারের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।" তাই ইফতারের সময় মেহমান বা অভাবীদের শরীক করা এবং তাদের জন্য দোয়া করা বরকত বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম।
ইফতারের আগ মুহূর্তে দোয়া করলে কি কবুল হয়?
হ্যাঁ, হাদিস অনুযায়ী ইফতারের আগ মুহূর্তটি দোয়া কবুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না; যার মধ্যে একজন হলো রোজাদার ব্যক্তি যতক্ষণ না সে ইফতার করে।" তাই ইফতারের ঠিক আগে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত। এই সময়টি মহান আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা পাওয়ার এক অনন্য সুযোগ।
ইফতারের সময় দোয়া কবুল হওয়ার কারণ কী?
ইফতারের সময় দোয়া কবুল হওয়ার মূল কারণ হলো বান্দার ধৈর্য ও ত্যাগ। দীর্ঘ সময় ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত থাকার পর যখন একজন রোজাদার আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য খাবারের অপেক্ষা করে, তখন আল্লাহ তার ওপর অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন। ফেরেশতাদের সামনে আল্লাহ সেই বান্দাকে নিয়ে গর্ব করেন। এই চরম বিনয় ও আনুগত্যের মুহূর্তে বান্দা যা চায়, আল্লাহ তা পূরণ করে দেন বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
ইফতারের সঠিক দোয়া কোনটি ও অর্থ কী?
ইফতারের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে একাধিক দোয়া বর্ণিত আছে। তবে সবচেয়ে প্রচলিত ও সহিহ দোয়াটি হলো— "আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু"। যার অর্থ হলো: "হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি।" এছাড়া আরেকটি চমৎকার দোয়া হলো— "জাহাবাজ জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।" (পিপাসা মিটেছে, শিরাগুলো সিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহ চাইলে পুরস্কার নির্ধারিত হয়েছে)।
ইফতারের দোয়া পড়ার সময় বা নিয়ম কী?
ইফতারের দোয়া কখন পড়তে হবে তা নিয়ে দুটি মত থাকলেও সবচেয়ে প্রচলিত নিয়ম হলো— ইফতার করার ঠিক আগ মুহূর্তে দোয়া পাঠ করা। কারণ ইফতারের আগের সময়টি দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। তবে অনেকে ইফতার মুখে দিয়ে "বিসমিল্লাহ" বলে পানি বা খেজুর খেয়ে নেন এবং এরপর শুকরিয়া স্বরূপ "জাহাবাজ জামাউ..." দোয়াটি পাঠ করেন। মূলত ইফতারের প্রস্তুতি নিয়ে দোয়া পড়া শুরু করা এবং ইফতারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলাটাই সুন্নাহসম্মত।
Next Post Previous Post