ডোমেইন কি এবং কিভাবে কিনবেন?
অনেক লোক প্রায় সময় আমাকে প্রশ্ন করেন ডোমেইন কি এং কিভাবে ডোমেন কাজ করে? বিশেষকরে যারা অনলাইন জগতে একদম নতুন তারা ডোমেইন নেম সম্পর্কে জানতে চান। কারণ নতুনরা কারো কাছ থেকে শুনে যে, একটি ওয়েবসাইট খোলার জন্য ডোমেইন নেম প্রয়োজন হয়।
তাছাড়া অধিকাংশ লোক কনফিউজড থাকে যে, আসলে ডোমেইন, ওয়েবসাইট ও হোস্টিংয়ের মধ্যে পার্থক্য কি এবং এগুলোর ফ্যাংশন কি বা কিভাবে কাজ করে? আপনার যদি এ ধরনের কোন কনফিউশন থাকে তাহলে আজকের পোস্ট পড়ার পর ডোমেইন নিয়ে আপনার সকল কনফিউশন দূর হয়ে যাবে।
আমি জানি যে, আপনাদের মধ্যে কিছু লোক আছেন যারা ডোমেইন নেম সম্পর্কে কিছুটা জানেন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ধারনা না থাকার কারনে ডোমেইন সম্পর্কে আপনার কনসেপ্ট কিছুটা দূয়াশা রয়ে গেছে। আপনি যদি সেই টাইপের মধ্যে পড়েন তাহলে এই আর্টিকেল থেকে ডোমেইন সম্পর্কে সকল এডভান্স বিষয় জেনে নিতে পারবেন।
সেই সাথে কোথায় থেকে ডোমেইন কিনতে হবে, কিভাবে ডোমেইন কিনতে হয়, কোন ধরনের ডোমেই নাম ভালো এবং কিভাবে ব্লগিংয়ের জন্য উপযুক্ত ডোমেইন নেম বাছাই করবেন ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বিধায় এই পোস্টটি আপনার অনেক উপকারে আসবে। সো লেটস স্টার্ট—
ডোমেইন নেম কি?
ডোমেইন নেম হচ্ছে একটি ওয়েবসাইটের এড্রেস, যে এড্রেস ব্যবহার করে আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা ব্লগ দেখতে পাই। প্রত্যেকটি ব্লগ কিংবা ওয়েবসাইটের একটি ইউনিক ডোমেইন নেম থাকে। একটি ডোমেইন নেম অন্য আরেকটি ডোমেইন নেমের সাথে কখনো মিলবে না। আমাদের মোবাইল নাম্বারগুলো যেভাবে একটি আরেকটি থেকে ভিন্ন ভিন্ন হয় ঠিক তেমনি প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটের ডোমেইন নেম আলাদা আলাদা হয়।
একটি ডোমেইন নেম হচ্ছে একটি ওয়েবসাইটের প্রধান Identity. আমাদের “ব্লগার বাংলাদেশ” ব্লগের এড্রেস যেভাবে bloggerbangladesh.com ঠিক প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটের একটি অভিন্ন ডোমেইন নেম থাকে। সাধারণত একটি ব্লগের নামের সাথে মিল রেখেই একটি ডোমেন নেম গঠন করা হয়।
প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটের একটি নিজেস্ব ইউনিক IP Address থাকে। এই IP Address এর মাধ্যমে প্রত্যেকটি ওয়েবসাইট অ্যাক্সেস হয়ে থাকে। সাধারণত একটি আইপি এড্রেস এই রকম হয়ে থাকে: 121.102.15.255, যেটা সংখ্যা দ্বারা গঠিত হয় এবং যা সহজে স্মরণ রাখা সম্ভব হয় না।
আপনি সাধারণ সেন্সে চিন্তা করে দেখুন, আমার ব্লগের এড্রেস যদি এই রকম সংখ্যার হতো তাহলে কি আপনি সহজে স্মরণ রাখতে পারতেন? ইন্টারনেটে এই রকম মিলিয় মিলিয়ন ব্লগ রয়েছে যাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা IP Address রয়েছে। আপনি কি চিন্তা করে দেখেছেন, এ ভাবে আপনি কয়টি ব্লগের এড্রেস মনের রাখতে পারবেন?
এই সমস্যা সামাধান করার জন্য অর্থাৎ যাতে সহজে মনে রাখা যায় সেই সুবিধার জন্য মূলত ডোমেইন নেম দ্বারা ব্লগের এড্রেস গঠন করা হয়। যখন আপনার আমার ব্লগের এড্রেস IP Address এর পরিবর্তে ব্লগের নামের সাথে মিল রেখে গঠন করা হবে তখন সহজে যে কেউ সেটা দীর্ঘদিন স্মরণ রাখতে পারবে।
কিভাবে ডোমেইন কাজ করে?
আপনি যখন কোন একটি ওয়েবসাইটের ডোমেইন নেম কম্পিউটারের ব্রাউজারে অথবা মোবাইল ব্রাউজারের এড্রেসবারে লিখে Enter প্রেস করবেন তখন সেই ব্রাউজার ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রথমে আপনাকে ঐ ওয়েবসাইটের DNS (Domain Name System) এ নিয়ে যাবে।
তারপর ঐ ডোমেইন এর DNS থেকে আপনার ব্যবহৃত ব্রাউজার ওয়েবসাইটটির IP Address সংগ্রহ করতঃ সেই IP Address এ ক্লিক করে ওয়েবসাইটটির ডেটা যে জায়গাতে (সার্ভারে) রাখা আছে সেখানে যাবে। ব্রাউজার আপনাকে আইপি এড্রেসের মাধ্যমে ওয়েবসাইটের যাবতীয় তথ্য আপনার সামনে শো করবে। এই প্রক্রিয়াটি এতটাই দ্রুত ঘটে যা একজন ইউজার কোনভাবে টের পায় না।
মূলত একটি ওয়েবসাইটের ফাইল যেখানে হোস্ট করা থাকে সেই হোস্টিংয়ের একটি পৃথক IP Address থাকে। আর হোস্টিং হচ্ছে এক ধরনের কম্পিউটার সার্ভার যেটা ২৪ ঘন্টা অন থাকে। প্রত্যেকটি ওয়েবসাইট এর ডেটা হোস্টিং সার্ভারের আলাদা আলাদা জায়গাতে আপলোড করা থাকে। আর সেই জায়গা (হোস্টিং) ক্রয় করার সময় প্রত্যেকটি ওয়েবসাইট মালিককে একটি করে IP Address দেওয়া হয়।
আমরা ইচ্ছা করলে সেই আইপি এড্রেস ব্যবহার করে সরাসরি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারব। কিন্তু IP Address সহজে মনে রাখা সম্ভব হয় না বিধায় আমারা একটি ডোমেইন নেম কিনে সেই ডোমেন নেম IP Address এর সাথে সংযুক্ত করে সেটাকে সহজবোধ্য করে তুলি।
ডোমেইন কত প্রকার?
প্রত্যেকটি ডোমেইন নেম এর শেষে একটি করে Suffix বা Extension থাকে। যেমন .com, .net, .bd, .in ইত্যাদি। আর এ ধরনের Suffix বা Extension দ্বারা ডোমেইন এর ধরণ নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত তিন ধরনের ডোমেইন ধরে নেওয়া হয়। যেমন—
- Generic Top Level Domain (gTLDs)
- Country Code Top Level Domain (ccTLD)
- New Top Level Domain (nTLDs)
1. Generic Top Level Domain (gTLDs)
Generic Top Level Domain খুবই কমন এবং বহুল ব্যবহৃত লেভেলের একটি ডোমেইন। অধিকাংশ ব্লগ এবং ওয়েবসাইটের জন্য এ ধরনের ডোমেইন নেম ব্যবহার করা হয়। বিশেষকরে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ক্ষেত্রে এ ধরনের ডোমেইন নেমকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। যেমন—
- কমার্শিয়াল কোম্পানির জন্য - .com
- নেটওয়ার্ক বা পার্সোন্যাল ব্লগের জন্য - .net
- তথ্য নির্ভর ব্লগের জন্য - .info
- প্রতিষ্ঠানের জন্য - .org
- সরকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য - .gov
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য - .edu
- সামরিক বাহিনীর জন্য - .mil
2. Country Code Top Level Domain (ccTLD)
এ ধরনের ডোমেইন সাধারণত নির্ধারিত দেশকে বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। প্রত্যেকটি দেশের আলাদা আলাদা ISO Code থাকে। সেই কোডগুলোকে ডোমেইন নেম এর সাথে সংযুক্ত করার মাধ্যমে Country Code Top Level Domain (ccTLD) গঠিত হয়। যেমন—
- আমেরিকার জন্য - .us
- বাংলাদেশের জন্য - .bd
- ইন্ডিয়ার জন্য - .in
- চিনের জন্য - .cn
- ব্রাজিলের জন্য - .br
3. New Top Level Domain (nTLDs)
একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইটের ধরণ সরাসরি বুঝানোর জন্য সম্প্রতি কিছু নতুন ডোমেন তৈরি করা হয়েছে। এই ধরনের ডোমেইন দেখে একজন ভিজিটর সহজে বুঝতে পারে ওয়েবসাইটটি কিসের উপর ভিত্তি করে আর্টিকেল প্রকাশ করে। এটাকে এক ধরনের ক্যাটাগরি ডোমেইন বলা যেতে পারে। যেমন—
- .academy
- .accountant
- .dance
- .career
- .yoga
- .bike
- .cafe
সাব-ডোমেইন কি?
ডোমেইন এর মত সাব-ডোমেইন ক্রয় করতে হয় না। আপনার যদি একটি Top Level Domain থাকে তাহলে আপনি সেই ডোমেইন বিভিন্ন পার্টে বিভিক্ত করে সাব-ডোমেইন তৈরি করতে পারবেন। আপনার ডোমেইন নেম যদি হয় google.com তাহলে আপনি এটি দিয়ে অসংখ্য সাব-ডোমেইন তৈরি করতে পারবেন। যেমন- blog.google.com এবং bangla.google.com ইত্যাদি ইত্যাদি।
সাব-ডোমেইনের সুবিধা হচ্ছে একটি ডোমেইনের আন্ডারে বিভিন্ন ব্লগ তৈরি করা সম্ভব হয়। আপনি চাইলে প্রত্যেকটি সাব-ডোমেইন দিয়ে আলাদা আলাদা ব্লগ তৈরি করতে পারবেন। তাছাড়া অসংখ্য কোম্পানি রয়েছে যারা ফ্রিতে সাব-ডোমেইন দিয়ে থাকে। কিন্তু টপ ডোমেইন কখনো ফ্রিতে পাওয়া যায় না।
Domain এবং URL এর পার্থক্য কি?
প্রত্যেকটি ডোমেইন নেম এর আন্ডারের অসংখ্য অসংখ্য URL থাকে। ডোমেইন দ্বারা ব্লগের মূল এড্রেস প্রকাশ করা হয়। পক্ষান্তরে ব্লগের প্রত্যেকটি পোস্ট সহ বিভিন্ন রিসোর্সের নাম অনুসারে মূল ডোমেইন এর শেষে কিছু শব্দ মিলিত হয়ে এক একটি URL গঠিত হয়। একটি ওয়েবসাইটের একটি ডোমেইন হয় কিন্তু একটি ওয়েবসাইটের অসংখ্য URL হয়। এক কথায় হচ্ছে মূল ডোমেইনকে কেন্দ্র করে URL গঠন হয়। তবে শাব্দিক অর্থে Domain এবং URL এর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।
উপরের চিত্রটি ভালোভাবে লক্ষ্য করলে আপনি একটি Domain এবং URL এর পার্থক্য সহজভাবে বুঝতে পারবেন। সুতরাং বলা যায় যে, ওয়েব পেজের একটি পূর্ণাঙ্গ এড্রেসকে URL বলা হয়। আর ডোমেইন হচ্ছে URL এর একটি পার্ট, যা দ্বারা কোন ওয়েবসাইটের মূল পাতাকে নির্দেশ করে।
ডোমেইন কোথায় থেকে কিনবেন?
আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট কিংবা ব্লগ তৈরি করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই একটি ডোমেইন নেম কিনতে হবে। বর্তমানে ইন্টারনেট মার্কেটে অসংখ্য ডোমেইন প্রোভাইডার রয়েছে যারা বিভিন্ন দামে ডোমেইন বিক্রি করছে। নিচে কয়েকটি ভালোমানের ডোমেইন প্রোভাইডারের নাম দেওয়া হলো—
- Godaddy
- Namecheap
- Hostgator
- ExonHost (বাংলাদেশি)
উপরের গুলো ছাড়াও ইন্টারনেটে অসংখ্য অসংখ্য ডোমেইন প্রোভাইডার রয়েছে। আপনি ইচ্ছামত যেকোন কোম্পানির নিকট থেকে ডোমেইন কিনতে পারবেন। তবে ডোমেইন কেনার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন আপনার ডোমেইন কোম্পানিটি ICANN সার্টিফাইড রেজিস্ট্রার কি না? কারণ ICANN হচ্ছে এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা একজন ডোমেইন প্রোভাইডারকে ডোমেইন সেল করার পারমিশন দেয়।
কিভাবে ডোমেইন কিনবেন?
একটি ডোমেইন কেনার জন্য অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে প্রয়োজন হয়। কারণ ডোমেইন কেনার সময় ডোমেইনের দাম অনলাইনের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে আপনার ভিসা কার্ড, মাস্টার কার্ড বা পেপাল একাউন্ট না থাকলে আপনি বাংলাদেশের বাহির থেকে ডোমেইন কিনতে পারবেন না।
তবে আপনি যদি বাংলাশি কোম্পানির নিকট থেকে ডোমেইন কিনেন তাহলে “বিকাশ ও নগদ” এর মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন। আপনি চাইলে Host Might থেকে ডোমেইন কিনতে পারেন। কারণ তাদের নিকট থেকে আমি ইতোপূর্বে ৭ টি ডোমেইন কিনেছি। তাদের সার্ভিস আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।
ডোমেইন কেনার সময় লক্ষণীয় বিষয়
- সহজে স্মারণ রাখার মত ছোট ডোমেইন নাম কেনা।
- ইংরেজি শব্দের ডোমেইন বাছাই করা।
- ডোমেইনের মধ্যে কোন ধরনের হাইপেন ব্যবহার করবেন না।
- সবসময় টপ লেভেলের ডোমেইন কেনার চেষ্টা করবেন।
- কাঙ্খিত বিষয়ের সাথে মিল রেখে ডোমেইন নিবেন।
- Expired ডোমেইন নিতে পারলে ভালো।
সবশেষে আমি আপনাকে এটাই বলব যে, ডোমেইন কেনার ক্ষেত্রে ব্লগের বিষয়ের সাথে মিল রেখে সহজে স্মরণ রাখা যায় এমন একটি ছোট শব্দের ডোমেইন কেনার চেষ্টা করবেন। বিশেষকরে ইংরেজি বানানের সঠিক Spelling যুক্ত ডোমেইন নিলে সবচাইতে ভালো হয়।
১. ভালো একটি নাম নির্বাচন
সঠিক ডোমেইন নাম নির্বাচন ডোমেইন কেনার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো একটি উপযুক্ত নাম ঠিক করা। আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগের জন্য এমন একটি নাম পছন্দ করুন যা ছোট, সহজ এবং মানুষ সহজেই মনে রাখতে পারে। নামের শেষের অংশ বা এক্সটেনশন হিসেবে ‘.com’ সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য। তবে আপনার ওয়েবসাইটের ধরন বা প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি ‘.net’, ‘.org’ বা ‘.xyz’ এর মতো অন্যান্য এক্সটেনশনও বেছে নিতে পারেন।
২. ডোমেইন রেজিস্ট্রার নির্বাচন
ডোমেইন রেজিস্ট্রার বা প্রোভাইডার নির্বাচন নাম ঠিক করার পর আপনাকে একটি বিশ্বাসযোগ্য ডোমেইন রেজিস্ট্রার খুঁজে বের করতে হবে, যারা ডোমেইন বিক্রি করে। আন্তর্জাতিকভাবে Namecheap, GoDaddy, বা Hostinger-এর মতো সাইটগুলো বেশ জনপ্রিয়। আপনার যদি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট করার মতো কার্ড (ডুয়াল কারেন্সি বা পেপাল) না থাকে, তবে দেশীয় হোস্টিং প্রোভাইডারদের কাছ থেকে ডোমেইন কিনতে পারেন। বাংলাদেশে অনেক কোম্পানি আছে যারা বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণ করে, যা পেমেন্ট প্রক্রিয়াটিকে অনেক সহজ করে দেয়।
৩. ডোমেইন এর প্রাপ্যতা যাচাই
ডোমেইনের প্রাপ্যতা যাচাই রেজিস্ট্রার নির্বাচনের পর তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে সার্চ বক্সে আপনার কাঙ্ক্ষিত নামটি লিখে খুঁজুন। সার্চ করার পর যদি দেখেন নামটি ‘Available’ বা খালি আছে, তবে আপনি সেটি কিনতে পারবেন। কিন্তু যদি দেখা যায় নামটি ইতিমধ্যে অন্য কেউ কিনে নিয়েছে, তবে আপনাকে নামের সাথে অন্য কোনো শব্দ যোগ করতে হবে অথবা বানানে সামান্য পরিবর্তন এনে পুনরায় চেষ্টা করতে হবে।
৪. রেজিস্ট্রেশন এবং পেমেন্ট
রেজিস্ট্রেশন ও পেমেন্ট সম্পন্ন করা পছন্দের নামটি খালি পাওয়ার পর সেটি কার্টে যোগ করুন। সাধারণত ডোমেইন এক বছরের জন্য কেনা হয়, তাই সময়কাল নির্বাচন করুন। এই ধাপে আপনি চাইলে ‘Whois Guard’ বা ‘Domain Privacy’ সেবাটি যুক্ত করতে পারেন, যা ইন্টারনেটে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখতে সাহায্য করবে। এরপর আপনার নাম, ঠিকানা ও ইমেইল দিয়ে একটি একাউন্ট তৈরি করে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
৫. ইমেইল ভেরিফিকেশন
ইমেইল ভেরিফিকেশন ও অ্যাক্টিভেশন পেমেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আপনার দেওয়া ইমেইল ঠিকানায় রেজিস্ট্রার থেকে একটি মেইল পাঠানো হবে। সেই মেইলে থাকা ভেরিফিকেশন লিংকে ক্লিক করলেই আপনার ডোমেইনটি পুরোপুরি সক্রিয় বা অ্যাক্টিভ হয়ে যাবে। তবে বাংলাদেশের নিজস্ব ‘.bd’ ডোমেইন কিনতে চাইলে প্রক্রিয়াটি ভিন্ন; এর জন্য বিটিসিএল (BTCL)-এর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন করতে হয়।
ডোমেইন হোস্টিং এর মধ্যে পার্থক্য কি?
ডোমেইন হোস্টিং নিয়ে আমাদের দেশের অধিকাংশ লোকের মধ্যে একটি Miss Conception আছে। অধিকাংশ লোক মনে করে একটি ডোমেইন নেম কিনলেই একটি ওয়েবসাইটের মালিক হওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে এ রকম কিছু না। একটি ডোমেইন কেনার পর ওয়েবসাইট বা ব্লগ খোলার জন্য আরো অনেক ধরনের প্রসেস থাকে।
ডোমেইন ও হোস্টিংকে একটি বাসা ও বাসার ঠিকানার মধ্যে তুলনা করা যায়। একটি ডোমেইন হচ্ছে শুধুমাত্র আপনার বাসার ঠিকানা এবং হোস্টিং হচ্ছে আপনার বাসা। সাধারণত বাসার মধ্যে অনেক জিনিসপত্র থাকে, যাকে টার্গেট করে একটি এড্রেস ব্যবহার করা হয়। ঠিক তেমনি ডোমেইন হচ্ছে একটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা এবং হোস্টিং হচ্ছে সেই ওয়েবসাইটের বাসস্থান।
সাধারণত একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য প্রথমে একটি ডোমেইন কিনতে হয়। তারপর ওয়েবসাইটের সকল ফাইল ইন্টারনেটে রাখার জন্য হোস্টিং ক্রয় করা হয়। এরপর ওয়েবসাইট পাবলিশ করার জন্য হোস্টিংয়ের সাথে ডোমেইনটি সংযুক্ত করা হয়। সবশেষে ওয়েবসাইটের সকল ফাইল হোস্টিং সার্ভারে রাখার মাধ্যমে ওয়েবসাইট পাবলিশ হয়।
তাহলে এ ভাবে বলা যায় যে, ডোমেইন ও হোস্টিং একত্রিত হয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরি হয়। যেখানে ডোমেইন ব্যবহার করে সেই ওয়েবসাইটটি সবাই ভিজিট করে। তাহলে এখন বুঝতে পারছেন যে, শুধুমাত্র একটি ডোমেইন কিনলেই একটি ওয়েবসাইটের মালিক হওয়া যায় না।
শেষ কথা
আমার মনেহয় এই আর্টিকেল পড়ে আপনি ডোমেইন কি ও ডোমেই কিভাবে কাজ এবং কিভাবে ডোমেইন কিনতে হয়, এই বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। কারণ এখানে আমি ডোমেইন বিষয়ে সবকিছু উদাহরনের মাধ্যমে পরিষ্কারভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি।
আশাকরি ডোমেইন সম্পর্কে আপনার আর কোন প্রশ্ন থাকবে না। তারপরও কোন ধরনের প্রশ্ন থাকলে আপনি তা কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমরা কমেন্ট করে ডোমেইন বিষয়ে আপনার কনসেপ্ট আরো ক্লিয়ার করার চেষ্টা করব। সাথে থাকার জন্য আপনাদে ধন্যবাদ।
ডোমেইন বিষয় নিয়ে এবার অনেকটাই ক্লিয়ার হতে পারলাম, শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। আমার ডোমেইন ক্রয় করা আছে এবং সেটি ব্লগস্পটে সংযুক্ত আছে। বিশেষত এডসেন্স নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে। বিষয়টা হচ্ছে- ব্লগস্পটে ডোমেইন যুক্ত করে কাজ করলে ভিজিটর বেশী বৃদ্ধি পাবে নাকি হোস্টিং কিনে ওয়ার্ডপ্রেস অপারেট করলে হবে? মূল কথাটা হলো এসইও কোনটিতে করলে সহজ হবে?
ওয়ার্ডপ্রেস এবং ব্লগার দুটোই হচ্ছে কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট (CMS) প্লাটফর্ম। ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগিং করলে বেশি ট্রাফিক পাওয়া যাবে কিংবা ব্লগার করলে বেশি পাওয়া যাবে, এ ধরনের কোন বিষয় নাই। আপনি যদি ভালোমানের কনটেন্ট প্রোভাইড করতে পারেন তাহলে যে কোন প্লাটফর্ম থেকে ট্রাফিক পাবেন।
তবে গুগল ব্লগারের চাইতে ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগিং করা এবং ব্লগ মেনটেইন করা অনেক সহজ। যাদের কোডিং নলেজ নেই তারা অবশ্যই ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগিং করতে পারেন। কারণ ওয়ার্ডপ্রেসের বিভিন্ন ধরনের প্লাগিং পাওয়া যায়, যার মাধ্যমে কোন ধরনের কোডিং নলেজ ছাড়া সহজে ব্লগের সকল কাজ করা যায়। সেই হিসেবে আপনার কোডিং জ্ঞান না থাকলে সরাসরি ওয়ার্ডপ্রেসে ব্লগিং করতে পারেন।
তবে যেখানেই করেন না কেন কাজ না করলে সেই প্লাটফর্ম আপনাকে ট্রাফিক এনে দিতে পারবে না।
ধন্যবাদ...
ধন্যবাদ। ব্যক্তিগতভাবে মনে করছি যে, ব্লগারে সাইট চালানোর পর, যখন ভিজিটর সহ অন্যান্য বিষয় সন্তোষজনক হবে তখন ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে মুভ করবো। এখন যদি ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে যাই তবে হোস্টিং খরচ করতে হবে প্রতি বছরে।
ধন্যবাদ... আপনার ইচ্ছা।
আমার ব্লগে নিচের Robot.txt ব্যাবহার করতেছি! এটি ঠিক আছে কিনা জানালে উপকৃত হবো!
User-agent: *
User-agent: Mediapartners-Google
Disallow:
Disallow: /search
Disallow: /category/
Disallow: /label/
Disallow: /tag/
Allow: /
Sitemap:https://peonmama.com/atom.xml?redirect=false&start-index=1&max-results=500
User-agent: Mediapartners-Google
Disallow:
User-agent: *
Disallow: /search
Allow: /
Sitemap: https://www.bloggerbangladesh.com/sitemap.xml
এটা ব্যবহার করলেই যথেষ্ট। তবে গুগল এডসেন্স এড ব্যবহার না করলে প্রথম দুই লাইন ব্যবহার করা প্রয়োজন হবে না।
তাছাড়া আপনি যে অতিরিক্ত অপশন সেটআপ করেছেন, সেগুলো ব্লগার ড্যাশবোর্ডের সেটিংস অপশনে রয়েছে।
গুগল ব্লগস্পটে ব্লগিংয়ের জন্য ডোমেইন কিনলে কি আলাদা হোস্টিং কিনতে হবে?
হোস্টিং কেনার প্রয়োজন হয় না
Vai