অফ পেজ এসইও ২০২৬
২০২৬ সালে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন বা এসইও জগত অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটকে গুগলের প্রথম পাতায় দেখতে চান, তবে অফ পেজ এসইও সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি। এটি কেবল ব্যাকলিংক তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
অফ পেজ এসইও হলো আপনার ওয়েবসাইটের বাইরে করা যাবতীয় কাজ যা সার্চ র্যাংকিং বাড়াতে সাহায্য করে। এটি সার্চ ইঞ্জিন এবং ব্যবহারকারীদের কাছে আপনার সাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা, জনপ্রিয়তা এবং অথরিটি বা কর্তৃত্ব প্রমাণ করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
বর্তমান সময়ে গুগলের অ্যালগরিদম অনেক বেশি স্মার্ট হয়েছে এবং তারা ‘রেপুটেশন রিসার্চ’ বা খ্যাতির ওপর জোর দিচ্ছে। তাই ২০২৬ সালে সফল হতে হলে আপনাকে ব্যাকলিংকের পাশাপাশি ব্র্যান্ড সিগন্যাল এবং E-E-A-T এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
এই আল্টিমেট গাইডে আমরা অফ পেজ এসইও-র প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। ব্যাকলিংক তৈরি থেকে শুরু করে ব্র্যান্ড মেনশন এবং এআই সার্চে নিজেকে তুলে ধরার কৌশলগুলো এখানে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে, যা আপনার র্যাংকিং বাড়াতে সাহায্য করবে।
১. অফ পেজ এসইও কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
অফ পেজ এসইও হলো ওয়েবসাইটের বাইরের সেই সকল কার্যক্রম, যা সার্চ ইঞ্জিনে আপনার সাইটের অবস্থান শক্তিশালী করে। মূলত ব্যাকলিংক তৈরি, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এবং অন্য সাইটে ব্র্যান্ড প্রমোশনের মাধ্যমে ওয়েবসাইটের ডোমেইন অথরিটি বাড়ানোই এর প্রধান কাজ।
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন একে সাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার মাপকাঠি হিসেবে দেখে। সঠিক অফ পেজ স্ট্র্যাটেজি আপনার সাইটের ভ্যালু বাড়ায়, যা সার্চ র্যাঙ্কিং-এর শীর্ষে থাকতে এবং অর্গানিক ট্রাফিক পেতে সাহায্য করে।
অফ পেজ এসইও-এর প্রভাব সার্চ ইঞ্জিনে র্যাঙ্কিং ধরে রাখতে অফ পেজ এসইও অপরিহার্য। এটি শুধু ব্যাকলিংক নয়, বরং অনলাইনে আপনার ব্র্যান্ড অ্যাওয়ারনেস ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে সাইটে দীর্ঘমেয়াদী ও মানসম্মত অর্গানিক ট্রাফিক নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
অফ পেজ এসইও এর সংজ্ঞা
অফ পেজ এসইও বলতে এমন সব কার্যক্রমকে বোঝায় যা আপনার ওয়েবসাইটের বাইরে করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফলে আপনার সাইটের অবস্থান উন্নত করা। এটি অন-পেজ এসইও থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্রক্রিয়া।
সাধারণত অফ পেজ এসইও বলতেই মানুষ ব্যাকলিংক বোঝে, কিন্তু এটি আরও বিস্তৃত। ব্র্যান্ডেড সার্চ বাড়ানো, সোশ্যাল মিডিয়াতে এনগেজমেন্ট বৃদ্ধি করা এবং অনলাইনে আপনার ব্র্যান্ডের পজিটিভ উপস্থিতি নিশ্চিত করাও এর অন্তর্ভুক্ত।
সহজ কথায়, অফ পেজ এসইও হলো সেই সব কাজ যা আপনি সাইটের বাইরে করেন। এর মাধ্যমে আপনি গুগল এবং অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনকে বোঝাতে চান যে আপনার ওয়েবসাইটটি বিশ্বস্ত এবং অথরিটি সম্পন্ন একটি সোর্স।
২০২৬ সালে অফ পেজ এসইও এর গুরুত্ব
২০২৬ সালেও ব্যাকলিংক এবং অন্যান্য অফ-সাইট সিগন্যাল গুগলের অ্যালগরিদমের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মোট ব্যাকলিংকের সংখ্যার সাথে গুগল র্যাংকিংয়ের একটি পরিষ্কার সম্পর্ক বা কোরিলেশন রয়েছে।
গুগল তার অফিসিয়াল সাইটে উল্লেখ করেছে যে পেজর্যাঙ্ক (PageRank) তাদের মূল র্যাংকিং সিস্টেমের একটি অংশ। অর্থাৎ, লিংক বা ভোট যত বেশি হবে, আপনার সাইটের গুরুত্ব তত বাড়বে বলে সার্চ ইঞ্জিন মনে করে।
তবে মনে রাখবেন, লিংক অফ পেজ এসইও-র একটি অংশ মাত্র। গুগল সাইটের মান যাচাই করতে অন্যান্য অফ-সাইট সিগন্যালও ব্যবহার করে। গুগলের ‘কোয়ালিটি রেটার গাইডলাইনস’ অনুযায়ী, একটি সাইট বিশ্বস্ত কি না তা বুঝতে তারা সাইটের বাইরের খ্যাতি যাচাই করে।
এআই (AI) এর প্রভাব
গুগল বর্তমানে ‘রেপুটেশন রিসার্চ’ বা খ্যাতি গবেষণার ওপর জোর দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন রিভিউ, বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ এবং উইকিপিডিয়া বা বড় নিউজ সাইটে আপনার ব্র্যান্ডের উল্লেখ বা মেনশন থাকা।
বর্তমানে এআই বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) গুলোও অফ পেজ এসইও দ্বারা প্রভাবিত। এআই যখন কোনো উত্তর তৈরি করে, তারা থার্ড-পার্টি বা তৃতীয় পক্ষের ভ্যালিডেশন খোঁজে। অথরিটি সাইটে আপনার ব্র্যান্ডের উল্লেখ থাকলে এআই আপনাকে সোর্স হিসেবে দেখাবে।
উদাহরণস্বরূপ, ChatGPT-এর শীর্ষ সোর্সগুলোর মধ্যে রয়েছে উইকিপিডিয়া, ফোর্বস এবং টেকরাডারের মতো সাইট। তাই বড় এবং প্রাসঙ্গিক পাবলিকেশনে ব্র্যান্ড মেনশন পাওয়া এআই সার্চ বা এলএলএম-এ নিজের অবস্থান তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২. অন-পেজ এসইও VS অফ-পেজ এসইও
অন-পেজ এসইও মূলত ওয়েবসাইটের ভেতরের কন্টেন্ট ও টেকনিক্যাল গঠন ঠিক রাখার কাজ। অন্যদিকে, অফ-পেজ এসইও হলো বাইরের উৎস থেকে সাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর কৌশল। সার্চ ইঞ্জিনে ভালো র্যাঙ্কিং পেতে এই দুটিই সমানভাবে অপরিহার্য।
অন-পেজ এসইওতে সঠিক কিওয়ার্ড, মেটা ট্যাগ, এবং পেজ লোডিং স্পিড অপ্টিমাইজ করা হয়। এটি সার্চ ইঞ্জিনকে আপনার কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তু বুঝতে সাহায্য করে। এর সঠিক প্রয়োগে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত হয় এবং অর্গানিক ট্রাফিক বাড়ে।
অফ-পেজ এসইও প্রধানত মানসম্মত ব্যাকলিংক তৈরি ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের ওপর নির্ভর করে। এটি সাইটের ডোমেইন অথরিটি বাড়াতে সাহায্য করে। সার্চ ইঞ্জিনের কাছে আপনার সাইটের গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে অফ-পেজ অপ্টিমাইজেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন-পেজ এসইও এর নিয়ন্ত্রণ
অন-পেজ এসইও হলো সেই সব বিষয় যা আপনি সরাসরি আপনার ওয়েবসাইটে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে কনটেন্ট, টাইটেল ট্যাগ, কিওয়ার্ডের ব্যবহার, এসইও-ফ্রেন্ডলি ইউআরএল এবং ইন্টারনাল লিংকিং অপ্টিমাইজ করা।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি একটি ব্লগ পোস্ট লিখলেন এবং সেখানে সঠিক কিওয়ার্ড ব্যবহার করলেন। আপনি ইমেজ অল্ট ট্যাগ ঠিক করলেন এবং মেটা ডেসক্রিপশন লিখলেন। এই সব কাজ আপনার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং এটি অন-পেজ এসইও।
অফ-পেজ এসইও এর চ্যালেঞ্জ
অফ-পেজ এসইও হলো সেই সব অ্যাকশন যা আপনার ওয়েবসাইটের বাইরে ঘটে। যেমন অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে লিংক পাওয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার ব্র্যান্ড নিয়ে আলোচনা হওয়া। এখানে আপনার সরাসরি কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
ধরুন, আপনি একটি চমৎকার আর্টিকেল লিখলেন, কিন্তু সেটি র্যাংক করছে না কারণ কিওয়ার্ড ডিফিকাল্টি অনেক বেশি। তখন আপনাকে অফ-পেজ এসইও করতে হবে, যেমন ইমেইল আউটরিচ বা সোশ্যাল প্রমোশনের মাধ্যমে লিংক ও জনপ্রিয়তা অর্জন করা।
যখন অন-পেজ এবং অফ-পেজ এসইও একসাথে কাজ করে, তখনই সেরা ফলাফল পাওয়া যায়। ভালো কনটেন্ট তৈরি করার পর সেটির জন্য ব্যাকলিংক তৈরি করলে গুগলের প্রথম পাতায় র্যাংক করা সহজ হয়ে যায়।
৩. ব্যাকলিংক তৈরির কৌশল
আপনার নিশের (Niche) সাথে মিল আছে এমন জনপ্রিয় ব্লগ বা ওয়েবসাইটে মানসম্মত আর্টিকেল লিখুন। এর বিনিময়ে তাদের সাইট থেকে আপনার সাইটের জন্য একটি ব্যাকলিংক নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
গুগলে র্যাঙ্ক করা কোনো জনপ্রিয় কন্টেন্টের চেয়ে আরও বিস্তারিত, তথ্যবহুল ও আপ-টু-ডেট কন্টেন্ট তৈরি করুন। এরপর যারা পুরনো কন্টেন্টটিতে লিংক দিয়েছিল, তাদের ইমেইল করে আপনার নতুন ও উন্নত কন্টেন্টটি লিংক করার অনুরোধ জানান।
অন্য ওয়েবসাইটের অকার্যকর বা নষ্ট লিংক (Broken Links) খুঁজে বের করুন। এরপর সাইট মালিককে জানিয়ে সেই লিংকের পরিবর্তে আপনার প্রাসঙ্গিক ও সচল কন্টেন্টের লিংকটি যুক্ত করার প্রস্তাব দিন।
আপনার প্রতিযোগীরা (Competitors) কোথা থেকে ব্যাকলিংক পাচ্ছে তা বিভিন্ন এসইও টুলস (যেমন: Ahrefs বা SEMrush) ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করুন। এরপর সেই সব সোর্স থেকে আপনার সাইটের জন্যও ব্যাকলিংক সংগ্রহের চেষ্টা করুন।
জটিল কোনো তথ্য বা পরিসংখ্যান সহজভাবে বোঝানোর জন্য ইনফোগ্রাফিক তৈরি করুন। ভিজ্যুয়াল কন্টেন্ট মানুষ বেশি শেয়ার করে, যা প্রাকৃতিকভাবে হাই-কোয়ালিটি ব্যাকলিংক পেতে সাহায্য করে।
কোয়ালিটি বনাম কোয়ান্টিটি
অফ পেজ এসইও-র ক্ষেত্রে ব্যাকলিংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে মনে রাখবেন, ব্যাকলিংক তৈরির ক্ষেত্রে সংখ্যার চেয়ে গুণমান বা কোয়ালিটি অনেক বেশি জরুরি। হাজার হাজার লো-কোয়ালিটি লিংকের চেয়ে কয়েকটি অথরিটি লিংক বেশি কাজের।
যদি আপনি চান আপনার তৈরি করা লিংকগুলো র্যাংকিংয়ে প্রভাব ফেলুক, তবে সেগুলো অবশ্যই আপনার নিশ বা টপিক সম্পর্কিত অথরিটি সাইট থেকে আসতে হবে। অপ্রাসঙ্গিক সাইট থেকে নেওয়া লিংক খুব একটা কাজে আসে না।
ডেটা সোর্স বা তথ্যের উৎস হোন
মানুষ যখন কোনো কিছু নিয়ে গবেষণা করে, তারা পরিসংখ্যান বা ডেটা খোঁজে। আপনি যদি আপনার সাইটে অরিজিনাল ডেটা বা পরিসংখ্যান প্রকাশ করতে পারেন, তবে প্রচুর মানুষ আপনাকে সোর্স হিসেবে লিংক দেবে।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি ‘ইমেইল মার্কেটিং পরিসংখ্যান’ নিয়ে একটি বিস্তারিত পোস্ট লিখেন এবং নতুন কোনো তথ্য দেন, তবে ব্লগার এবং সাংবাদিকরা তাদের আর্টিকেলে আপনার তথ্য ব্যবহার করবে এবং আপনাকে লিংক দেবে। এটি ন্যাচারাল লিংক পাওয়ার সেরা উপায়।
এই পদ্ধতিটি পরীক্ষিত। নতুন ডেটা বা স্ট্যাটিসটিক্স প্রকাশ করার কিছুদিনের মধ্যেই সার্চ র্যাংকিংয়ে উন্নতি দেখা যায় এবং অর্গানিক বা প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকলিংক আসতে শুরু করে। এটি আপনার সাইটের অথরিটি বাড়াতেও সাহায্য করে।
ব্রোকেন কনটেন্ট লিংক বিল্ডিং
এটি প্রথাগত ব্রোকেন লিংক বিল্ডিংয়ের একটি আধুনিক সংস্করণ। সাধারণত মানুষ কোনো নির্দিষ্ট পেজের নষ্ট লিংক খোঁজে। কিন্তু ‘ব্রোকেন কনটেন্ট লিংকিং’ পদ্ধতিতে আপনি এমন জনপ্রিয় কনটেন্ট খুঁজবেন যা এখন আর অনলাইনে নেই।
সেমরাস (Semrush) এর মতো টুল ব্যবহার করে আপনি প্রতিযোগীদের বা আপনার নিশের বড় সাইটগুলোর ডেড পেজ খুঁজে বের করতে পারেন। এরপর সেই পেজগুলোতে যারা লিংক দিয়েছিল, তাদের সাথে যোগাযোগ করে আপনার কনটেন্টটি অফার করতে পারেন।
এই পদ্ধতিতে আপনি অনেকগুলো নষ্ট বা ডেড পেজ খুঁজে পাবেন যেগুলোর প্রচুর ব্যাকলিংক ছিল। সেই সব লিংকিং সাইটকে জানিয়ে দিন যে তারা একটি নষ্ট লিংকে পয়েন্ট করে আছে এবং আপনার কাছে তার চেয়ে ভালো কনটেন্ট আছে।
তথ্যের সংযোজন
শুধুমাত্র কনটেন্ট তৈরি করলেই লিংক পাওয়া যায় না। আপনাকে ‘ইনফরমেশন গেইন’ বা তথ্যের নতুন মাত্রা যোগ করতে হবে। এর মানে হলো এমন কিছু তথ্য দেওয়া যা ইন্টারনেটে অন্য কোথাও নেই।
এটি হতে পারে আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, কোনো অরিজিনাল মেথডলজি বা পদ্ধতি, অথবা কোনো প্রোডাক্টের ফার্স্ট-হ্যান্ড টেস্টিং রিভিউ। মানুষ নতুন এবং ইউনিক তথ্য পেলে সেটিকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পছন্দ করে।
কৌশলগত গেস্ট পোস্টিং
গেস্ট ব্লগিং অফ পেজ এসইও-র জন্য এখনো দারুণ কার্যকর। এর মাধ্যমে আপনি নতুন অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছাতে পারেন যা আপনার ব্র্যান্ডেড সার্চ বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি আনলিংকড ব্র্যান্ড মেনশন তৈরি করতেও ভূমিকা রাখে।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, গেস্ট পোস্ট থেকে আপনি হাই-কোয়ালিটি ব্যাকলিংক পেতে পারেন। তবে শর্ত হলো, আপনাকে অবশ্যই আপনার ইন্ডাস্ট্রির অথরিটি বা নামকরা সাইটগুলোতে গেস্ট পোস্ট করতে হবে। ছোটখাটো সাইটে পোস্ট করে খুব একটা লাভ হয় না।
৪. ব্র্যান্ড সিগন্যাল তৈরি করা
ব্র্যান্ড সিগন্যাল ও এর গুরুত্ব ব্র্যান্ড সিগন্যাল হলো সার্চ ইঞ্জিনের কাছে আপনার ব্র্যান্ডের পরিচিতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা। এটি এসইও র্যাঙ্কিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সোশ্যাল মিডিয়া উপস্থিতি এবং গুগলে সরাসরি ব্র্যান্ডের নাম সার্চ করা শক্তিশালী সিগন্যাল হিসেবে কাজ করে।
সোশ্যাল প্রোফাইল ও অ্যাক্টিভিটি সব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একই লোগো, নাম ও তথ্য ব্যবহার করে প্রোফাইল তৈরি করুন। নিয়মিত অ্যাক্টিভ থাকা এবং অডিয়েন্সের সাথে এনগেজমেন্ট বাড়ানো ব্র্যান্ড সিগন্যাল শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এটি গুগলের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।
ব্র্যান্ড মেনশন বা সাইটেশন বিভিন্ন মানসম্মত ওয়েবসাইটে আপনার ব্র্যান্ডের নাম উল্লেখ বা মেনশন থাকা জরুরি। লিংক ছাড়াই ব্র্যান্ডের নামের উল্লেখ বা সাইটেশন গুগলকে ইতিবাচক সংকেত দেয়। এটি আপনার ব্র্যান্ডের অথরিটি ও জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ব্র্যান্ড সিগন্যাল কেন জরুরি?
অফ পেজ এসইও-র একটি অবহেলিত কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী অংশ হলো ব্র্যান্ড সিগন্যাল। গুগল ব্র্যান্ড সিগন্যাল ব্যবহার করে যাচাই করে যে আপনার সাইটটি একটি আসল বা লেজিট ব্র্যান্ড কি না। এটি ট্রাস্ট ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে।
গুগলের প্রাক্তন সিইও এরিক Schmidt বলেছিলেন, "ব্র্যান্ড হলো সমাধান, সমস্যা নয়।" ইন্টারনেটের বিশাল তথ্যভান্ডারে সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য খুঁজে বের করতে গুগল ব্র্যান্ডেড ওয়েবসাইটগুলোকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে।
ব্র্যান্ডেড সার্চ অডিট করা
ব্র্যান্ডেড সার্চ হলো যখন মানুষ গুগলে সরাসরি আপনার ব্র্যান্ডের নাম লিখে সার্চ করে। যেমন কেউ যদি "ব্লগার বাংলাদেশ" বা "ব্লগার বাংলাদেশ SEO" লিখে সার্চ করে, তবে সেটি একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড সিগন্যাল।
আপনি গুগল সার্চ কনসোলের পারফরম্যান্স রিপোর্ট থেকে সহজেই দেখতে পারেন কত মানুষ আপনার ব্র্যান্ড নাম লিখে সার্চ করছে। ইম্প্রেশন কলামটি চেক করুন এবং লক্ষ্য রাখুন যেন প্রতি মাসে এই সংখ্যাটি বাড়তে থাকে।
ইউটিউব মার্কেটিং এর ভূমিকা
আপনার ব্র্যান্ড সিগন্যাল বাড়ানোর অন্যতম সেরা উপায় হলো ইউটিউব মার্কেটিং। ভিডিওর মাধ্যমে আপনি বিশাল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেন। যখন মানুষ আপনার ভিডিও দেখে, তারা অনেকেই পরে গুগলে আপনার ব্র্যান্ড নাম লিখে সার্চ করে।
যদিও ইউটিউব ভিডিওর লিংক থেকে সরাসরি এসইও বেনিফিট পাওয়া যায় না, কিন্তু এটি পরোক্ষভাবে ব্র্যান্ডেড সার্চ বাড়ায়। একটি জনপ্রিয় ভিডিও আপনার ব্র্যান্ডের পরিচিতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে যা গুগলের নজরে আপনাকে অথরিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
ব্র্যান্ড ট্র্যাকিং সেটআপ
আপনার ব্র্যান্ড নিয়ে অনলাইনে কে কোথায় আলোচনা করছে তা জানা জরুরি। নিউজ সাইট, ব্লগ বা ফোরামে আপনার ব্র্যান্ডের উল্লেখ বা মেনশনগুলো ট্র্যাক করতে পারেন। এর জন্য গুগল অ্যালার্ট বা সেমরাস ব্র্যান্ড মনিটরিং টুল ব্যবহার করা যেতে পারে।
ব্র্যান্ড ট্র্যাকিং টুলের মাধ্যমে আপনি দেখতে পাবেন কোন কোন কুয়েরিতে আপনার ব্র্যান্ড মেনশন হচ্ছে এবং তার রিচ কতটুকু। এটি আপনাকে আপনার অফ পেজ স্ট্র্যাটেজির কার্যকারিতা বুঝতে এবং নতুন সুযোগ খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
৫. E-E-A-T উন্নত করা
অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রমাণ E-E-A-T মানে হলো অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, কর্তৃত্ব এবং বিশ্বাসযোগ্যতা। গুগলে র্যাঙ্কিংয়ের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। কন্টেন্টে লেখকের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও গভীর জ্ঞানের প্রতিফলন থাকলে সার্চ ইঞ্জিন সেই কন্টেন্টকে সবসময় বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
অথরিটি বা কর্তৃত্ব বৃদ্ধি সাইটের অথরিটি বাড়াতে কন্টেন্টের সাথে লেখকের বিস্তারিত বায়ো বা পরিচিতি যোগ করা প্রয়োজন। এছাড়া স্বনামধন্য ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক পেলে গুগল আপনার সাইটকে নির্ভরযোগ্য মনে করে, যা ডোমেইনের শক্তি বাড়ায় এবং র্যাঙ্কিং উন্নত করে।
বিশ্বাসযোগ্যতা বা ট্রাস্ট তৈরি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে সাইটে 'About Us' ও যোগাযোগের তথ্য স্পষ্ট রাখুন। নিয়মিত পুরনো তথ্য আপডেট করা এবং সঠিক সোর্স উল্লেখ করা জরুরি। নিরাপদ সংযোগ বা HTTPS থাকলে ব্যবহারকারীরা আপনার সাইটে সবসময় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
অফ-পেজ এবং E-E-A-T
বর্তমানে E-E-A-T (Experience, Expertise, Authoritativeness, and Trustworthiness) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ র্যাংকিং ফ্যাক্টর। বিশেষ করে স্বাস্থ্য বা অর্থের মতো YMYL (Your Money Your Life) বিষয়গুলোর জন্য এটি অপরিহার্য।
অনেকে মনে করেন সাইটে লেখকের বায়ো যোগ করলেই E-E-A-T বাড়ে, কিন্তু বিষয়টি তা নয়। গুগল মূলত সাইটের বাইরের সিগন্যাল বা অফ-পেজ ফ্যাক্টরের ওপর ভিত্তি করে কোনো সাইটের E-E-A-T পরিমাপ করে। তাই অফ-পেজ অ্যাক্টিভিটি এখানে মুখ্য।
অথরিটি সাইটে মেনশন পাওয়া
গুগলের সার্চ টিমের মতে, লিংক এবং মেনশন উভয়ই E-E-A-T নির্ধারণে সাহায্য করে। ব্যাকলিংক পাওয়া সবচেয়ে ভালো, তবে বড় কোনো সাইটে যদি আপনার ব্র্যান্ডের নাম উল্লেখ থাকে (লিংক ছাড়াও), তবুও সেটি উপকারী।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো বিখ্যাত নিউজপেপার বা ম্যাগাজিনে আপনার সাক্ষাৎকার বা কোম্পানির নাম ছাপা হয়, তবে গুগল এটিকে একটি পজিটিভ সিগন্যাল হিসেবে দেখে। আনলিংকড মেনশন হলেও এটি আপনার সাইটের ট্রাস্ট বাড়াতে সাহায্য করে।
Seed Sites থেকে লিংক
গুগল কিছু নির্দিষ্ট সাইটকে অত্যন্ত বিশ্বস্ত বা 'সীড সাইট' হিসেবে গণ্য করে, যেমন নিউ ইয়র্ক টাইমস বা বড় সরকারি ওয়েবসাইট। এই ধরনের সাইট থেকে লিংক পাওয়া আপনার সাইটের E-E-A-T নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।
সরাসরি এই সাইটগুলো থেকে লিংক না পেলেও, যারা এই সাইটগুলো থেকে লিংক পেয়েছে, তাদের কাছ থেকে লিংক পেলেও আপনার অথরিটি বাড়বে। এটি লিংকের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ট্রাস্ট পাস করার একটি প্রক্রিয়া।
পজিটিভ অনলাইন রিভিউ
গুগলের কোয়ালিটি রেটার গাইডলাইনে অনলাইন রিভিউয়ের ওপর প্রচুর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদি আপনার ব্যবসার রিভিউ খারাপ হয়, তবে গুগল আপনাকে র্যাংক করাতে চাইবে না। এটি লোকাল এসইও এবং গ্লোবাল ব্র্যান্ডিং উভয়ের জন্যই সত্য।
আপনার যদি এমন কোনো ব্যবসা না থাকে যেখানে কাস্টমার রিভিউ দেয় (যেমন ব্লগ সাইট), তবে আপনি প্রাপ্ত কোনো অ্যাওয়ার্ড বা পুরস্কারগুলো তুলে ধরতে পারেন। অন্য বিশেষজ্ঞরা আপনার সাইট সম্পর্কে কী বলছে, সেটিও গুগল নজরে রাখে।
৬. বোনাস অফ পেজ এসইও টেকনিক
ফোরাম ও কমিউনিটি এনগেজমেন্ট ফোরাম পোস্টিং ও প্রশ্নোত্তর সাইটে অংশগ্রহণ একটি কার্যকরী বোনাস কৌশল। Quora বা Reddit-এর মতো প্ল্যাটফর্মে প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে লিংক শেয়ার করলে টার্গেটেড ট্রাফিক পাওয়া যায়। এটি সাইটের পরিচিতি বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখে।
ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং ও পডকাস্ট ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং অফ-পেজ এসইও-এর আরেকটি শক্তিশালী মাধ্যম। আপনার নিশের জনপ্রিয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে কন্টেন্ট শেয়ার করালে দ্রুত ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি হয়। এছাড়া পডকাস্ট বা ইন্টারভিউতে অংশ নিয়েও নতুন ও বিশাল অডিয়েন্সের কাছে সহজেই পৌঁছানো সম্ভব।
প্রেস রিলিজ বিতরণ
প্রেস রিলিজ পাঠানো সরাসরি ব্র্যান্ড মেনশন এবং ব্যাকলিংক পাওয়ার একটি ভালো উপায়। যদি আপনার কাছে শেয়ার করার মতো নতুন কোনো খবর বা গবেষণা থাকে, তবে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দিন।
একটি সফল প্রেস রিলিজ অনেক সাংবাদিক এবং ব্লগারের নজরে পড়ে। তারা যখন আপনার নিউজটি তাদের সাইটে কভার করে, তখন আপনি ন্যাচারাল ব্যাকলিংক এবং প্রচুর ব্র্যান্ড মেনশন পেতে পারেন যা অফ পেজ এসইও-তে দারুণ কাজ করে।
রাউন্ডআপ পোস্টে অংশগ্রহণ
এক্সপার্ট রাউন্ডআপ হলো এমন পোস্ট যেখানে একাধিক বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া হয়। এই ধরনের পোস্টে অংশগ্রহণ করা ব্যাকলিংক পাওয়ার অন্যতম সহজ উপায়। প্রথাগত গেস্ট পোস্টিংয়ের তুলনায় এখানে পরিশ্রম অনেক কম।
আপনি যদি আপনার নিশের কোনো রাউন্ডআপ পোস্টে একটি ভালো কোট বা মতামত দিতে পারেন, তবে আপনি সেখান থেকে একটি ডু-ফলো লিংক পেতে পারেন। পাশাপাশি আপনার ব্র্যান্ডের পরিচিতিও বাড়বে।
ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকার দেওয়া
বিভিন্ন পডকাস্ট বা ব্লগে সাক্ষাৎকার দেওয়া একটি শক্তিশালী কৌশল। যখন আপনি কোনো পডকাস্টে অতিথি হিসেবে যান, তখন তারা শো-নোটসে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক দিয়ে থাকে। এটি অথরিটি বাড়াতে সাহায্য করে।
তাছাড়া, ইন্টারভিউ আপনাকে নতুন অডিয়েন্সের সামনে নিয়ে আসে। যারা আপনার কথা শুনবে, তারা অনেকেই পরে আপনার নাম লিখে গুগলে সার্চ করবে। এতে আপনার ব্র্যান্ডেড সার্চ ভলিউম এবং গুগলের কাছে আপনার রেপুটেশন বৃদ্ধি পাবে।
বড় ব্র্যান্ডের সাথে পার্টনারশিপ
অনেক সময় মনে হতে পারে বড় ব্র্যান্ডগুলো ছোটদের পাত্তা দিবে না, কিন্তু যদি আপনি তাদের ভ্যালু দিতে পারেন তবে তারা রাজি হবে। যেমন, আপনি তাদের ব্লগের জন্য একটি ইনফোগ্রাফিক তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারেন।
উদাহরণস্বরূপ, ব্যাকলিংকো-র ব্রায়ান ডিন হাবস্পটকে (HubSpot) একটি ইনফোগ্রাফিক অফার করেছিলেন। হাবস্পট সেটি তাদের ব্লগে প্রকাশ করে এবং সোর্স হিসেবে লিংক দেয়। বড় ব্র্যান্ডের সাথে লোগো শেয়ার করা আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরি
ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট বা ছবি, চার্ট এবং ডায়াগ্রাম তৈরি করা অফ পেজ এসইও-র জন্য অত্যন্ত কার্যকর। যখন আপনি জটিল কোনো বিষয় ছবির মাধ্যমে সহজ করে বোঝান, তখন অন্য ব্লগাররা তাদের পোস্টে সেই ছবি ব্যবহার করতে চায়।
সাধারণত যারা আপনার ইমেজ ব্যবহার করবে, তারা আপনাকে সোর্স হিসেবে লিংক দেবে। যদি লিংক নাও দেয়, তবুও আপনি ইমেজ ক্রেডিটের মাধ্যমে ব্র্যান্ড মেনশন পাবেন যা আপনার অফ পেজ এসইও-কে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে।
৭. রিয়েল লাইফ কেস স্টাডি
জশ হাওয়ারথ তার নতুন সাইট 'Exploding Topics'-এর জন্য লিংক খুঁজছিলেন। তিনি লক্ষ্য করলেন 'Google Correlate' নামের একটি টুল বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি তখন ব্রোকেন লিংক বিল্ডিং কৌশল ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
তিনি সেই সব সাইটকে টার্গেট করে ইমেইল পাঠালেন যারা Google Correlate-কে লিংক দিয়েছিল। তিনি জানালেন যে টুলটি বন্ধ হয়ে গেছে এবং তার সাইটটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। এই কৌশলে তিনি বেশ কিছু হাই-কোয়ালিটি লিংক পেয়েছিলেন।
ড্যানিয়েল ডেইনস-হাট তার এজেন্সির জন্য লিংক তৈরি করতে চেয়েছিলেন। গেস্ট পোস্টিংয়ের বদলে তিনি পডকাস্টকে বেছে নিলেন। তিনি ৯০ দিনে ৬০টি পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন, যা অবিশ্বাস্য।
এর ফলে তার ডোমেইন অথরিটি শূন্য থেকে বেড়ে DA48-এ পৌঁছেছিল। তিনি অত্যন্ত টার্গেটেড এবং পার্সোনালাইজড ইমেইল পিচ পাঠিয়েছিলেন, যার কারণে পডকাস্ট হোস্টরা তাকে আমন্ত্রণ জানাতে আগ্রহী হয়েছিল। এটি দ্রুত অথরিটি বিল্ড করার সেরা উপায়।
অ্যাশ টার্নার তার মোবাইল ট্রেড-ইন সাইটের জন্য কোনো মার্কেটিং বাজেট ছাড়াই মিডিয়া কভারেজ পেয়েছিলেন। তিনি প্রথমে এমন কিছু সার্ভে বা জরিপ খুঁজে বের করেন যা সাংবাদিকরা পছন্দ করেন এবং কভার করেন।
এরপর তিনি 'স্কাইস্ক্র্যাপার টেকনিক' ব্যবহার করে আগের চেয়ে বড় এবং ভালো একটি সার্ভে রিপোর্ট তৈরি করেন। সেই রিপোর্টের প্রেস রিলিজ সাংবাদিকদের কাছে পাঠানোর পর তিনি ফোর্বস, গার্ডিয়ান এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো সাইট থেকে লিংক পেয়েছিলেন।
শেষ কথা
এই গাইডে আলোচিত অফ পেজ এসইও কৌশলগুলো ২০২৬ সালে আপনার সাইটের র্যাংকিং বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। শুধুমাত্র ব্যাকলিংকের ওপর নির্ভর না করে ব্র্যান্ড সিগন্যাল এবং E-E-A-T বাড়ানোর দিকেও সমান মনোযোগ দিন। এটিই দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের চাবিকাঠি।
শুরু করার জন্য একটি চেকলিস্ট তৈরি করুন। প্রথমে ভালো মানের ডেটা-ড্রিভেন কনটেন্ট তৈরি করুন যা লিংক পাওয়ার যোগ্য। এরপর ব্র্যান্ড ট্র্যাকিং এবং ইউটিউব মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে নিজের পরিচিতি বাড়ান। পাশাপাশি অথরিটি মেনশন এবং পজিটিভ রিভিউ অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যান।
মনে রাখবেন, অফ পেজ এসইও একা কাজ করে না। এর সেরা ফলাফল পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই শক্তিশালী অন-পেজ অপ্টিমাইজেশনের সাথে এটি সমন্বয় করতে হবে। ধৈর্য ধরে কাজ করলে আপনি নিশ্চিতভাবেই সার্চ রেজাল্টে উন্নতির দেখা পাবেন।
বাংলাতে এসিও বিষয়ে লেখার জন্য ধন্যবাদ। আমার সাইটটি এসিও করা খুব দরকার ছিলো। সাইটটার চাকরির খবর নিয়ে করা। একবার ঘুরে এসে জানাবেন কেমন হলো সাইটটা,,, এখানে সকল সরকারি বে-সরকারি চাকরির খবর প্রকাশ করি,,, https://www.bdjob247.com/2020/07/government-job-circular-today-job.html
Well done, carry on...
ভাই, বাংলায় এসইও নিয়ে আপনার লেখাগুলোকে ভরসা করি । অন্যদের লেখায় বিশ্বাস আসে না । আমাদের জন্য হলেও এসইও নিয়ে নিয়মিত লিখার চেষ্টা করিয়েন । ভালোবাসা রইলো আপনার প্রতি ।
আমাদের লেখার প্রতি আপনার ভরসা আছে জেনে খুশি হলাম।
এসইও বিষয়ে আমার নিজেরও যথেষ্ট আগ্রহ আছে। কিন্তু ভিজিটর কম পাওয়ার কারনে লিখতে আগ্রহ পাই না। আপনাদের সাপোর্ট থাকলে ভবিষ্যতে এসইও নিয়ে লেখার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।
ধন্যবাদ...
আপনার ব্লগটি বুকমার্ক করে রাখলাম।
ধন্যবাদ সুন্দর করে উপস্থাপন করার জন্য।
ধন্যবাদ... সাথে থাকার জন্য
ধন্যবাদ
ধন্যবাদ
ভাই, আপনার সাইটে ভিজিটর কেমন আসে প্রতিদিন?
ইনশাল্লাহ্
সুন্দরভাবে এসইও উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আশা রাখি নিয়মিত এসইও সম্পকে লিখে যাবেন।
ধন্যবাদ... চেষ্টা করা হবে।
ভাই অফ পেজ এস ই ও সম্পর্কে একটি ভালো ধারনা পেলাম। আশা করি আপনি কম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের অফ পেজ এস ই ও সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন ।
ধন্যবাদ... সাথে থাকুন। শেয়ার করার চেষ্টা করা হবে।
ভাই table of content তৈরি করে কীভাবে
ভালো থিম ব্যবহার করেন। সেগুলাতে সেট করা থাকে...